মেইন ম্যেনু

মমতাকে ইফতারের দাওয়াত দিলেন সোনিয়া গান্ধী

দিন বাদেই শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশেন। তার আগে অ-বিজেপি মনোভাবাপন্ন দলগুলোকে একজোট করতে ইফতারকে অস্ত্র করলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়াগান্ধী।

আগামী সোমবার দশ জনপথে নিজের বাসভবনে ইফতারের দাওয়াতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিকেও আমন্ত্রণ জানালেন সোনিয়া। খবর- আনন্দবাজার পত্রিকা

সূত্রের খবর, মমতা-সীতারাম কেউ-ই আসবেন না। তবে দু’দলই জানিয়েছে, দলের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিরা ইফতারে উপস্থিত থাকবেন। দলায় সূত্রে খবর, সংসদের বাদল অধিবেশনে বিজেপিকে বিচ্ছিন্ন করতেই এই কৌশলী পদক্ষেপ করছেন সনিয়া।

কংগ্রেস সূত্রের খবর, মমতা-ইয়েচুরি ছাড়াও আমন্ত্রণ গিয়েছে লালুপ্রসাদ, মায়াবতী, মুলায়মের মতো বিজেপি বিরোধী নেতা-নেত্রীদের কাছে। সংসদে বিজেপিকে যাতে এক জোট হয়ে চেপে ধরা যায়, তারজন্য ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা নিয়েছে কংগ্রেস।

কংগ্রেস সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে বিজেপি বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে। কারণ, কংগ্রেস চাইছে গোটা অধিবেশনকেই স্তব্ধ করে রাখতে। সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরিও সংসদের ভিতরে অন্য বিরোধী দলগুলোকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন।

সংসদের উভয় কক্ষ মিলিয়ে প্রায় ৬৫টি বিলে সিলমোহর বসাতে চায় কেন্দ্র। বিরোধী দলগুলো একজোট হলে এই বিলগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে চিন্তায় সরকার পক্ষ।

সুষমা-বসুন্ধরার দুর্নীতি ও ব্যপম-কাণ্ডের প্রেক্ষিতে বাদল অধিবেশনে যে তারা বিরোধীদের প্রবল আক্রমণের মুখে পড়বে, সে বিষয়ে নিশ্চিত বিজেপি। এখন কী ভাবে বিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরানো যায়, সেই কৌশল তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব।

এই রণকৌশলে সরকারের লক্ষ্য জয়ললিতা, মমতা, মুলায়ম, মায়াবতী, নবীন ও শরদ পওয়ারের মতো নেতাদের সমর্থন আদায় করা। অরুণ জেটলিও সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন। একই সঙ্গে গতকাল ব্যপম কাণ্ডের তদন্তের ভার সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার পরেই প্রতি-আক্রমণে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। কেন্দ্র তথা সরকার কী ভাবে অভিযোগ ওঠা মাত্রই যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে, সেই উত্তর দিয়ে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার কৌশল নিয়েছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব।

মুখে এই দাবি করলেও, এর মধ্যে সোনিয়ার ইফতার-রাজনীতির মাধ্যমে সব ক’টি বিরোধী দলকে এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা বিজেপির রক্তচাপ বাড়াতেই পারে। বিজেপি বুঝতে পারছে, যে ভাবে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে, তাতে বিরোধী দলগুলোর পক্ষে সংসদে চুপ থাকা সম্ভব নয়।

সেই আক্রমণের মোকাবিলা কী ভাবে করা হবে, তার ছক কষছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তবে বিজেপির কাছে আপাত স্বস্তির বিষয় হল, আমন্ত্রণ এলেও শেষ পর্যন্ত ওই বৈঠকে সম্ভবত থাকছেন না লালুপ্রসাদ-মুলায়ম বা মায়াবতীরা। যাবেন দলের প্রতিনিধিরা।

একই ছবি তৃণমূল শিবিরেও। আজ তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন দাবি করেছেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও আমন্ত্রণ এসেছে। কিন্তু দলীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি দলের কোনও শীর্ষস্তরের নেতাকে সোনিয়ার ইফতারে পাঠাবেন।’’ সিপিএম সূত্রেও জানা গিয়েছে, সীতারাম ইয়েচুরির পরিবর্তে যাবেন সাংসদ মহম্মদ সেলিম। তাঁকে আলাদা করে নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন সনিয়া।

সাম্প্রতিক সময়ে মমতা ও বিজেপি পারস্পরিক সম্পর্কের অনেক উন্নতি হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে সোনিয়াগান্ধী পক্ষ থেকে মমতাকে আমন্ত্রণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য রাজনীতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও, কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সোনিয়াগান্ধীতথা কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলায় বিশ্বাসী মমতা নিজেও।

ব্যক্তিগত ভাবে রাজীব গান্ধীসঙ্গে ভাল সম্পর্ক থাকার সুবাদে বরাবরই সনিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন মমতা। রাহুল গাঁধী রাজ্যস্তরে একলা চলার নীতি নিলেও, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মমতার সঙ্গে জোটের রাস্তা বন্ধ করতে চাইছেন না সোনিয়াগান্ধী। ইতিমধ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করার পক্ষে সওয়াল করেছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গৌতম দেব। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বাড়বান্ত রুখতে তথা জোটের প্রশ্নে মমতাও যে একেবারে ব্রাত্য নন, ইফতারে আমন্ত্রণ জানিয়ে সেই বার্তাও কৌশলে তৃণমূল নেতৃত্বকে দিয়ে রাখলেন কংগ্রেস সভানেত্রী।



(পরের সংবাদ) »