মেইন ম্যেনু

মন্ত্রীদের মন্তব্যের বিপরীতে শিক্ষক জীবনের না বলা কথা

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য এক ধরনের ক্রান্তিকাল চলছে বর্তমানে। এই ক্রান্তিকাল থেকে শিক্ষক সমাজ কিভাবে নিজেদের বের করে আনবেন তার উপড় নির্ভর করছে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার গতি প্রকৃতি।

এই ক্রান্তিকাল এমনি এমনি আসেনি। বেশ কিছু মানুষের অবদান আছে এটাতে। এইসব মানুষদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ও আছেন। শুরুটা অবশ্য মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ই করেছিলেন। উনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্মানহানি করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজের পায়ে দাড়ানোর সুপারিশ করেছেন। শিক্ষকদের গায়ে লেগেছে উনার অপমানমূলক কথাবার্তা। সেই অপমানের রেশ শেষ হতে না হতেই অর্থমন্ত্রী মহোদয় আসলেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্পর্কে উনার থিয়োরি নিয়ে। এর পর একে একে শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেদের থিয়োরি দিলেন শিক্ষকদের নিয়ে। আমি উনাদের মত বড় মানুষদের কাতারের কেউ না, তবে আমার মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আমি উনাদের চেয়ে বেশি দেখেছি, কারন আমি এদের সাথেই দিনের বেশিরভাগ সময় কাটাই গত বেশ কয়েক বছর ধরে। আমার দেখার আলোকে আমি বলতে পারি উনারা যা বলেছেন তা সঠিক নয়। আমার দেখা শিক্ষক জীবনের কিছু চিত্র তুলে ধরছি এখানে, আশা করবো এখান থেকে উনারা নতুন কিছু জানতে পারবেন।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্ঞানের অভাব এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দুর্নীতি হয়। মন্ত্রী মহোদয় ঠিকই বলেছেন যে আমাদের জ্ঞানের অভাব আছে, আমরা নিজেরাও কোনদিন দাবি করিনা যে আমাদের জ্ঞান পরিপূর্ন হয়েছে। বরং আমরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন জ্ঞানের সন্ধান করি, নাহলে নিজেকে অপরিপূর্ন মনে হয়। কিন্তু উনি কি নিজেকে পরিপূর্ন মনে করেন? ঠিক বুঝতে এবং মিলাতে পারছিনা। হলমার্ক কেলেঙ্কারির হলমার্কটা উনার গায়ে সাটানো না? যাকগে, এইরকম আরো অনেক উদাহরন থাকলেও ঐদিকে যাবোনা। আমার মনে হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, শিক্ষকদের জ্ঞান, এবং তাদের জীবন সম্পর্কে মন্ত্রী মহোদয়ের জানার পরিধি বেশ ছোট এবং তা দিনের পর দিন এক যায়গায় থেমে আছে, বাড়ছে না। তাই মাননীয় মন্ত্রী শিক্ষকদের সম্পর্কে সঠিক মন্তব্য করতে পারছেন না। একজন শিক্ষক হিসেবে আমার কাজের সাথে সংহতি রেখে আমার নিজের দেখা শিক্ষক জীবন নিয়ে কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করার মাধ্যমে শিক্ষকদের ব্যাপারে উনার জানার পরিধি কিছুটা হলেও বাড়িয়ে দেয়ার জন্য আমার এই লেখা। আশা করবো এরপরে শিক্ষকদের নিয়ে এইরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা থেকে উনি নিজেকে বিরত রাখতে সক্ষম হবেন।

