মেইন ম্যেনু

মরিচের ঝাঁঝে ধ্বংস হবে ক্যান্সার, দাবি গবেষকদের

শিরোনাম দেখে যে কেউই অবাক হতে পারেন। কিন্তু ক্যান্সার কোষ ধ্বংসে মরিচের কার্যকারিতা খুঁজে পেয়েছেন ভারতীয় এক দল গবেষক। দেশটির চেন্নাইয়ে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (আইআইটি) বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রোস্টেট ক্যান্সারের জন্য দায়ী কোষগুলো ধ্বংসে ভূমিকা রাখায় সক্ষম মরিচের ঝাল উৎপন্নকারী উপাদানগুলো।

বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় দেখা যায়, মরিচের ঝাল সৃষ্টিকারী উপাদান ক্যাপসাইসিন ক্যান্সার কোষ ধ্বংসে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর সুফল পেতে গেলে তা গ্রহণ করতে হবে ইনজেকশন বা পিলের সাহায্যে।

দুই বিশেষজ্ঞ গবেষক অশোক কুমার মিশ্র ও জিতেন্দ্রীয় স্বয়াইন পরীক্ষ করে দেখতে পেয়েছেন, উচ্চমাত্রায় ক্যাপসাইসিন গ্রহণ করা হলে তা ক্যান্সার কোষের ঝিল্লিগুলোকে (মেমব্রেন) আলাদা করে দেয়ার মাধ্যমে আক্রান্ত কোষ ধ্বংস করে দেয়।

প্রায় ১০ বছর আগের এক গবেষণায় দেখা যায়, ইঁদুরের শরীরের স্বাভাবিক কোষের কোনো ক্ষতি না করেই ক্যান্সার কোষগুলোকে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম ক্যাপসাইসিন। কিন্তু মানুষের শরীরে এর প্রভাব তৈরি করতে হলে প্রতিদিন তা খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে।

ভবিষ্যতে নতুন ধরনের ওষুধ তৈরিতে ক্যাপসাইসিনের ভূমিকা ও কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্যই এ গবেষণা কার্যক্রম হাতে নিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। ক্যাপসাইসিনের প্রাকৃতিক গুণাবলি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞরা কোষ ঝিল্লির ওপর এর প্রভাব বের করতে সক্ষম হন।

গবেষণায় দেখা যায়, ক্যাপসাইসিন গ্রহণের পর তা কোষের উপরিভাগের কাছাকাছি এসে জমা হতে থাকে। যথেষ্ট পরিমাণে জমা হলে একসময় তা আক্রান্ত কোষ ঝিল্লিগুলোকে (কোষের ওপর পাতলা আবরণ) আলাদা করে ফেলে। ফলে আক্রান্ত কোষ ধ্বংস হয়ে যায়। গবেষণার ফলাফল ছাপা হয়েছে জার্নাল অব ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রিতে।