মেইন ম্যেনু

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ

মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র কেন অবৈধ হবে না জানতে চেয়েছে আদালত

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ফরিদ আহমদ শিবলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবিএম নুরুল ইসলাম। তিনি নিজেই রিটের পক্ষে শুনানি করেন।

উল্লেখ্য, সরকার বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০০৫ এর বিধিমালায় সংশোধন আনে। সংশোধিত এ বিধিমালা ২২ অক্টোবর থেকে কার্যকর ধরেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

পরিপত্রে ২২ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শিক্ষক নিয়ােগ বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে ২২ অক্টোবরের আগে শিক্ষক নিয়োগে কোনো প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরু করলে তারা ওই নিয়োগ দিতে পারবে বলেও পরিপত্রে বলা হয়েছে।

আগে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্যদ শিক্ষক নিয়োগের যাবতীয় কাজ করলেও সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষক নির্বাচনে বেসরকারি শিক্ষক নির্বাচন কমিশন গঠন করবে সরকার।

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে মেধাতালিকা অনুযায়ী যোগ্যপ্রার্থী বাছাই করবে এ কমিশন। এসব যোগ্য প্রার্থীর মধ্য থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ দেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্যদ। এ পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনটি করা হয়। শুনানি গ্রহণ শেষে আদালত রুল জারি করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রিটকারী আইনজীবী এবিএম নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২২ অক্টোবর একটি পরিপত্র (সার্কুলার) জারি করে।

সেখানে বলা হচ্ছে, বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের। এর ফলে ওইসব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা রহিত হয়েছে।

সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। তাই এটি চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছি। শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেছেন।

শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনায়ন ও মেধাবীদের নিয়োগ দিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া পাল্টানোর উদ্যোগ নিয়েছেন সরকার। দেশের অধিকাংশ মানুষ নতুন পদ্ধতিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তবে, নতুন নিয়মের ফলে যাদের ব্যবসা বন্ধ হয়েছে তারা বিরোধীতা করে আসছেন।