ইরাসমুস মুন্ডুস স্কলার হিসেবে পড়ার সময় ফ্রান্সে বসে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদের জন্য দরখাস্তের ফরম পুরন করার সময় আমার চেয়ে বেশি এবং কম শিক্ষিত অনেকে বলেছিলেন এই ভুলটা যেন না করি। দেশে না ফেরার পরামর্শ দিয়েছিলেন সবাই। কিন্তু ততদিনে তিন বছর বিদেশে থেকে দেশপ্রেমটা মারাত্মকভাবে মনের মধ্যে বসে গিয়েছিলো। বারবার মনে হয়েছিলো আমার দেশকে কিছু দিতে হবে, দেশের জন্য কিছু করতে হবে। সব পরামর্শ উপেক্ষা করে দেশের পথে যাত্রা করি এবং খুব অবাক হয়েছিলাম যখন দেখলাম আমার দরখাস্তখানা মঞ্জুর হয়েছিলো। শুরু হয়েছিলো শিক্ষক হিসেবে পথচলা। মাঝখানে অনেক ভাললাগা অনেক খারাপলাগা বাদ দিলে এখনো চলছি সেই পথে। পরিবর্তন বলতে শুধু খুলনা ছেড়ে জাহাঙ্গীরনগরে চলে আসা। ইতিমধ্যে বিভাগের সভাপতি, অনুষদের ডীন, সিন্ডিকেট সদস্য হয়ে দেখার সুযোগ হয়েছে অনেক কিছুই। অনেক সম্মান পেয়েছি আবার অনেক অসম্মানও জুটেছে কপালে। কিন্তু কোনদিন এতটা অপমানিত বোধ করিনি যতটা এখন করছি প্রধানমন্ত্রীসহ বাকি মন্ত্রীদের বক্তব্যে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পেয়ে যতটা অবাক হয়েছি তারচেয়ে বেশি অবাক হয়েছি চাকরি করতে গিয়ে। দেখেছি রাজনীতি কি করে সব কিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে একের পর এক। প্রথমবার অবাক হয়েছিলাম যখন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন নির্ধারনী কমিটি আমার একটা ইনক্রিমেন্ট বাদ দিয়ে দিয়েছিলো কারন তারা আমার বিদেশী ডিগ্রীর সমতা বিধান করতে পারছেন না। ফলাফল হলো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা একজন গ্রাজুয়েট এর থেকে আমি একটা ইনক্রিমেন্ট কম পাচ্ছি যদিও আমার দুটো বিদেশী মাস্টার ডিগ্রী আছে পৃথিবীর চারটা বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। খারাপ লেগেছে, কিন্তু রাজনীতির পথে পা দেইনি। দিলে হয়তো আমার সেই ইনক্রিমেন্ট হয়ে যেত। কিন্তু টাকাটাকে বড় করে দেখিনি, পড়াতে গিয়েছিলাম। পড়ানোতেই আনন্দ পাচ্ছিলাম। এই ইনক্রিমেন্ট আমাকে তিনবছর ধরে ভুগিয়েছিলো। তিনবছর ধরে আমি ওই পরিমান টাকাটা পাইনি। যিনি এই কাজটা করেছিলেন তাকে জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিলাম কি মজা পেয়েছেন এইটা করে। আজো জিজ্ঞেস করিনি কারন আমি তো শিক্ষক, আমার এত আক্রমনাত্মক হওয়া সাজেনা। ঐ ভদ্রলোকের চেয়ে অনেক বড় যায়গায় যাবার সুযোগ আমি ইতিমধ্যে পেয়েছি। সেদিন উনার উপড়ে ক্ষেপে গিয়ে রাজনীতি করলে হয়তো সেটা হতনা।

অর্থমন্ত্রীর কথা মেনে নিলে আসলেই আমার জ্ঞানের অভাব আছে। ছয় হাজার টাকা বেতনের চাকরি করতে গিয়ে আমি একটা ইনক্রিমেন্ট না নিয়ে থাকার বিলাসিতা দেখালাম কি করে? আমার উচিৎ ছিলো ক্লাসরুমের বদলে রাজনৈতিক ময়দানে গিয়ে উচ্চবাচ্চ করা যাতে যারা আমার ইনক্রিমেন্ট বাদ দিয়েছে তারা ভয়ে হলেও সেটা দিয়ে দেয়। মজার ব্যাপার হলো অর্থমন্ত্রী কিন্তু এখানে সঠিক আছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালগুলোতে শক্ত হলে আসলেই পোক্ত থাকা যায়, আমি শক্ত হলে পারলে পোক্ত থাকতে পারতাম। কিন্তু মন্ত্রী মহোদয় হয়তো জানেন না যে এই শক্ত হওয়াটাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকই এক ধরনের অসভ্যতামি মনে করে থাকেন। আমি অসভ্য হতে চাইনি। শিক্ষামন্ত্রীর কথামত আমি কারো বাসায় গিয়ে পড়িয়ে টাকাও কামাতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রীর কাছেও কোনদিন গিয়ে বলিনি যে বেতন বাড়িয়ে দেন।

