মেইন ম্যেনু

মহাকাশের আবর্জনা নিয়ে জানুন এই বিষয়গুলো

আপাতদৃষ্টিতে সমস্যা নয়, অথচ ভবিষ্যতে বড় ধরণের একটা গোলমাল তৈরি করে ফেলতে পারে এমন বিষয়ের কাছ থেকে আপনি দূরেই তো সরে থাকতে চাইবেন, নাকি? কিন্তু তারপরও এমন কিছু সমস্যা আছে যেগুলোকে নিজের হাতে দুধ-কলা দিয়ে কালসাপের মতন পুষে চলেছে মানুষ। বাড়িয়ে তুলেছে প্রতিনিয়ত। আর এমন একটি সমস্যা নাম হল মহাকাশের আবর্জনা। যেগুলোর বেশিরভাগটা তৈরি করেছে মানুষ আর যার ভবিষ্যত ফলাফলটাও ভোগ করতে হবে মানুষকেই। হাস্যকর ব্যাপার হল, এতটা ভয়ানক একটি সমস্যা অথচ এর খোঁজ-খবর রাখতে মোটেই আগ্রহ নেই কারো। এই যে, শুনছেন! আপনাকেই বলছি। যদি মহাকাশের আবর্জনাকে নিয়ে আপনার এতটুকুও মাথাব্যথা থেকে থাকে তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্যেই। জেনে নিন এই আবর্জনাকে নিয়ে কিছু অত্যন্ত প্রয়োজনীয় তথ্য।

১. পৃথিবীর কারাগারে আটক হওয়ার সম্ভাবনা

যদি বর্তমান হারে পৃথিবীর মানুষ মহাকাশে নানারকম গবেষণা ও অভিযানসহ অন্যান্য কারণে আবর্জনা তৈরি করতে থাকে তাহলে সেই দিনটা আর বেশি দূরে নেই যেদিন নতুন করে কোন মহাকাশ অভিযান আর সম্ভবপর হবে না পৃথিবীবাসীর জন্যে। পুরোপুরি আটকে যাবে মানুষ পৃথিবীর ভেতরে। আবর্জনাগুলো উল্কার গতিতে পৃথিবীর ভেতরেও প্রবেশ করতে পারে। এছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে আরো অনেক হয়তো যেগুলো, বিজ্ঞানীদের মতে, আর কয়েক শতকের ভেতরেই নিতে পারে বাস্তব রূপ।

২. সমস্যা দিনকে দিন বাড়বে কেবল

যদিও বিষয়টি খুব কম পরিমাণে ঘটে থাকে, তবু মহাশূন্যে দুটো স্যাটেলাইটের ভেতরে সংঘর্ষ হওয়া বা কোন রকমের কোন সংঘর্ষ ঘটে যাওয়াটা কিন্তু অবাস্তব কিছু নয়। আর এইরকম একটি সংঘর্ষতেই বর্তমান আবর্জনার ঝামেলা বেড়ে যেতে পারে একশ গুণ। কারণ, এক একটি সংঘর্ষে আবর্জনাগুলো টুকরো টুকরো হয়ে যায়। ছোট ছোট ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়ায় সেগুলোকে খুঁজে পাওয়াটা খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাই যত দিন যাবে সংঘর্ষের সম্ভাবনা আর পরিমাণ তত বাড়বে বিধায় এই মহাশূন্যের আবর্জনাজনিত সমস্যাটিও দিনকে দিন কেবল বেড়ে যাবে।

৩. চারকোণা উপগ্রহ তৈরি করে বাড়তি সমস্যা

কিছু কিছু মানবসৃষ্ট উপগ্রহ চারকোণা আকৃতির হয়ে থাকে। যাদেকে বলা হয় কিউব স্যাটেলাইট। সাধারণত, কিউব স্যাটেলাইটের সুবিধা হচ্ছে এটি সোজা ভাষায় কক্ষপথে ছুড়েও ফেলা যায়। এছাড়া এর কাজের প্রক্রিয়া ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও অন্য উপগ্রহগুলোর চাইতে সহজ। কিন্তু কিউব স্যাটেলাইটগুলো এতকিছুর পাশাপাশি কিন্তু অনেকটা অনিয়ন্ত্রণযোগ্যও। নিয়ন্ত্রণ করা যায়না বিধায় সংঘর্ষ আর আবর্জনায় পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে এদের। তাই এরা মহাকাশের জন্যে তৈরি করে বাড়তি সমস্যা।

৪. আবর্জনার শিকার ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন

শুনলে অবাক হবেন যে, এর ভেতরেই ইন্টারন্যাশনাল স্পেশ স্টেশনকে বেশ বাজেভাবে প্রভাবিত করেছে মহাকাশের আবর্জনা। কেবল ২০১৪ সালেই মোট তিনবার নিজেদের স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে আইএসএস এই আবর্জনার জন্যে। তবে কেবল ২০১৪তেই নয়, মাঝে মাঝেই এই ঝামেলা হুট করে চলে আসে। সংঘর্ষ তৈরি হয় বা আবর্জনার স্তূপ এসে আইএসএসের কাজে বাধা দেয়। আর স্থান পরিবর্তনের কারণে সমস্যায় পড়তে হয় নভোচারীদের।