মেইন ম্যেনু

ভোলা-লক্ষীপুর ফেরি বাস্তবায়ন কমিটি ফের আন্দোলনে ডাক

ভোলা মেঘনা নদীর হার্ড পয়েন্ট খ্যাত ইলিশা গত বর্ষা মৌসুমে মেঘনার তীব্র ভাঙ্গনের সময় ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা কথা দিয়েছিলেন, নদী ভাঙন থেকে ভোলাকে রক্ষা করা হবে। কিন্তু কথা দিয়ে কথা রাখছেননা ভোলা পাউবো কর্তৃপক্ষ । বলেছিলেন আগমী শুস্ক মৌসুমে ভোলার মেঘনার পারে নদী ভাঙন রোধে কাজ করা হবে। কিন্তু শুস্ক মৌসুম শুরু হলেও ভোলায় নদী ভাঙ্গন রোধে এখনো কাজ শুরু করছেনা ।

এতে ফের আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ইলিশার মেঘনা ভাঙ্গন কবলিত এলাকাবাসী। ফলে নদী ভাঙন থেকে ভোলাকে রক্ষা এবং শুস্ক মৌসুমে নদী ভাঙন রোধে কাজ শুরুর দাবিতে ফের আন্দোলনে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওই এলাকাবাসী। অপরদিকে ভোলা বাঁচাও সংগ্রাম কমিটি ও ভোলা-লক্ষীপুর ফেরি বাস্তবায়ন কমিটি যৌথভাবে এ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।

ভোলা বাঁচাও সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ আরো জানান, আন্দোলনের অংশ হিসেবে শনিবার সকালে ইলিশা ও রাজাপুর ইউনিয়সহ ভোলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় পোষ্টারিং করা হয়েছে। পোষ্টারে পোষ্টারে ছেয়ে গেছে শহরের বিভিন্ন সড়কে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দেয়াল এবং বিভিন্ন সরকারি ও বে-সরকারি অফিসের দেয়ালে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠিনে। অবিলম্বে ভোলার নদী ভাঙন রোধে কাজ করা না হলে গণ অনশন ও হরতালসহ কঠিন আন্দোলন করা হবে বলে জানানো হয়।

এ বিষয়ে ভোলা বাঁচাও সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক মোঃ সায়েদ আলী ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, গত বর্ষা মৌসুমে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙনে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ও রাজাপুর ইউনিয়নের হাজার হাজার বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা, মক্তব, সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনাসহ শত শত একর ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছেন শত শত পরিবার। আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভোলা ইলিশা শত বছরের জংশন বাজারের ১হাজার ব্যবসায়ীরা। গত বর্ষা মৌসুমে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙনের সময়ে অবিলম্বে নদী ভাঙন রোধের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সভা, পাউবো কার্যালয় ঘেড়াও, সড়ক অবরোধ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল ভোলা বাঁচাও সংগ্রাম কমিটি ।

আন্দোলনের মুখে পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি ভোলার ইলিশা এলাকার মেঘনা নদীর পারে সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ওই এলাকায় এক কর্মী সমাবেশে বলেছিলেন, যে কোন মূল্যে নদী ভাঙনের হাত থেকে ভোলাকে রক্ষা করা হবে এবং শুস্ক মৌসুমে ভোলার নদী ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে কাজ শুরু করার জন্য ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশও দেওয়া হয়। কিন্তু ভোলার পানি উন্নয়ন বোর্ড অজ্ঞাত কারনে নদী ভাঙন রোধে এখনো কোন কাজ শুরু করেনি।

তাই অবিলম্বে ভোলার মেঘনার পারে স্থায়ীভাবে কাজ শুরু করে নদী ভাঙনের হাত থেকে ভোলাকে রক্ষার দাবিতে তারা ফের আন্দোলন ডাক দিয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে পাউবো ভোলার মেঘনার পারে স্থায়ীভাবে কাজ শুরু না করলে ভোলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে গণ অনশন ও হরতালসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক মোঃ সায়েদ আলী ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আনোয়ার হোসেন।

অন্যদিকে ভোলা নদী ভাঙন রোধে পাউবো কর্মকর্তাদের গাফিলতিকে দায়ী করে ভোলা-লক্ষীপুর ফেরি বাস্তবায়ন কমিটির সহ-সভাপতি আবু তাহের বলেন, অবিলম্বে ভোলার নদী ভাঙন রোধে কাজ শুরু না করলে আমরা উত্তর ভোলা বাঁচাও সংগ্রাম কমিটির সঙ্গে যৌথভাবে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করবো।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহি প্রকৌশলী আব্দুল হেকিম বলেন, ভোলার নদী ভাঙন রোধে ৩শ’ ১০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ডিপিটি দাখিল করা হয়েছে। এটা অনুমোদন হলে দরপত্র আহ্বান করে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।