খুলনা ছেড়ে আসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়েছি। খুলনা ছেড়ে আসার সময় একজন শিক্ষক বলেছিলেন যে তুমি ছোট পুকুর ছেড়ে বড় পুকুরে যাচ্ছ, ওখানে আরো বড় বড় শিয়াল মাছ আছে যাদের কাটায় আরো বেশি বিষ আছে। আসার পরে টের পেয়েছি কথা সত্যি। কিন্তু যেহেতু পড়াতে গিয়েছিলাম, ঐ জায়গায়ই বেশি সময় দিতাম। কে কত বড় মাছ তা নিয়ে মাথা ঘামাতে হতনা। এক সময় মাথায় আঘাত করা শুরু হলে মাথা ঘামানো শুরু করলাম। মাথা ঘামাতে গিয়ে যা দেখলাম তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক হয়েছিলো আমার জন্য। কোনদিন শেয়ার করিনি। আজ করছি যদিও কারো নাম উল্লেখ করবোনা। এক নির্বাচনী প্রচারে সিনিয়র শিক্ষকদের সাথে একদিন একজন সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রভাষকের বাসায় গিয়েছিলাম। শিক্ষক ভদ্রলোক আমাদের দেখে অত্যন্ত লজ্জায় পড়ে গিয়েছিলেন। কেমন যেন কাচুমাচু করছিলেন। উনি কোন কথাই বলতে পারছিলেন না। আমি একটু অবাক হয়েছিলাম, মনে মনে ভাবছিলাম এই ভোটটা মনে হয় পাবোনা। ভাবতে ভাবতে সাথের সিনিয়র শিক্ষকদের সাথে অন্য বাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। ঐ শিক্ষক মহোদয় আমাকে পিছন থেকে ডাকলেন আলাদা করে। আমি কাছে গেলে উনি আমাকে বললেন যে, বিশ্বাস করেন আমি সোফা সেটের অর্ডার দিয়ে এসেছি। দু-চারদিনের মধ্যে এসে যাবে। আপনারা আরেকদিনে আসবেন প্লীজ। আজ আপনাদের বসাতে পারিনি ঠিকমত। আমি জানিনা আপনাদের অনুভুতি কিরকম হবে আমার ভোতা হয়ে গিয়েছিলো। আমি শুধু উনাকে জড়িয়ে ধরে চলে এসেছিলাম। জীবনে কোনদিন ভুলতে পারবোনা একজন শিক্ষকের সেই মুখ। বুজতে পারলাম সদা সদালাপী একজন শিক্ষক বাসায় আসার পরে এতক্ষন কেন এমন করছিলেন। আমাদের মন্ত্রীরা শিক্ষকদের এইরকম মুখ কোনদিন দেখেছেন কি? উনারা কি জানেন যে একজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রভাষকের জীবন কি করে চলে? উনারা দুর্নীতি দেখেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। হয়তো আছেও, কিন্তু তা কতটা? বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি কাদের মাধ্যমে আসে? উনারা নিজেরাই কি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যতটুকু দুর্নীতি হয় তার কারন নন?

বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষক আছেন যারা নিজ বংশের প্রথম কেউ যে কিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন এবং মেধাবী হওয়াতে ভাগ্যক্রমে শিক্ষক হতে পেরেছেন। ভাগ্যক্রমে বলছি এই কারনে যে মন্ত্রী মহোদয়দের মত মানুষদের রাজনৈতিক মেরুকরনের কারনে আজকাল মেধাবীরাও যে শিক্ষক হতে পারবেন তার কোন নিশ্চয়তা নাই। এইসব শিক্ষকদের বংশ উনাদের দিকে তাকিয়ে থাকে যে একদিন উনারা বংশের মুখ উজ্জল করবেন। কিন্তু বংশের কেউ তো আসলে জানেন না বা বুঝতে পারেন না যে যিনি নিজের বাসায় বসার চেয়ার টেবিল যোগাড় করতে পারেন না, তিনি বংশের মুখ উজ্জ্বল করবেন কি করে। নিয়োগ পাবার পরে একজন শিক্ষক না নিজেকে খুশি করতে পারেন, না পারেন পরিবারকে খুশি করতে। মাথা নিচু হয়ে থাকে সবসময়, তারপরেও ক্লাসে গিয়ে মাথাটা উচু রাখতে হয়। কারন অনেক গুরুদায়িত্ব নিয়ে ক্লাসে যাই আমরা। আমাদেরকে ভাবতে হয় আমার মাথা নিচু দেখে যদি আমার ছাত্রছাত্রীরা মাথা উচু করতে ভুলে যায়। প্রতিনিয়ত নিজের সাথে প্রতারনা করে হলেও আমরা অন্যের জীবন গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখি। তার পুরস্কার হিসেবে মুহিত সাহেব আজ আমাদের মূর্খ বানিয়ে দিলেন, শিক্ষামন্ত্রী বাসার টিউটর বানিয়ে দিলেন, এবং প্রধানমন্ত্রী তাচ্ছিল্যের সুরে আমাদের নিয়ে কথা বললেন।

