মেইন ম্যেনু

মাছরাঙার আশ্চর্য ছানা

পাখিটা সারা দেশে দেখা যায়। যেখানে একটু পানি আছে সেখানেই আছে এই মাছ রাঙা। দেখতে খুব শান্ত-শিষ্ট। যেনো ভাজা মাছটিও উল্টে খেতে জানে না। তবে পাখিটি কিন্তু মাছ ধরতে ওস্তাদ।

জলাশায়ের ধারে খুঁটিতে কিংবা ছোট গাছের ডালে বসে থাকে। একেবারে চুপচাপ। হঠাৎ তীরবেগে ঝাঁপিয়ে পড়ে পানিতে। ডুব দিয়ে পানির বেশ গভীর পর্যন্ত চলে যেতে পারে। একটা মাছ ধরে আবার উপরে উঠে আসে। উড়ে গিয়ে বসে অন্য কোনো খুঁটিতে।

অন্য মাছ-শিকারি পাখিদের চেয়ে এদের কায়দাটা আলাদা। পানকৌড়ি, বুনোহাঁস এরা সাঁতার কাটতে পারে। সাঁতরে-ডুব দিয়ে মাছ ধরে। কিন্তু মাছরাঙা সাঁতার জানে না। পানিতে ডাইভ দেওয়ার সময় ডানা ও পা দুটো লেজের সাথে গুটিয়ে রাখে।

ধলা গলা মাছরাঙা কিন্তু শুধুই মাছ শিকার করে না। নানা রকম পোকা মাকড়, ঝিঁঝিপোকা, গুবরে পোকা, পঙ্গপাল, ডানা ওয়ালা উইপোকাও খায়। ব্যাঙ, টিকটিকি, ইঁদুরের বাচ্চাও শিকার করে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর পাখিদের একটা হলো এই ধলা গলা মাছরাঙা। এদের মাথা ও ঘাড় চকলেট রঙের। পিঠ ও লেজ উজ্জ্বল নীল রঙের। থুতনি, গলা ও বুকের মাঝ পর্যন্ত সাদা। এজন্য এদের নাম ধলা গলা মাছরাঙা। পায়ের রঙ ও ঠোঁট লালচে। শরীরের তুলনায় ঠোঁট বেশ বড়। ঠোঁটের শেষ প্রান্ত থেকে লেজের শেষ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ২৮ সেন্টিমিটার। ঠোঁট ৬ সেন্টিমিটার লম্বা।

বসন্তের শেষভাগ এদের বাসা বাঁধার সময়। তখনই সাধারণত স্ত্রী ও পুরুষ মাছরাঙা জোড়া বাঁধে। তারপর বাসা বানায়। এদের বাসা অন্য পাখিদের চেয়ে আলাদা। এরা শুকনো পাতা কিংবা খড় কুটো দিয়ে বাসা বানায় না। খাল, নদী, পুকুর কিংবা গর্তের খাড়া পাড়ে গর্ত করে। তার ভেতর ডিম পাড়ে। এক বারে ৪-৭টি ডিমপাড়ে। ডিমের রঙ সাদা। ডিম এক ইঞ্চির চেয়ে সামান্য লম্বা। এদের প্রধান শত্রু সাপ। সুযোগ পেলেই সাপ এদের বাসায় ঢুকে ডিম ও ছানা খেয়ে ফেলে।

মাছরাঙার ছানাকে খাওয়ানোর বিষয়টা কিন্তু ভারী মজার। এদের গর্ত বেশ গভীর। ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। মা মাছরাঙা মুখে করে মাছ নিয়ে যায় গর্তে। অন্ধকারের কারণে ছানাকে দেখতে পায় না। যে ছানাটা গর্তের ‍মুখে বসে থাকে সেই খাবার পায়। এতে কিন্তু বারবার একই ছানা খাবার খেয়ে ফেলতে পারে। কিন্তু মাছরাঙার ছানারা ভারী ভদ্র। ভাইবোনের খাবার একা খায় না। প্রথম ছানাটা খাবার নিয়েই বাসার বাম দিকে সরে যায়। তখন আরেকটা ছানা এসে বাসার মুখে বসে। এভাবে প্রতিটা ছানা একে একে সমান খাবার পায়।

বাংলাদেশে বেশ কয়েক জাতের মাছরাঙা আছে। এর মধ্যে ধলা গলা মাছরাঙাই সবচেয়ে সুন্দর। ধলাগলা মাছরাঙার ইংরেজি নাম : White-throated Kingfisher. বৈজ্ঞানিক নাম :Halcyonsmyrnensis.