মেইন ম্যেনু

মাগুরায় জমে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট

মোঃ কাসেমুর রহমান শ্রাবণ, মাগুরা প্রতিনিধিঃ মাগুরায় শেষ সময় জমে উঠেছে কোরবাণীর পশুর হাট। প্রতিটি হাটে উঠছে ছোট-বড় মাঝারী সাইজের হাজার-হাজার গরু ছাগল। তবে দাম নিয়ে খুশি নয় কোন পক্ষই।

ক্রেতারা বলছেন, দাম বেশী। বিক্রেতা ও খামারীরা বলছেন, ভারত থেকে গরু আসায় তারা উপর্যুক্ত দাম পাচ্ছেন না। যে কারনে লোকশানের মুখে পড়েছেন তারা। তবে স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যাপারীদের কাছে চাহিদার সৃষ্টি করেছে গৃহস্থদের পালা স্বাস্থ্য সম্মত দেশী জাতের গরু। যা স্থানীয় পশু হাটগুলোতে সকলের কাছে ‘টাইট গুরু’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে মাগুরা বিভিন্ন এলাকায় বসেছে গরুর হাট। তবে সদরের রামনগর, কাটাখালী, ইটখোলা বাজার, আলমখালী, শত্রুজিৎপুর, মহম্মদপুরের বেথুলিয়া, বেথুলিয়া, নহাটা, শালিখার আড়পাড়া, সীমাখালী, বুনাগাতী ও শ্রীপুর উপজেলার লাঙ্গলবাধ, সারঙ্গদিয়ায় বসেছে জেলার বড়- বড় কোরবানীর গরুর হাট। এসব হাটে উঠেছে ছোট-বড় সাইজের বিভিন্ন জাতের হাজার-হাজার গরু। সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি ব্যাপারীদের নজর কেড়েছে গৃহস্থদের পালা মাঝারী সাইজের ক্যামিকেল মুক্ত দেশী গরু। মাগুরার পশু হাটগুলো যা পরিচিতি পেয়েছে টাইট গরু হিসেবে।

রামনগর, কাটাখালী, ইটখোলা বাজার পশু হাট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে থাকা এধরনের টাইট গরু ৪০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোরবানীর জন্য কিনতে আসা অধিকাংশ ক্রেতাকেই দেখা গেছে এ ধরনের গরু কিনে বাড়ি ফিরতে।

মাগুরা হাসপাতাল পাড়া এলাকার মুন্না হাসান জানান, তিনি কাটাখালী হাট থেকে ৫৬ হাজার টাকায় গৃহস্থতর পালা একটি টাইট গরু কিনেছেন। দাম একটু বেশি মনে হলেও কেমিক্যাল মুক্ত স্বাস্থ্য সম্মত গরু কিনতে পেরে তিনি খুশি। জগদল এলাকা সাইফুল ইসলাম জানান, তার পালা মাঝারী সাইজের দুইটি টাইট গরু কাটাখালী হাটে এনে প্রথম দিনেই বিক্রি করতে পেরেছেন। তবে গুরুর খাবারের দাম বেশি হওয়ায় তিনি বেশি লাভ করতে পারেনি বলে জানান।

সাইদুর রহমান নামে এক ব্যাপারী বলেন, বাইরের জেলাগুলোতে মাগুরার ক্যামিকেল মুক্ত মাঝারী সাইজের গরু ব্যাপক চাহিদা। তিনি কাটাখালী রামনগর হাট থেকে এ ধরনের ২০ টি গুরু কিনেছেন। যা সিলেট নিয়ে বিক্রি করে লাভবান হবেন বলে জানান।

তবে হাটগুলোতে বড় সাইজের গরু নিয়ে আসা খামারীরা পড়েছেন বিপাকে। বেশি দামের অজুহাতে ক্রেতারা এ ধরনের বড় গরুর কাছে ভিড়ছেন না। খামারীরা বলছেন, ভারত থেকে গরু আসায় তারা বিপাকে পড়েছেন। কারণ খাবারের উচ্চ মূল্যর কারনে গরু প্রস্তুত করতে তাদের যে খরচ হয়েছে সে দামে গরু বিক্রি হচ্ছে না।

রামনগর, কাটাখালী হাট ইজারাদার নূরে আলম সিদ্দিকী দিপু জানান, ৪০ থেকে ৬০-৭০ হাজার টাকা দামে মাঝারি সাইজের দেশী গরু বেশি বিক্রি হচ্ছে। বড় সাইজের গরুর চাহিদা কম। তবে দুই-একদিনের মধ্যে সব ধরনের গরু চাহিদা বাড়বে। বিক্রিও আরো জমজমাট হবে বলে তিনি আশা করছেন।