মেইন ম্যেনু

‘মধু খই খই আঁরে বিষ খাওয়াইলা’

চলছে জ্যৈষ্ঠ মাস। এ মাসকে মধু মাসও বলা হয়। বৈশাখের শেষে জ্যৈষ্ঠ মাসে মানুষের পাতে আম ওঠার কথা থাকলেও। আম পাতে উঠে এসেছে ইতিমধ্যেই। বর্তমানে সব জায়গায় রাস্তার দুধারে উপচে পড়ছে বিচিত্র রকম সব আম ও মৌসুশী ফলে। ভূক্তভোগিরা বলছেন এসব মৌসুমী ফল রাসায়নিক দিয়ে পাকানো। তাদের দাবী এসব মৌসুমী ফল পাকার আগেই ক্ষতিকর কেমিক্যাল স্প্রে করে বাজারজাত হচ্ছে। আর তারও আগে তরমুজের ক্ষেত্রে মিলেছে একই অভিযোগ। স্বাভাবিকভাবে অভিযোগের আঙুল তাক করা হয়েছে ফল ব্যবসায়ীর দিকে, সেই সঙ্গে ফল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধেও। তাই এক রসিক ফল ক্রেতা আঞ্চলিক গানের সুরে বলেছেন “মধু খই খই আঁরে বিষ খাওয়াইলা”।

সরেজমিনে দেখা যায়, মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত বাজারে যেসব আম ও মৌসুমী ফলে সয়লাব ছিল তার সবই এসেছে পার্শ্ববর্তী ভারত কিংবা মিয়ানমার থেকে এবং যার পুরোটাই বিভিন্ন রাসায়নিক কেমিক্যাল ও ফরমালিনে ভর্তি।

যেসব ফল স্থানীয় বাজারে আসছে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করারও কোনো ব্যবস্থা না থাকার সুযোগে মোনাফা লোভী ব্যবসায়ীরা এসব ফলে রাসায়নিক মিশিয়ে বিক্রি করছে বলে ক্রেতারা অভিযোগ করছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে ঘ্রাণ থাকবে না, কাটলে ভেতরে ফ্যাকাসে সবুজ দেখা যাবে এবং স্বাদ থাকবে না। বাস্তবে ঘটেছেও তাই। মিয়ানমারের দুই নম্বরি উপচে পড়া আম কাটার পর কেবল রঙই পাওয়া গেছে, স্বাদ পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি কমরেড গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমরা বাজার থেকে যে সব মৌসুমী ফল সময়ের পূর্বে পাচ্ছি তা আসলে ফল ব্যবসায়ীরাই আমাদের মধুর নামে বিষ খাওয়াচ্ছেন। মধু মাখা আমের নামে মধু বলে বলে বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ এই জনপদের প্রায় প্রত্যেক ফল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে করা যায়। তাই এসব মোনাফা লোভী ফল বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই আমাদের শরীরে ক্যান্সার সহ দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে। তখন আর করার কিছুই থাকবে না।