মেইন ম্যেনু

মাকে এভাবে নিয়ে যেও না…

নারায়ণগঞ্জ: ‘আমার মাকে এভাবে নিয়ে যেও না। আমাকে একটু দেখতে দাও। আপনারা আমাকে ছেড়ে দিন। মাকে দেখতে দিন। এভাবে মাকে নিয়ে যাবেন না…।’

স্বজনদের কাছে এভাবেই আকুতি জানাচ্ছিল কলেজছাত্রী মারুফা ইসলাম বুশরা। বিলাপ করে বুশরা আরো বলতে থাকে, ‘আর কখনোই মা আমাকে বলবে না, কই তুই এখনও রেডি হসনি?’

শনিবার (১৪ মে) বিকেল ৪টার দিকে মায়ের সঙ্গে রিকশায় করে কোচিংয়ে যাচ্ছিল বুশরা। নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া গোলচত্বর এলাকায় পৌঁছিলে সুতা বহনকারী একটি কাভার্ড ভ্যান তাদের রিকশাকে ধাক্কা দেয়। এসময় মা সামছুর নাহার (৫০) ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আঘাতপ্রাপ্ত হয় বুশরা (১৭)।

চোখের সামনে মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর দৃশ্য দেখে উন্মাদের মতো আচরণ করতে থাকে মেয়ে বুশরা। কয়েকবার সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে পথচারী ও স্বজনরা গিয়ে তাকে সান্ত্বনা দেয়। নিহত সামছুন নাহার ফতুল্লা পূর্ব ইসদ্রাইরের রসুলবাগ এলাকার শফিকুল ইসলাম খোকনের স্ত্রী।

শফিকুল ইসলাম খোকন জানান, কিছুদিন পর তার মেয়ে বুশরার পরীক্ষা। বিকেলে মেয়েকে নিয়ে কোচিংয়ে যাচ্ছিলো তার স্ত্রী। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন চাষাঢ়া মোড়ে কার্ভাড ভ্যানের ধাক্কায় স্ত্রী মারা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কাজী এনামুল হক জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় সামছুর নাহার ঘটনাস্থলেই মারা যান।

চাষাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন জানান, গাজীপুর এলাকার সুতাবাহী একটি কার্ভাড ভ্যান (গাজীপুর-ট ১১-০০৩০) বিসিক যাচ্ছিলো। ওইসময় চাষাড়া মোড়ে যাত্রীসহ রিকশাকে ধাক্কা দেয়। সে সময় রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে মা সামছুর নাহার ও তার মেয়ে আহত হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা সামছুর নাহারকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসআই আলমগীর আরো বলেন, ‘কাভার্ড ভ্যানের চালক মোস্তাফিজুর (২৮) ও হেলপার মহিদুলকে (২৯) আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’



« (পূর্বের সংবাদ)