মেইন ম্যেনু

মন্ত্রীর গাড়ি’ই যখন উল্টো পথে!

সোমবার সকাল সাড়ে দশটায় হাইকোর্ট সংলগ্ন মৎস ভবনের সামনে থেকে তোলা ছবি। এতে দেখা যাচ্ছে পতাকাবাহী একটি গাড়ি রাস্তার উল্টো পাশ দিয়ে যাচ্ছে। সামনে প্রটোকল দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের কাছে জিজ্ঞাসার উত্তরে জানা যায়, ‘এটা মন্ত্রীর গাড়ি’।

প্রতি সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রীদের নিয়মিত বৈঠক থাকে। যে কারনে সকাল থেকেই ভিআইপি ও ভি-ভিআইপি সিগন্যাল এ ব্যস্ত থাকে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি। প্রতি সোমবার’ই যেন নিয়মিত ভোগান্তি এই পথের যাত্রীদের! ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকতে হয় ভিআইপি ট্রাফিক সিগন্যালে। এর পরেও যখন উল্টো পথেও ভিআইপি’রা চলাচল শুরু করেন, তখন এটি মরার উপর খারার-ঘা বলেই মনে করেন দুর্ভোগের শিকার সাধারণ মানুষ।

পঞ্চাশ উর্ধ্ব এক বৃদ্ধ বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে যাচ্ছিলেন চিকিৎসার জন্য। পথের যানজটে অথিষ্ঠ হয়ে পল্টন মোড় থেকে হেটেই রওনা দেন তিনি। ‘হাটতে কষ্ট হয় না আপনার?’ হাইকোর্টের মোড়ে বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে কিছুটা ইতস্তত করে বলেন, ‘হাটতে হাটতে’ই বুড়া হইছি। তয় এহন একটু কষ্টই লাগে’।

এদিকে রাজধানীর প্রাণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত এই এলাকায় যানজট মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে পড়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন প্রতিনিয়ত লাগামহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ অপরদিকে এর কারনে অনেক প্রয়োজনীয় কর্মঘন্টা হারাচ্ছে রাষ্ট্র। এর সমাধানে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ কেই আশার বাতি হিসেবে মনে করছেন নগর উন্নয়ন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়টি নিয়ে সাথে কথা হয়, সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এর সাথে। ভিআইপি সিগন্যাল তার উপর যানজট কোথায় যাবে নগরবাসী? অপরদিকে আইন প্রণেতাদের নিয়ম ভঙ্গ কতটা যৌক্তিক?

এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন সম্পাদকের মত, ‘দেখেন আমরা বিদেশে গেলে সবাই নিয়ম মানি, দেশের বেলায় বুড়ো আঙ্গুল। এটি আসলে আমাদের মানসিকতার বিষয়। শুধু মন্ত্রী কেন আজকাল অনেকেই একটু প্রভাবশালী হলে আর নিয়মের তোয়াক্কা করেন না। তবে সম্মানের জায়গা থেকে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের কাছে এটি আশা করে না মানুষ।’

তবে সড়কে নিয়ম ভাঙ্গার মূলেই রয়েছে যানজট। এটি না থাকলে কেউ এমনিতেই নিয়ম ভাঙ্গতে যেত না। যানজট নিরসনে বৃহৎ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন’ই হতে পারে সকল সমস্যার সমাধান বলেই মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর এই সম্পাদক।