মেইন ম্যেনু

ভয়াবহ সমস্যায় পড়তে যাচ্ছেন প্রবাসীরা

সকল প্রবাসীর হাতে যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট (এমআরপি) পৌঁছানোর জন্য আর মাত্র সাড়ে তিন মাসের মত সময় হাতে থাকলেও এখনো সিংহভাগ প্রবাসীর হাতে এমআরপি পৌঁছেনি । আগামী ২৪ নভেম্বরের পর থেকে পৃথিবীর কোথাও হাতে লেখা পাসপোর্ট চলবে না। ফলে এমআরপি নিয়ে বাংলাদেশ ভয়াবহ সংকটে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এজন্য পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, এমআরপি প্রকল্প চালুর পর, পাঁচ বছরে প্রায় অর্ধেক প্রবাসীর হাতে এই পাসপোর্ট পৌঁছেছে। সরকারের হিসাবে প্রবাসীর সংখ্যা নব্বই লাখ। এই হিসাবে এখনো সিংহভাগ প্রবাসী এমআরপি পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

কিন্তু এখন পাসপোর্ট দেওয়ার যে ধীরগতি, তা অব্যাহত থাকলে অবশিষ্ট সাড়ে তিন মাসে এত মানুষকে এমআরপি দেওয়া সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে ঘোর সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, সামনে যে সময় আছে, সেই সময়ের মধ্যেই কাজটা শেষ করা সম্ভব হবে।

এমআরপি দেওয়ার কাজ পেয়েছে মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠান আইরিস করপোরেশন। সাবেক প্রবাসীকল্যাণ-মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, পররাষ্ট্রসচিবসহ সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা এই প্রতিষ্ঠানের কাজের ব্যাপারে বারবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

অতীতে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, রহিঙ্গাদের এমআরপি দেওয়া, দুর্নীতি ও অনিয়মের নানা অভিযোগ ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমআরপি সমস্যা সমাধানে তাঁর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবকে প্রধান করে একটি টাস্কফোর্স এবং সাবেক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে প্রধান করে উপদেষ্টা কমিটি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু দুই কমিটি বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও কাজে গতি আনেনি আইরিস।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রবাসী এমআরপি পাবেন না। এর ফলে বিদেশে হয়রানির শিকার হবেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এমআরপি না থাকায় বৈধ আকামা বা কাজের অনুমতিও পাসপোর্টে লাগাতে পারবেন না তারা। এতে তাঁদের অবৈধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাসহ রেমিট্যন্সে প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।বিডি২৪লাইভ