মেইন ম্যেনু

ভয়ানক হারে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা

মানবসৃষ্ট কারণে গ্রিন হাউজ গ্যাসের মাত্রা বেড়ে আজ আমেরিকার উপকূলীয় অঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে, আজ তা আর গোপন কোনো বিষয় নয়। সম্প্রতি পরিবেশ বিজ্ঞানীদের রিপোর্ট মোতাবেক আগামী দশকগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আরও অনেক নতুন অঞ্চল প্লাবিত হবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানির পোড়ানোর কারণে গত ২৮০০ বছরের তুলনায় অনেক দ্রুত হারে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি বেড়ে প্লাবনের সৃষ্টি হচ্ছে বলেও রিপোর্টটিতে জানানো হয়। তবে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা সম্মিলিতভাবে এটা স্বীকার করেছেন যে, প্রকৃতি সৃষ্ট কারণের চেয়ে মানুষ সৃষ্ট কারণেই আজকের এই পরিবেশ বিপরর্যায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাচীন রোম স্থাপনের পর থেকে এত দ্রুত সমুদ্র পৃষ্ঠের পানির উচ্চতা আর বাড়েনি। মানুষ যদি অনতিবিলম্বে জীবাস্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে পারে তাহলে সমুদ্র পৃষ্ঠের পানির উচ্চতা আনুপাতিক হারে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক গতিতে বাড়তে পারে এবং কমেও যেতে পারে। কিন্তু মানুষের অপরিকল্পিত জ্বালানি ব্যবহার ও পরিবেশের উপর অত্যাচারের কারণে মিয়ামি, চার্লসটন, এস.সি এবং নরফ্লোকের মতো এলাকা খুব জলদিই ডুবে যেতে পারে।

এধরনের বন্যা বা প্লাবন হলে সাধারণত কয়েক ফুট পানিতে প্লাবিত হয়ে যায় চর্তুপাশ। কিন্তু নোনা পানিতে শহরের বাড়িগুলোর বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া থেকে ড্রেন দিয়ে পানি না কমা ইত্যাদি সমস্যাতো লেগেই থাকে। শুধু তাই নয়, খাবারের জন্য ব্যবহৃত মিঠা পানিতেও লবণাক্ততা প্রবেশ করে মানুষের জীবনযাপনের উপর চরম দুর্ভোগ নেমে আসে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, আগামী দশকে বর্তমানের তুলনায় অধিক হারে প্রাকৃতিক বিপরর্যদয় হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

গবেষক দলের সদস্য বেঞ্জামিন এইচ স্ট্রস এবিষয়ে বলেন, ‘উপকূলীয় বন্যা নিয়ে মনে হয় আমাদের নতুন করে ভাবা উচিত। এটা ঠিক আসলে জোয়ারভাটা বা প্রচণ্ড বাতাসের ব্যাপার নয়। এখন পর্য্ন্ত যতগুলো উপকূলীয় বন্যা দেখা গেছে তার সবগুলোর চরিত্র প্রায় একই রকম।’ দ্বিতীয় আরেক গবেষণায় বলা হয়, বিগত ২৮০০ বছরে যে হারে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি বাড়ছে বর্তমানে তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি হারে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি বাড়ছে। আর গবেষকদের মতে, এরকম ঘটনার জন্য দায়ি মানুষ নিজেই।

একই গতিতে যদি সমুদ্র পৃষ্ঠের পানি বাড়তে থাকে তাহলে আগামী ২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্র পৃষ্ঠের পানি চার ফুট পর্য ন্ত বেড়ে যেতে পারে। আর যদি তা হয় তাহলে ২২শতক নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে সবাইকে। কারণ ততদিনে অনেক উপকূলীয় শহর বা অঞ্চল স্রেফ পানির তলায় তলিয়ে যাবে। সমুদ্র বিষয়ক গবেষণার জন্য বিখ্যাত অধ্যাপক স্টেফান রাহম্সট্রফ বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা সকলে এটা নিশ্চিত হয়ে গেছি যে এভাবে চলতে থাকলে সমুদ্র পৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং তখন আর আমাদের কিছু করার থাকবে না।’ সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়ান্সে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এই সতর্কবানী তুলে ধরেন অধ্যাপক স্টেফান।