মেইন ম্যেনু

মন্ত্রী নিজামী যেভাবে ফাঁসির কাষ্ঠে

ছিলেন আলবদর নেতা। পরিণত বয়সে হলেন যুদ্ধাপরাধীর দায়ে অভিযুক্ত সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর সর্বোচ্চ নেতা। রাষ্ট্র গঠনের সরাসরি বিরোধীতা করেও গাড়িতে উড়ালেন মন্ত্রীর পতাকা। জীবনের শেষ বেলায় এখন ফাঁসির কাষ্ঠে।

যেন হলিউডের অ্যাকশনধর্মী কোনো ড্রামা। যে ড্রামার শেষাংশে খলনায়কের করুণ পরিণতি। এক সময়ের প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং একটি দলের প্রধানকে এভাবে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হবে, তা যেন বাঙালি মননে অনেকটাই অবিশ্বাস্য ছিল।

‘ভাগ্যেরে যে নির্মম পরিহাস।’ তাই ঘটল। অপরাধ করলে সাজা হয় এবং সে সাজা মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে, তা গোটা বিশ্ব প্রত্যক্ষ করছে। জামায়াতের আমির ও সাবেক মন্ত্রী নিজামীর মৃত্যুদণ্ডে কলঙ্কমুক্ত হচ্ছে জাতিও।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবী নিধন ও গণহত্যায় নেতৃত্ব দেয়া আলবদর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি মন্ত্রী পদে বসায়। আবার মন্ত্রী হয়েও জড়িয়েছেন নানা অপরাধের সঙ্গে। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায়ও পেয়েছেন সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

লাখো প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া জাতীয় পতাকাকে কখনো স্বীকার না করা একজন যুদ্ধাপরাধীকে বিএনপি সরকারের অংশীদার করা হয়।

১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তার জন্য জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হয় আলবদর বাহিনী।

এ বাহিনীর কর্তৃত্ব নিজের হাতে নিয়ে মুক্তিকামী বাঙালি নিধন ও দেশকে মেধাশূন্য করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেন মতিউর রহমান নিজামী। সেই সময় ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতিও ছিলেন তিনি।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে তৎকালীন সরকার। সে সময় বিদেশে পালিয়ে যান এই মানবতাবিরোধী অপরাধী। পঁচাত্তরে বঙ্গন্ধুকে হত্যার পর জেনারেল জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দেশে ফিরে আসেন তিনি। তার আমলেই এ যুদ্ধাপরাধী রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হন।

রাজাকার শিরোমণি গোলাম আযম রাজনীতি থেকে অবসরে গেলে জামায়াতের আমির হন নিজামী।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর প্রথমে কৃষিমন্ত্রী ও পরে শিল্পমন্ত্রী হন তিনি। লাখো শহীদের রক্তে পাওয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে আসা এ যুদ্ধাপরাধী নিজ গাড়িতে লাল-সবুজ পতাকা লাগিয়ে দাম্ভিকতা প্রকাশ করতেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

২০১৪ সালে ট্রাইব্যুনাল এ যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ এবং অগ্নি সংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত একজন ব্যক্তিকে পরবর্তীতে দেশের মন্ত্রী বানানো ছিলো বড় ভুল। এটা শহীদদের গালে চপেটাঘাতের শামিল।

সাবেক মন্ত্রী নিজামী আজ ফাঁসির মঞ্চের অতি নিকটে। মাথার উপরেই ঝুলছে ফাঁসির দড়ি। এমন পরিণতিতে যেন উবে গেল দাপটে এক মন্ত্রীর সকল দাম্ভিকতা।জাগো নিউজ