মেইন ম্যেনু

ভৌতিক ছবিতে বার বার শিশুদের ব্যবহার করা হয় কেন? জানলে চমকে উঠবেন…

১৯৭৩ সালে তোলা ‘দি একজরসিস্ট’, ১৯৭৬-এর ‘দি ওমেন’ অথবা এই হাল আমলের ‘কনজিউরিং’, হলিউড হরর ছবির একটা কমন এলিমেন্টই হল শিশুদের অনিবার্য উপস্থিতি। ভারতীয় হরর ছবিতে যেমন ভৌতিক পজেশনের জন্য বার বার ব্যবহৃত হন উদ্ভিন্নযৌবনা যুবতীকুল, তেমনই সাহেবের ক্যামেরায় ভূতের হাতে আত্মবলিদানের জন্য সার বেঁধে যেন দাঁড়িয়ে থাকে নিষ্পাপ মুখশ্রীর শিশুর দল। হিন্দি হরর ছবিতে যুবতীদের উপস্থিতির ছায়ামাখা কারণ বোঝা যায়। কিন্তু হলিউডে কেন বার বার শিশু আর কিশোর বয়সিরা এহেন গোলমালে পড়ে, তা চট করে বোঝা যায় না। কার্যত, হরর ছবিতে এই শিশু-আধিক্য একদিকে যেমন ফিল্ম-ভাবুকদের ভাবিয়েছে, তেমনই বিষয়টি অনেক মনোবিদেরও মাথাব্যথার কারণ। এর বাইরে মত রাখছেন প্যারানর্মালবাদীরা। সব মিলিয়ে সে এক ঘোরঘট্ট ব্যাপার।
কেন শিশুরা বার বার হরর মুভির কেন্দ্রীয় চরিত্র, একটু ঘেঁটে দেখা যাক সেই বৃত্তান্ত।

• শিশুদের আপাত-নিরীহ চেহারায় ভয় যতটা বিশদভাবে ফুটে ওঠে, প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেতাদের ক্ষেত্রে তা মোটেই ততটা সাবলীল নয়। সেক্ষেত্রে বার বার ধরা পড়ে ‘অভিনয়’। ভয়কে ‘ন্যাচারাল’ করার জন্য শিশুদের কোনও বিকল্প হয় না, একথা মানেন বেশিরভাগ হরর-পরিচালকই।

• সামাজিক নিয়মবন্ধনের কিছুটা বাইরেই অবস্থান করে শিশুরা। সে ক্ষেত্রে ভৌতিকতার মতো ‘অ-সামাজিক’ কাণ্ডের শরিক হিসেবে তাদের দেখানোটা অনেক বেশি সহজ।

• ‘অল অ্যাবাউট ইভিল’-এর মতো ছবির পরিচালক ড্যারেন স্টাইন জানাচ্ছেন, ‘ইনোসেন্স পারভার্টেড’-এর একটা আবেদন রয়েছে। শিশুরা যেহেতু শরীরে-মনে পূর্ণতাপ্রাপ্ত নয়, সেহেতু তাদেরকে খানিকটা দূরবর্তী ভাবাটা সহজ। আর সেই বিন্দু থেকে হরর তৈরিটাও সহজ হয়।

• মনোবিদরা জানাচ্ছেন, পশ্চিমের বেশিরভাগ বাবা-মায়ের অবচেতনে উঁকি দেয়, সন্তান তাঁদের ভালবাসে না। ক্রমশ তারা নাকি তাদের কাছে ‘দুর্বোধ্য’ হতে থাকে। এই পয়েন্টটাকেই কাজে লাগান হরর-নির্মাতারা। তাঁরা এক রকম সাইকো-গেম খেলেন প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকের সঙ্গে।

• মার্কিন হহর সাহিত্য বিশেষজ্ঞ ডন কিটলি মনে করেন, হরর জ্যঁরটিই দাঁড়িয়ে রয়েছে ‘শক ভ্যালু’-র উপরে। এমন ক্ষেত্রে শিশুরাই এই ‘শক’ তৈরির প্রকৃষ্ট উপকরণ। বিপন্ন শিশুর দৃশ্যায়ন দর্শকমনেও বিপুল প্রতিক্রয়া সৃষ্টি করে। কিটলি মনে করেন, শিশুরা ‘সভ্যতা’-র সীমারও উপান্তবাসী। ফলে তারা সহজেই ‘আননোন’ হয়ে উঠতে পারে। আর সিগমুন্ড ফ্রয়েড তাঁর যুগান্তকারী গ্রন্থ ‘দ্য আনক্যানি’-তে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, অজানা-ই ভয়ের প্রাথমিক উৎস।

• তা ছাড়া, শিশুদের পবিত্রতা নিয়ে প্রচলিত সামাজিক মিথগুলিও কাজ করে এই ব্যাপারে। যে কোনও পবিত্র বস্তুকে ‘অপবিত্র’ হতে দেখাটা শকিং। এখানেও সেটাই দেখানোর চেষ্টা চলে।