মেইন ম্যেনু

মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়ার এই কারণ জানেন কি?

মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার বেশীরভাগ কারণ খারাপ স্বপ্ন দেখা। অথবা রাত্রে ঝুম বৃষ্টি শুরু হলে ঘুমের মাঝে পড়ে ছেদ। কিন্তু আপনি হয়তো খেয়াল করছেন কোনো কারণ ছাড়াই মাঝরাতে আপনার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে, এমনটা হলে নিজের শরীর ও স্বাস্থ্যের দিকে একটু মনোযোগ দিন আর দেখুন এসব কারণ দায়ী কিনা। কারণ রাত্রে নিরবচ্ছিন্ন ঘুম হওয়াটা সব বয়সের মানুষের জন্যই জরুরী।
শিশু বা তরুণ বয়সে টানা ৮ ঘণ্টা ঘুমাই আমরা। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক হবার পর রাত্রে এক-দুইবার ঘুম ভাঙ্গে আমাদের এবং আমরা অনেক ক্ষেত্রেই সাথে সাথে আবার ঘুমিয়ে পড়ি, সকালে আর মনেও থাকে না যা ঘুম ভেঙ্গেছিলো। কিন্তু আপনার ঘুম ভাঙার পর যদি আর ঘুমিয়ে পড়তে না পারেন, তাহলে তা সমস্যা বটে। দেখে নিন কী কী কারণে ঘুমের এমন সমস্যা হতে পারে।

১. উষ্ণ ঘর
রুম টেম্পারেচারের সাথে ঘুমের মানের বড় সম্পর্ক আছে। ঘুম হবার জন্য ঘরের তাপমাত্রা কম হওয়া জরুরী। বেশি গরম ঘরে ঘুম আসতে দেরি হবে এবং ভালো ঘুম হবার সম্ভাবনা কম। ঘুম ভেঙ্গে যাবার সম্ভাবনাও বেশি। একেক মানুষের জন্য একেক টেম্পারেচার উপকারী তাই আপনি নিজেই এক্সপেরিমেন্ট করে দেখতে পারেন। তবে নিজের শরীরের চাইতে একটু কম তাপমাত্রাই ঘুমের জন্য ভালো।

২. শক্ত বিছানা
আমরা অনেকেই ভাবি শক্ত বিছানা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কিন্তু খুব বেশি শক্ত বিছানা আবার ঘুমের জন্য ভালো নয়। এগুলো আমাদের কোমর এবং কাঁধে চাপের সৃষ্টি করে এবং পিঠের নিচের দিকে ব্যথা তৈরি করতে পারে। ফলে আপনার শান্তির ঘুম হয় না। আপনার শরীরের জন্য আরামদায়ক, এমন একটি ম্যাট্রেস বেছে নিন।

৩. রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম
এটা মূলত প্রতি দশজন আমেরিকানের মাঝে একজনের হয় থাকে। তবে আপনিও হয়তো এই অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। অনেক সময়ে ঘুমের মাঝে পা নাড়ানোর ঝোঁক হতে পারে। পা নিজের অজান্তেই নাড়ানোর কারণে ঘুম ভেঙ্গে যেতে পারে। আপনি যদি অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করে তাহলে এই সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে।

৪. আপনার স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে অথচ আপনি জানেন না
স্লিপ অ্যাপনিয়া সমস্যার কারণে অনেকেই ঘুমাতে পারেন না। আপনারও হয়তো এই সমস্যাটি আছে অথচ আপনি জানেন না। এই সমস্যার পাশাপাশি থাকতে পারে জোরে জোরে নাক ডাকা, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসা। এই সমস্যা থেকে আপনার মস্তিষ্ক আপনাকে জাগিয়ে তোলে। আপনি বা আপনার শয্যাসঙ্গী যদি জানতে পারেন আপনার নাক ডাকা ও নিঃশ্বাসে সমস্যা হচ্ছে তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

৫. আপনি অনেক স্ট্রেসে আছেন
অনেকেই স্ট্রেসে থাকার কারণে ঘুমাতে পারেন না। ঘুমালেও তাদের ঘুম সহজেই ভেঙ্গে যেতে পারে স্ট্রেসের কারণে। এর জন্য দিনের বেলায় একটু করে ব্যায়াম করতে পারেন, ল্যাভেন্ডার অয়েলের সুগন্ধি রাখতে পারেন ঘরে। এই স্ট্রেস দূর করতে পারলে ঘুম আসবে সহজে।

৬. ত্বক জ্বালাপোড়া ও চুলকানি
একজিমার মতো ত্বকের সমস্যাগুলো ঘুমের ব্যঘাত ঘটাতে পারে। একজিমার ফলে ইমিউন সিস্টেমে পরিবর্তন আসে এবং ইনফ্ল্যামেশনের কারণে রোগীর ঘুম ঠিকমতো হয় না। একজিমার রোগীদের চুলকানি সন্ধ্যা থেকে বাড়তে থাকে। ফলে তারা সহজে ঘুমাতে পারেন না এবং ঘন ঘন ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। এমন সমস্যা আপনারও হয়ে থাকলে ডাক্তারের সাথে কথা বলে সমাধানের ব্যাপারে জেনে নিন।

এ সমস্যা দূর করতে যা করনীয়-
♦ শুয়ে থেকেও যদি ঘুম না আসে, তাহলে একটু হাঁটাচলা করুন, স্ট্রেচ করতে পারেন। নিজেকে রিল্যাক্স করুন, এরপর আবার বিছানায় যান

♦ ফোন বা ট্যাবলেট বেডরুম থেকে বের করে দিন

♦ পোষা প্রাণীকে বেডরুমে রাখবেন না