মেইন ম্যেনু

মহিলা পুলিশের প্রেমের ফাঁদে পড়ে প্রতারক যুবক শ্রীঘরে

কখনো ছাত্র, কখনো ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, কখনো পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর পদে চাকুরী প্রার্থী, কখনো বা এতিম পরিচয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা। এমনিভাবেই এক মহিলার নিকট থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়েছে প্রতারক সাগর ওরফে দিলীপ ওরফে সুদিপ্ত (৩০)। নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে শনিবার বিকালে এক মহিলা পুলিশের পাতা প্রেমের জালে আটকা পড়ে এখন শ্রীঘরে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল গ্রামে।

বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: জাহিদুল ইসলাম পিপিএম জানান, কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার পদ্মবিলা গ্রামের দুলাল বিশ্বাসের ছেলে সাগর ওরফে দিলীপ ওরফে সুদিপ্ত বিশ্বাস রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল বাজারে এসে স্বর্ণের কাজ শুরু করে। সেখানে অবস্থানকালে তার পাংশা, ঢাকার সাভারে বাড়ি রয়েছে ও সে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র এবং তার মা নেই, তাদের বাড়িঘর সব দখল করে নিয়েছে তার চাচারা- এরকম নানা কথা বলে।

এরই মধ্যেই জঙ্গল গ্রামের এক মহিলার সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে তাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর ওই মহিলার নিকট থেকে পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর পদে চাকরির করার কথা বলে ৮ লাখ টাকা, বিভিন্ন অজুহাতে এভাবে অর্থ হাতাতে থাকে।

২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর তার স্ত্রীকে জানায়, তাকে জঙ্গল ইউনিয়নের ঢোলজানী এলাকা থেকে অপহরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন মোবাইল ফোনের সিম ব্যবহার করে মুক্তিপন হিসাবে নিজেই স্ত্রীর কাছ থেকে অর্থ হাতাতে থাকে।
এব্যাপারে জঙ্গলের ওই স্ত্রী বাদি হয়ে গতকাল শুক্রবার বালিয়াকান্দি থানায় একটি মামলা করে।

বালিয়াকান্দি থানার এস,আই জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্যা মামলার তদন্ত ভার গ্রহন করে ব্যাপক অনুসন্ধান চালায়। তাতেও কোন কাজ না হওয়ায় বালিয়াকান্দি থানার মহিলা পুলিশ কনস্টেবল শিরিনের মাধ্যমে প্রেমের জাল পাতে। এ জালে অবশেষে আজ শনিবার বিকালে তাকে পাংশা একটি হোটেলে এনে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর সাগর ওরফে দিলীপ ওরফে সুদিপ্ত এ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে।

সাগর জানায়, তার পিতা একজন কাঠমিস্ত্রি। সে নিজে স্বর্ণের কাজ করে। তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। তার এক সন্তান রয়েছে। সে লোভের বশবর্তী হয়ে টাকার জন্য বিয়ে, চাকরি, অপহরণ নাটক করেছে। তার সাথে কোনো লোক নেই, নিজেই বিভিন্ন মোবাইলের সিম ব্যবহার করেছে বলেও জানায় সে।

প্রতারণার শিকার ওই মহিলা জানান, সে বিভিন্ন সময় পুলিশের চাকরি, চাচাদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ, অপহরণের শিকার হয়েছেসহ বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সে সাগরের বিচার দাবি করেছে। যাতে তার মতো আর কেউ প্রতারণার শিকার না হয়।

বালিয়াকান্দি থানার এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্যা জানান, থানার অফিসার ইনচার্জ মো: জাহিদুল ইসলামের সহযোগিতায় প্রতারক সাগর ওরফে দিলীপ ওরফে সুদিপ্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার তাকে রাজবাড়ী আদালতে সোপর্দ করা হবে।