মেইন ম্যেনু

ভয়ংকর ব্যাধি অ্যাজমা! কিন্তু এই সামান্য সত্যটা জানলে সম্পূর্ণ সেরে যায় অ্যাজমা…

আগের তুলনায় বেড়ে চলেছে অ্যাজমা অর্থাৎ, হাঁপানি৷ কিন্তু, জানেন কি, হাঁপানি সেরে যায়? তা হলে, এই অসুখটা আসলে কী? অ্যাজমা কি অ্যালার্জির-ই প্রকাশ? আর, এই অসুখের চিকিৎসা মানেই কি ইনহেলার? না, চিকিৎসার অন্য পদ্ধতিও রয়েছে? শুধুমাত্র তাই নয়৷ অনেকে এমনও মনে করেন যে, শীতের সময়ই হাঁপানি বেড়ে যায়৷ সত্যিই তাই? তা হলে, এই অসুখ প্রতিরোধের উপায়-ই-বা কী? অ্যাজমার কোনও প্রতিষেধক আছে? এমনই বিভিন্ন বিষয়ে বলছেন ন্যাশনাল অ্যালার্জি অ্যাজমা ব্রঙ্কাইটিস ইনস্টিটিউট-এর অধিকর্তা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক আলোকগোপাল ঘোষাল৷

হাঁপানি অর্থাৎ, অ্যাজমা কি সারে? আপনি ঈশ্বর দেখেছেন? অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগীরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন৷ রোগ না সারলেই যে চিকিৎসা করতে হবে না বা করা যাবে না, এমন কোনও কথা নেই৷ তবুও রোগীরা চিকিৎসকের কাছে প্রথমেই এই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর চান, হাঁপানি কি সারে?

নরেন্দ্রনাথও এই রকমই সংশয়ে ভুগছিলেন৷ শিক্ষিত আধুনিক যুবক জানতে চেয়েছিলেন ঈশ্বরের উপলব্ধি সত্য কি কারও হয়েছে? না কি সবটাই এক কল্পনা, বিশ্বাস বা অলীক বিভ্রম? অনেক ঘুরে তিনি পৌঁছলেন দেবেন্দ্রনাথের কাছে৷ মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথকে একই প্রশ্ন, আপনি ঈশ্বরকে দেখেছেন? শোনা যায় দেবেন্দ্রনাথ একটু ঘুরিয়ে উত্তর দিয়েছিলেন – তোমার চোখ দুটো যোগীর মতো৷ তুমি চেষ্টা করলে তাঁকে দেখতে পারো৷ তার পরে সেই অলৌকিক অভিজ্ঞতা৷ দক্ষিণেশ্বরের এক অল্প শিক্ষিত গ্রামীণ তাঁর হাত ধরে বললেন – দেখেছি, তোকেও দেখাতে পারি৷

বিজ্ঞানের সমস্যা এই যে, সে পরীক্ষিত সত্য কথনে দায়বদ্ধ৷ কিন্তু, সেই অবস্থানে থেকেও বলা যায়, হাঁপানি ১০০ ভাগ সারে৷ আমাদের বোঝবার বা বোঝাবার কোথায় ভুল হচ্ছে সেটা একটু পরীক্ষা করে দেখা যাক৷ হাঁপানি বলতে যদি আমরা মনে করি – এই কষ্ট, এই দম বন্ধ হয়ে যাওয়া, বুকে সাঁই সাঁই, মাঝরাত্রে কাশি, কিংবা আরও এগিয়ে সশব্দে সাইরেন বাজিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স বাড়িতে এসে রোগীকে হাসপাতালের আইসিইউ-তে পৌঁছে দেওয়া, হাঁপানি বলতে যদি এগুলি বুঝি, তা হলে হাঁপানি ১০০ ভাগ সারে৷ মুশকিল হচ্ছে লোকে হাঁপানি কি সারে বলতে আসলে বোঝেন – আমি কবে ইনহেলারটা বন্ধ করতে পারব? উত্তরে জানাই, সেটা আমাদের লক্ষ্যের মধ্যে পড়ছে না৷

ইনহেলার কি বন্ধ করা যায়? নিশ্চয়ই যায়৷ ইনহেলার কমানো যায়, বন্ধ করা যায়৷ যদি আপনি ১০০ ভাগ ভালো থাকেন তবেই৷ অর্থাৎ, ইনহেলার বন্ধ করাটা আমাদের লক্ষ্যের মধ্যে পড়ে না৷ আমাদের লক্ষ্য আপনাকে ১০০ ভাগ সুস্থ করা৷ হাঁপানি অসুখটাতে Gene বা বংশানুর অবদান আছে৷ যদিও শুধু বংশানু থাকলেই (পরে বলছি) হাঁপানি অসুখ হয় না৷ কিন্তু, বংশানু তো আর বদল করা যাচ্ছে না৷ কাজেই সতর্কতা বরাবর মেনে চলতে হবে৷ মুশকিল হচ্ছে, মানুষ যেমন সত্যকে জানতে চায়৷ আবার ঠিক তেমনই অপ্রিয় সত্যকে অস্বীকারও করতে চায়৷ আপনার পাড়ায় যে চিকিৎসক নবীন, সবে প্র্যাকটিস শুরু করেছেন, তিনিও জানেন এই তথ্য৷ কোনও বাচ্চার মাকে যদি বলা হয় বাচ্চার অসুখটা হাঁপানি, মা তখনই খুব রেগে গিয়ে বলবেন, আমাদের বংশে কারও হাঁপানি নেই৷ এই স্ব-বিরোধই চিকিৎসককে সত্য জানানো থেকে বিরত করে৷

হাঁপানির দুটো দিক আছে৷ একটা হচ্ছে বর্তমান৷ অর্থাৎ, বর্তমানে রোগী ভালো আছে বা নেই৷ আরেকটা অংশ হচ্ছে ভবিষ্যৎ৷ অর্থাৎ, আজকে কেমন আছেন তার থেকেও জরুরি, আজ থেকে ২০-৪০ বা ৬০ বছর পরে কেমন থাকবেন৷ চিকিৎসার মূল লক্ষ্য কিন্তু সেখানে৷ ব্যস্ত চিকিৎসক জানেন প্রতিটি রোগীর প্রতি এতটা সময় দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়৷ অনেক সময়ই হাঁপানি জেনেও ডায়াগনোসিসে হাঁপানি কথাটি লেখাই হচ্ছে না৷ কাজেই হাঁপানি সারার প্রথম ধাপ হল, সত্যকে জানা৷ অর্থাৎ, রোগীর যে হাঁপানি হয়েছে সেটা সর্বতোভাবে রোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়া বা জানানো৷ হাঁপানি একটা অসুখ, এই সত্য জানা এবং বোঝাই হাঁপানি সারার প্রথম ধাপ৷ হাঁপানি অসুখটি ১০০ ভাগ সারে৷