মেইন ম্যেনু

মনভাঙা দৃশ্য, আস্তাকুঁড় থেকে নতুন জীবন

নাইজেরিয়ার রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল রুগণ এক শিশু। মাত্র দুই বছর বয়সের শিশুটি আট মাস ধরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছিল। দয়াপরবশ হয়ে মানুষের দেওয়া খাবারে কাটছিল শিশুটির জীবন। ক্ষুধার জ্বালায় দেখা যাচ্ছিল পাঁজরের সব হাড়।

গত ৩১ জানুয়ারি রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শিশুটিকে দেখতে পান ডেনমার্কের ত্রাণকর্মী আনজা রিংগ্রেন লাভেন। শিশুটিকে খাবার ও পানি দেন তিনি। পরে কম্বল জড়িয়ে শিশুটিকে কোলে তুলে নেন লাভেন এবং চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান হাসপাতালে। নানা রোগে ভুগছিল শিশুটি।

ডেইলি মেইল জানায়, ডাইনি সন্দেহে শিশুটিকে ফেলে গিয়েছিল তার পরিবার। এরপর আর কখনোই শিশুটির খোঁজ নেয়নি।

ডেনমার্কের ত্রাণকর্মী আনজা রিংগ্রেন লাভেন শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান। শরীরে রক্ত দিয়ে দুর্বলতা কাটানো হয়। চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হলে শিশুটিকে নিজের পরিবারেই নেন লাভেন। নতুন জীবনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নতুন নামও হয়েছে ‘হোপ’। এখনো দুর্বল হলেও লাভেনের নিজের ছেলের সঙ্গেই আছে হোপ। দুজনে এখন একসঙ্গে খেলছে।

তিন বছর আগে ‘আফ্রিকান চিলড্রেনস এইড এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’ নামক একটি সংগঠন চালু করেন লাভেন। এই সংগঠনের লক্ষ্য হলো ডাইনি হিসেবে আখ্যা দিয়ে পরিত্যক্ত শিশুদের রক্ষা করা।

নাইজেরিয়াসহ আফ্রিকার অনেক দেশে হাজার হাজার শিশুকে ডাইনি সন্দেহে মেরে ফেলা হয় বা ফেলে দেওয়া হয়।

হোপকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার চিকিৎসার জন্য সহায়তা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদন করেছিলেন লাভেন। জানা গেছে, দুদিনের মধ্যেই ১০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা পেয়েছেন লাভেন।

লাভেন বলেন, যে সহায়তা উঠেছে তা দিয়ে হোপের সুচিকিৎসার পরও অনেক অর্থ বেঁচে যাবে। এই বেঁচে যাওয়া অর্থ দিয়ে একটি হাসপাতাল গড়ে তোলার কথা জানান তিনি। আর জানুয়ারি মাসেই স্বামী ডেভিম ইমানুয়েল ওমেমকে সঙ্গে নিয়ে একটি এতিমখানা গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছেন লাভেন।