মেইন ম্যেনু

মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডে ঠাই নেই: উখিয়ায় মহামারি আকারে কোল্ড ডায়রিয়া

উখিয়ায় কোল্ড ডায়রিয়া মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এ রোগে আক্রান্তদের বেশির ভাগ শিশু। হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে জায়গা সংকুলন না হওয়ায় উন্মুক্ত বারান্দায় চলছে চিকিৎসা সেবা। রোগীর অভিভাবকদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে ডায়রিয়া রোগের কোন প্রকার পথ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে না। ডাক্তার, নার্স সংকটের কারণে ঘর ছেড়ে হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েও কোন প্রকার সুফল পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার কথা স্বীকার করে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাবরিনা জানায়, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বেড়ে উঠা শিশুরাই কোল্ড ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গতকাল শনিবার দুপুরে হাসপাতাল ঘুরে রোগীর অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আক্রান্ত রোগীদের যেখানে রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে, তা আরো অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে কর্তব্যরত নার্স স্বরসতী জানায়, মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডে রোগীদের জায়গা সংকুলন না হওয়ার কারণে বারান্দায় রাখা হয়েছে।

এ সময় কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুর অভিভাবক হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য হানিফ আজাদ জানায়, সেলাইন পুশ করার মত কোন নার্স হাসপাতালে নেই। যে কারণে রোগীদের নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে জানান, নবনির্মিত ১৯ শয্যার হাসপাতালটি চালু করার জন্য সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি এ পর্যন্ত ৩ বার নির্দেশ দিয়েছেন হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষকে। তথাপিও উক্ত হাসপাতালটি কেন খোলা হচ্ছে না তা আমার বোধগম্য নহে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গড়ে দৈনিক ৫০/৬০ জন কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসছে। অথচ হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর কোন ঔষধ সামগ্রী নেই। স্বচ্ছল পরিবারগুলো বাহির থেকে ঔষুধ সংগ্রহ করে চিকিৎসা সেবা নিলেও অস্বচ্ছল রোগীদের বিনা চিকিৎসায় হাসপাতাল ত্যাগ করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে মেডিকেল অফিসার ডাঃ সাবরিনা ঔষধ সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাহির থেকে ঔষধ কিনের আনার জন্য রোগীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং হাসপাতালের দায়িত্বরত ইউএনএইচসিআর ও আইএমও কর্তৃক নিয়োগকৃত অদক্ষ নার্সরা সেবা প্রদান করছে।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ রবিউর রহমান রবি অন্যত্রে বদলী হয়ে গেলেও তার স্থলে নতুন করে কোন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যোগদান না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।