মেইন ম্যেনু

মন ভাল করে দেবে যে ৮টি খাবার

খাবার কি আপনার মন ভাল করতে পারে? বিজ্ঞান বলে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে কিছু খাবার সত্যি যাদুকরি প্রভাব ফেলতে পারে আপনার মনের উপর। মন ভাল করে দেওয়া এসব খাবারে থাকে প্রচুর পরিমাণে অমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড, ট্রাইটোফেন, ভিটামিন ডি এবং বি। খাবারগুলো একই সাথে ফাইটোকেমিকেলস এবং পুষ্টি উপাদানে পরিপূর্ণ। এগুলো আপনাকে দৈনন্দীন জীবনের উদ্বিগ্নতাকে মোকাবেলা করতে সাহায্য করবে, মনকে রাখবে উচ্ছল। এই যাদুকরি খাবারগুলোর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তো নেই-ই, দামেও সস্তা।

আখরোট
আখরোট স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। খাবারটি প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় ফ্যাট সমৃদ্ধ। মন ভাল করে দেয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন ১০টি আখরোট আপনার দেহের কোষ প্রাচীর গঠনে সাহায্য করে, রক্তের কোলেস্টরল লেভেল কমায়, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্ত সঞ্চালনকে স্বাভাবিক রাখে, বিষন্নতা কমায় এবং সর্বোপরি সুখ ও সুস্থ্যতা নিশ্চিত করে।

পোল্ট্রি
কলার মত মুরগী এবং টার্কিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ট্রাইটোফেন থাকে সেরোটোনিন লেভেল বাড়ায়। শুধু তাই নয়, মুরগীতে প্রচুর টাইরোসিন ও থাকে, যা এক প্রকার এমাইনো এসিড। এই এসিড খুব দারুণভাবে স্ট্রেস কমায়। এছাড়া, টাইরোসিন নরপাইনফ্রাইন এবং ডোপামিন নামক দুইটি নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিতে সাহায্য করে যা মানুষের মানসিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলে। আপনি যদি টাইরীসুন খাওয়া বাড়াতে পারেন এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আপনার মন ভাল করে দেবে এবং হতাশাকে দূরে রাখবে।

গাঢ় সবুজ শাক
সবুজ শাক উদ্বেগ এবং বিষন্নতা দূর করতে কার্যকরি খাবার হিসেবে পরিচিত। সবুজ শাকে থাকে প্রচুর পরিমাণে এসিড যা মন খারাপ বা অবসাদ মোকাবেলা করে আপনাকে চনমনে করে তোলে। আমাদের বহুল পরিচিত লেটুস পাতা এ ধরণের একটি সবুজ শাক যা আমরা সালাদে ব্যবভার করি। এর ফলিক এসিড নার্ভ এবং মাসলের কার্যক্রমকে স্বাভাবিক রাখে। সম্প্রতি কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে, ম্যাগনেসিয়াম লেভেল কমে গেলে সেরাটোনিন লেভেলও কমে যায়, যা বিষন্নতা তৈরি করে। সবুজ শাক এক্ষেত্রে চমৎকার কার্যকরী।

স্যামন মাছ
স্যামন মাছ আমাদের এখানে তেমন পাওয়া যায় না। তবে এটি প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ সমৃদ্ধ। আমাদের সুপার শপগুলোতে টুনা মাছ পাওয়া যায়। বিকল্প হিসেবে টুনা মাছ বেছে নিতে পারেন। বিভিন্ন স্টাডিতে দেখা গেছে, যেসব মানুষের শরীরে ওমেগা ৩ এবং ওমেগা ৬ এর অভাব থাকে তারা মাত্রাতিরিক্ত বিষন্নতা এবং উদ্বেগে ভোগে। টুনা মাছে এই দুইটি উপাদানই আছে। সুপার শপগুলোতে স্যামনও পাওয়া যায় কখনো কখনো। আপনাকে তরতাজা রাখতে মাছটি কিন্তু খুবই কার্যকরী।

চেরি
চেরি তো আমরা কতভাবেই খাই। কখনো ডেজার্টে, কেকের মধ্যে, কখনো বা শুধু চেরিই খেতে পছন্দ করি। এই চেরিও আপনার মন ভাল করতে কাজে দেবে। চেরিতে আছে আছে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্টস, প্রাকৃতিক মেলাটনিন এবং সেরটোনিন। এই যৌগসমূহ স্ট্রেস কমায়, শান্তির ঘুম আনে, যাতে সকালে যখন আপনি ঘুম থেকে উঠবেন অনুভব করতে পারেন হালকা, আনন্দময়।

গ্রীন টি
গ্রীন টি এর গুণাগুণ জানি আমরা সবাই। গ্রীন টি তেও আছে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্টস, আমাইনো এসিড এবং এল-থিনাইন। এই প্রত্যেকটি উপাদান আপনার মনকে প্রভাবিত করে। এল-থিনাইন এমনকি কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ায়, মানসিক সতর্কতা এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। স্বাস্থ্যসম্মত এবং দীর্ঘায়ুর জন্য ডাক্তাররা গ্রীন টি পান করার পরামর্শ দেন।

কলা
কলায় আছে প্রচুর ভিটামিন এবং মিনারেল। সাথে পটাশিয়াম, ট্রাইটোফান যা সেরেটোনিন লেভেল বাড়ানোর জন্য অত্যাবশ্যক। কলার প্রত্যেকটি উপাদান মনকে প্রফুল্ল করে। এর ভিটামিন বি ৬ ট্রাইটোফানকে সেরেটোনিনে রূপান্তর করে। এভাবে আপনি শুধু ভালই অনুভব করবেন না, এর পাশাপাশি আপনার রাতের ঘুমও ভাল হবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাডিতে দেখা গেছে, বিষন্নতার রোগীদের জন্য কলা খুবই কার্যকরী ফল। এটি প্রচুর পরিমাণ আয়রনের উৎস।

চকলেট
এর ব্যাপারে কি কিছু বলার আছে? আপনি ভাবছেন, চকলেট খেলে যে মন ভাল হয়ে যায় সে তো সবাই জানে। আপনার প্রিয় চকলেট আলঝেইমারস এবং ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ করে এবং মাত্র কিছুক্ষণেই মন ভাল করে। যত গাঢ় চকোলেট খাবেন ততো ভাল। এটি হরমোনের স্ট্রেস কমায়, উদ্বেগের মাত্রা নামায়। চকোলেট খেলে মস্তিষ্ক এন্ডোরফিন নিঃসরণ করে এবং সেরটোনিন লেভেল বৃদ্ধি পায়।