মেইন ম্যেনু

মহাসড়কে অটো চলাচল বন্ধ : যাত্রীদের দুর্ভোগ

মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে সড়ক পরিবহণ ও সেতু বিভাগ সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

শনিবার থেকে মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ কার্যকর হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশের টহলে মহাসড়কে নেই অটোরিকশা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সকাল থেকেই মহাসড়কে যাত্রী সাধারণদের ভিড় লক্ষ করা গেছে।

অপরদিকে সড়ক পরিবহণ ও সেতু বিভাগ কর্তৃক প্রজ্ঞাপন জারিকে গরিবের পেটে লাথি মারার প্রজ্ঞাপন বলে মন্তব্য করছেন অটোরিকশা চালক ও মালিকরা।

জানা যায়, নরসিংদী থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে শিবপুর, পাঁচদোনা, মাধবদী, মরজালে প্রায় পাঁচ শতাধিক অটো প্রতিদিন চলাচল করত। এ সুবাদে প্রতিদিন সাধারণ যাত্রীরাও অতি সহজে যখন-তখন তাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে পারতেন। কিন্তু সড়ক নিরাপত্তা বিধানে মহাসড়কে অটো চলাচল নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করায় বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের। কারণ মহাসড়কে অটোর মতো যখন-তখন লোকাল বাস পাওয়া যায় না। আর এ সুযোগে লোকাল বাসগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এ নিয়ে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে নরসিংদীর সব কটি সিএনজি গ্যাসপাম্প মহাসড়কসংলগ্ন হওয়াতে গ্যাস সংগ্রহ না করতে পেরে লোকাল সড়কগুলোতেও অটো চালাতে পারছেন না চালকরা। এতে করে কয়েক শ অটোচালক বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যার ফলে বেকায়দায় পড়েছেন অটোচালক ও মালিক পক্ষ। আর দুর্ভোগ বেড়েছে যাত্রীদের।

অটো চালকরা জানান, মহাসড়ক ব্যবহার করতে না পেরে অধিকাংশ রিজার্ভ টিপ বন্ধ হয়ে গেছে। লোকাল সড়কে অটোর চাপ থাকায় দিনে তিন চারটির বেশি টিপ পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বর্তমানে যে উপার্জন হচ্ছে তাতে মালিকের প্রতিদিনের জমা ৬০০ টাকা দেওয়ার পর চালকের পারিশ্রমিক থাকছে না।

নরসিংদী-শিবপুর সড়কে অটোচালক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে অটোরিকশা কিনে সরকারের অনুমতি নাম্বার নিয়ে যদি মহাসড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে না পারি, তার চেয়ে দুঃখ আর কি হতে পারে। সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের এ সিদ্ধান্ত গরিবের পেটে লাথি মারা ছাড়া আর কিছুই না।’

পাঁচদোনা-নরসিংদী সড়কে অটোচালক রফিকুল ইসলাম জানান, দৈনিক ৬০০ টাকা অটো মালিককে, ভাড়া, গ্যাস ও মবিল খরচসহ জমা দিতে হয় ১ হাজার টাকা। তার পরে যে টাকা থাকত তা দিয়ে সংসার চালাতেন। কিন্তু এখন মহাসড়ক দিয়ে অটো না চালাতে পারায় তার মালিকের জমা খরচই উঠে আসে না। এখন কি করে চলবে এ চিন্তাই আছেন তিনি।

নরসিংদী-মরজাল সড়কে ভাড়ায় অটোচালক মো. খলিল মিয়া বলেন, ‘কী আর করব ভাই, সরকার আমাদের গরিবের কথা চিন্তা না করে দুর্ঘটনার অজুহাতে মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করেছে। এখন অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালানো দূরের কথা মালিকের জমার টাকাও উঠে আসবে না।’

মহাসড়কে অটো চলাচল কমায় দুর্ঘটনা কমতে পারে এমন মন্তব্য করে আক্তার হোসেন নামে এক যাত্রী অভিযোগ করেন, মহাসড়কে পর্যাপ্ত লোকাল বাস নেই। এরপর অটো চলাচল কমাতে লোকাল যাত্রীদের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।

নরসিংদী ভেলানগর বাজারের পোলট্রি ব্যবসায়ীরা জানান, তারা বড় চিন্তায় পড়েছেন। আগে অল্প মালামাল অটো দিয়ে কাস্টমারের কাছে পাঠাতেন। মহাসড়কে অটো চলাচল বন্ধে ভোগান্তিতে পড়তে হবে এখন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জন সালাউদ্দিন আহম্মেদ জানান, এসব গাড়ি আকারে ছোট। তা ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্করা তা চালাচ্ছে। ফলে অহরহ ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। জানমাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ প্রাণহানির ঘটনা বেড়েছে। ফলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মহাসড়ক থেকে এসব যানবাহন অপসারণ করা হচ্ছে।

অটোরিকশার নরসিংদী জেলা মালিক সমিতির সভাপতি মো. অহিদ মিয়া বলেন, ‘নরসিংদী জেলাটাই ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক বেষ্টিত। জেলার যেকেনো স্থানে যেতে মহাসড়ক পড়বেই। সড়ক বিভাগের এ নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে গেলে অটোরিকশা নিয়ে বাড়িতে বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেয়।’