মেইন ম্যেনু

“মরণ নেশা হিরোইনের প্রবেশে নীল ছোবলে আক্রান্ত যুবরা”

হামিদা আক্তার বারী, ডিমলা (নীলফামারী) থেকে : উত্তরের জেলা নীলফামারীর সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী দেশ ভারতের বেড়াকাঁটা তার সংলগ্ন তিস্তা নদীর অববাহিকায় দেশের শেষ সীমান্তে অবস্থিত ছোট্ট একটি উপজেলা ডিমলা। সর্বত্রই এখন মাদকে সয়লাব।

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রবেশ করছে মরণ নেশা হিরোইনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। ভয়াবহ এসব মাদকের নীল ছোবলে আক্রান্ত এখন ডিমলা উপজেলাসহ যুব সমাজ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদকের এ ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষার প্রচেষ্টা চলছে প্রতিনিয়ত।

কিন্তু তারপরও অসাধু ও ধুরন্তর মাদক ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের এ চেষ্টাকে ব্যর্থ প্রমানিত করে মাদকে সয়লাব করে চলেছে ডিমলা। ধ্বংসের দিকে ঠেঁলে দিচেছ যুব সমাজকে। আর এসব মাদকে আক্রান্ত যুবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। জিরো থেকে হিরো বনে যাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা।

এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঠাকুরগঞ্জ বাজার, ডাঙ্গারহাট সুইপার পট্টি, টুনিরহাট (একটু পশ্চিমে জনৈক্য ব্যক্তির বাড়ী), খগারহাট (হিলিপট মাঠ সংলগ্ন জনৈক্য ব্যক্তির বাড়ী), ভাটিয়া পাড়া (জনৈক্য ব্যক্তির বাড়ী), ডালিয়া ছোটখাতা, বাইশপুকুর, তিস্তা ব্রীজের আশে পাশে ও নুতন বাজার নামক স্থানে, ঝুনাগাছ চাপানী বাজার, বাঘেরপুল, ডিমলা সদরের মেডিকেল মোড় ও তার দক্ষিনে জনৈক্য ব্যক্তির বাড়ী, খোকশার ঘাটসহ আরো বেশ কিছু স্থানে সন্ধা হলে চলে মাদকের ছরাছরি।

এসব নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা ওরফে বাবা, চোলাই মদ, নেশা জাতীয় ইনজেকশন ও নেশা হয় এমন সিরাপ সাথে ট্যাবলেটসহ নানা মাদকদ্রব্য পাওয়া যায় হরহামেশাই। সন্ধা হলেই উল্লেখিত জায়গাগুলিতে চলে মাদকের মহোৎসব।

উপজেলা সদরে এসব মাদক সেবনে বেশী আসক্ত হয়ে পড়েছে এবং পড়ছে তরুন সমাজ। দেশের সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় বর্ডার এলাকা ঠাকুরগঞ্জ, কালিগঞ্জ, ঝাড়শিংহেশ্বর, কিসামতের চর, টাপুরচর, একতার বাজার, ঠ্যাংঝাড়া, বাইশপুকুর, ঝুনাগাছ চাপানী রুটে তিস্তানদী পথে ও বেড়াকাঁটা অতিক্রম করে হিরোইন, মদ, গাঁজা, ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ভারত সীমান্ত থেকে পাঁচার করে এনে দেশের অভ্যন্তরে ঢুকিয়ে দেদারছে ব্যবসা করছে মাদক ব্যবসায়ীরা।

তবে মাদক সেবনকারী নাম প্রকাশে অনৈচ্ছুক বেশকিছু যুবক জানায়, ইদানিং দিনাজপুরের একটি চক্র দশমাইল ভায়া বীরগঞ্জ ভায়া খানসামা উপজেলা দিয়ে নীলসাগর হয়ে ডোমার উপজেলার মধ্যে দিয়ে ডিমলায় ঢুকছে ইয়াবা ওরফে বাবা, গাঁজা ও হিরোইন।

এসব মাদক পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে নুতন নতুন মডেলের ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল। যাতে করে প্রশাসনের সন্দেহের তালিকায় মাদক ব্যবসায়ীরা না আসে। উল্লেখ্য,ডিমলা থানা পুলিশ গত কয়েক মাসে বেশ কিছু মাদক বিক্রেতাকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কারাদন্ড ও জরিমানা করিয়েছন এবং অনেককেই আবার জেল-হাজতেও পাঠিয়েছেন।

সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী ডোমার উপজেলার গোলাম রাব্বানী নামের এক যুবককে হিরোইন বিক্রির অপরাধে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হলে জেল-হাজাতে প্রেরণ করেছেন ডিমলা থানা পুলিশ। কিন্তু এরপরও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রনে আসছে না মাদক ব্যবসায়ীরা। লাগামহীন ভাবে চলছে এ মাদক ব্যবসা।

এ ব্যাপারে ডিমলা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক বিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেককে জরিমানা ও জেল-হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।