একদিন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক যিনি আমার বিভাগে খন্ডকালীন পড়াতেন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমি কত টাকা বেতন পাই। আমি অবাক হয়েছিলাম এই দেখে যে উনি জানেন না। আমি নিজের বেতন বলার পরে উনি যেভাবে অবাক হয়েছিলেন সেটা দেখে আরো বেশি অবাক হয়েছি। উনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে আমি এত কম টাকা বেতন নিয়ে এত খেটে একটা বিভাগ চালাই (তখন বিভাগের সভাপতি ছিলাম)। উনি আমার জুনিয়র পদে থেকে বেতন পেতেন ৭০ হাজারের উপরে। উনি ভাবতেন আমার বেতন উনার চেয়ে বেশি হবে । উনি খুবই বিনয়ের সাথে আমাকে দুটো প্রশ্ন করেছিলেনঃ আমি কি করে ফার্নিচার কিনি এবং আমি কেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করিনা। হেসেছিলাম শুধু, কোন উত্তর দেইনি। মাথাও নিচু হয়নি সেদিন, কারন মাথাও ততদিনে প্রতিবাদ করা শুরু করেছে। আর কত নত হবে সে? আমাদের মন্ত্রীরা আমাদের এইসব মাথা নত হবার খবর কি রাখেন? রাখেন না। আমারাও চাইনা উনারা তা রাখবেন। উনারা দেশের ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত এবং আমরা তাতেই খুশি। কিন্তু না জেনে কথা বললে অন্যের অনুভুতিতে আঘাত লাগতে পারে এই সত্যটা কি মন্ত্রী মহোদয়রা জানেন না?

মন্ত্রী মহোদয়দের কথায় মাথায় আঘাতের পর আঘাত পড়ছে। এই প্রসঙ্গে একটা গল্প বলে লিখাটা শেষ করি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্লাসে গেলে মাঝে মাঝে বিচিত্র প্রতিভা লক্ষ করা যায়। অনেক ছেলেমেয়েই ওইটুকু বয়সে বয়সের চেয়ে বেশি কিছু শিখে ফেলে। আমি প্রশংসা করি এবং স্বীকার করে নেই যে উনারা ভাল জানেন। অনেক ক্ষেত্রে আমার চেয়েও বেশি জানেন। আবার কিছু ছেলেমেয়ে আছে যারা অনেক কিছু জানেনা কিন্তু একটা ভাব নেয় যে অনেক কিছু জানেন। আমি যেহেতু শিক্ষক আমি কাউকে হতাশ করতে পারিনা। আমি সবাইকেই বলি যে আপনারা অনেক জানেন, আমার চেয়েও বেশি জানেন। আমি হলাম কম জানা মানুষ, অন্য কোন চাকরি পাইনি তাই শিক্ষকতায় এসেছি। আমি এইটা এমনি এমনি বলতাম যাতে আমার ছাত্রছাত্রীদের কারো মনোবলে চিড় না ধরে যে উনারা জানেন না বা উনাদের স্বীকৃতি দেয়া হলোনা। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সরকার আমার মশকরাটাকে অনেক সিরিয়াসলি নিয়েছেন। নতুন বেতন স্কেল তার অফিসিয়াল ঘোষনা মাত্র। উনারা আসলেই আমাদের জ্ঞানহীন ভাবেন। নাহলে এইরকম একটা পরিস্থিতি তৈরি হতনা। জেনে অথবা না জেনে আজকাল সবাই শিক্ষকদের নিয়ে আজেবাজে কথা বলছেন। সরকারের অদক্ষ ব্যাবস্থাপনার কারনে আজ শিক্ষক সমাজ আর জনগন মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে গেছে। এটা কি দেশ বা সরকারের জন্য ভাল কিছু নিয়ে আসবে? ভেবে দেখা উচিত।

[লেখক: মোঃ তরিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতে গবেষণারত]