মেইন ম্যেনু

মাকেও আত্মহত্যার কথা বলেছিলেন সাবিরা

মা নিশাদ কাদের সিমিকে আত্মহত্যার কথা আগেই জানিয়েছিলেন মডেল সাবিরা হোসাইন।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রূপনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আখতারুজ্জামান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে আখতারুজ্জামান বলেন, ঘটনার আগে সাবিরা তার মাকে মোবাইলে ফোন করে আত্মহত্যার কথায় জানায়। তিনি মাকে বলেন, ‘আমি আত্মহত্যা করব।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে মা সাবিরাকে বলেন, ‘আত্মহত্যা করার আগে নিজের কুলখানিটা করে রেখে যা।’

ওসি আরো বলেন, ‘সাবিরার কথা শুনে মা মনে করেছিলেন, সাবিরা মজা করছে। সে যে আত্মহত্যা করবেন তা মা ভাবতে পারেননি।’

এর আগে সাবিরার মামা মর্তুজা কবির অভিযোগ করেন, সাবিরা হোসাইনকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই মডেলিংয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল সাবিরার। পারিবারিক কারণে সে বাবা-মার কাছ থেকে দূরে ছিল। মডেলিং করতে গিয়ে নির্ঝরের (নির্ঝর সিনহা রওনক) সঙ্গে তার পরিচয় এবং প্রেমের সম্পর্ক হয়। তারা একাধিক জায়গায় ঘোরাফেরাও করে। ২ থেকে ৩ বছর হলো তাদের মধ্যে সম্পর্ক হয়। এরই মধ্যে নির্ঝর সাবিরাকে বিয়ে করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এজন্য তার সঙ্গে থেকেছে। কিন্তু কয়েক দিন আগে থেকে নির্ঝর সাবিরাকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে বলে সাবিরা মৃত্যুর আগে বলে গেছে।

পুলিশ জানায়, সাবিরার বয়স যখন সাড়ে ৩ বছর, তখন তার মা নিশাদ কাদের সিমি এবং বাবা মনির হোসেনের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। মনির দুবাই চলে যান। সিমি আলাদা সংসার পাতেন। তদন্তের স্বার্থে এসব বিষয় আমলে নেওয়া হয়েছে।

ওসি আখতারুজ্জামান বলেন, সাবিরা মারা যাওয়ার সময় যাদের নাম বলেছেন তাদের গ্রেপ্তার করে আইনে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণও বের হয়ে গেছে। এখন চার্জশিট দেওয়ার বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা চলছে।

তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে সাবিরার ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। মৃত্যুর আগে কিছু খেয়েছিলেন কি না সেটা দেখতে হবে। এক্ষেত্রে মামলার মোটিভ ঘুরেও যেতে পারে।

সাবিরার স্বজনরা বলছেন, সাবিরা আত্মহত্যা করলেও এর পেছনে অবশ্যই কোনো কারণ আছে। যাদের কারণে আত্মহত্যা করেছে তাদের শাস্তির দাবি করেন তারা।

মঙ্গলবার সকালে মিরপুরের রূপনগরের একটি বাসা থেকে সাবিরার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে মামলা করেন। পুলিশ নির্ঝর ও তার ভাই প্রত্যয়কে গ্রেপ্তার করে।