মেইন ম্যেনু

মহাকাশে খুলি সদৃশ্য বস্তুটি আসলে কী?

মহাকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে একটি খুলি সদৃশ্য বস্তু। তবে যেহেতু খুলি সদৃশ্য এই বস্তুটি মহাকাশে মহাকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে, সেহেতু এটি মহাকাশের কোনো বস্তু হওয়ারই কথা।

এবিপি আনন্দের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, খুলি সদৃশ্য এই বস্তুটি আসলে একটি মৃত ধূমকেতু। মহাকাশে ভেসে বেড়ানো এই মৃত ধূমকেতুটি আজ বেরিয়ে যাবে পৃথিবীর কাছ ঘেষে। চাঁদ যতটা দূরে রয়েছে আমাদের গ্রহের, তার দেড় গুণেরও কম দূরত্বে থাকবে মৃত ধূমকেতুটি।

তিন লাখ দুই হাজার মাইল দূর দিয়ে পৃথিবীকে ‘টা টা’ করে বেরিয়ে যাবে এই মৃত ধূমকেতুটি। আবার তিন বছর পর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ফিরে আসবে এটি। তবে ওই সময় তা পৃথিবীর এত কাছে আসবে না। পৃথিবী থেকে থাকবে ২ কোটি ৪০ লাখ মাইল দূরে। যা সূর্য থেকে আমাদের গ্রহের দূরত্বের চার ভাগের এক ভাগ।

নাসা জানিয়েছে, মঙ্গল আর বৃহস্পতি গ্রহের মাঝখানে যে সুবিশাল নক্ষত্রপুঞ্জ রয়েছে, সেখানেই অক্টোবরের ১০ তারিখে এর খোঁজ মিলেছিল। নাম দেওয়া হয়েছিল ‘টিবি-১৪৫’। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে বসানো নাসার ইনফ্রারেড টেলিস্কোপ ফেসিলিটি (আইআরটিএফ)-তেই প্রথম খোঁজ মেলে মহাকাশে ভেসে বেড়ানো এই খুলি সদৃশ্য মৃত ধূমকেতুটির।

প্রথমে এটিকে নক্ষত্রপুঞ্জের আরও এক সদস্য বলেই ভেবেছিলেন নাসার বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এখন তাদের মতে, ওই খুলিটা আসলে একটি মৃত ধূমকেতুর মাথা।

ধূমকেতুটা মরল কীভাবে? – এ প্রসঙ্গে নাসার বিজ্ঞানীরা জানান, বহু কোটি বছর ধরে সূর্যকে চক্কর মারতে মারতে ওই ধূমকেতুটির জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। তখন থেকেই সে মরা ধূমকেতু।

কেননা সূর্যের কাছাকাছি এলেই ধূমকেতুর সর্বনাশ! কাছে এলেই সূর্যের জোরালো অভিকর্ষ বল ধূমকেতুর ভেতরের সব জ্বালানিটুকু শুষে বের করে নেয়। অনেকটা ব্লটিং পেপারের মতো! তাতেই মৃত্যু হয় ধূমকেতুর।