মেইন ম্যেনু

মাঝ আকাশে গোলযোগ, তারপর ইউনাইটেডের ‘হয়রানি’

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালা লামপুরগামী ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের একটি বিমান ‘আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটিতে’ পড়ে ঢাকায় ফিরে আসায় দুর্ভোগে পড়েছেন ১৭০ জন যাত্রী।

মঙ্গলবার রাতে সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ত্রিশ হাজার ফুট ওপরে থাকা অবস্থায় ওই ত্রুটি দেখা দেওয়ার কথা বলা হয় বলে জানিয়েছেন একাধিক যাত্রী।

যাত্রীরা বলছেন, বুধবার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদেরকে উত্তরার একটি হোটেলে পৌঁছে দেওয়া হয়। তারপর তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখা হয়নি।

তারা যেসব এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট কিনেছিলেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে ওই হোটেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। আগামী তিন-চার দিন ইউনাইটেডের কোনো ফ্লাইট চলবে না বলেও বলা হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে দুপুরে হোটেলটি ছেড়েছেন তারা।

বেসরকারি বিমান কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বলছে, যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার অভিযোগ সঠিক নয়। বিমানটিতে কোন ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল তা বুধবার বিকাল পর্যন্ত পরিষ্কার হওয়া যায়নি।

ফ্লাইটের যাত্রী ব্যবসায়ী আবরার হোসেন বুধবার বলেন, “গতকাল রাত ১১টার দিকে আমাদের ফ্লাইট ছিল। প্রায় ২০ মিনিট লেট করে তা ছাড়ে। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পরে হঠাৎ প্লেনের ভেতরে বিকট শব্দ শুরু হয়।

“আমাদের বলা হল, যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে, প্লেন হঠাৎ করে বেশ খানিকটা নিচে নেমে যায়।আমাদের সবাইকে অক্সিজেন মাস্ক দেওয়া হল। এর প্রায় ১৫ মিনিট পর আমরা পুনরায় ঢাকায় শাহজালাল বিমানবন্দরে ল্যান্ড করলাম।”

আরেক যাত্রী তারিক আলি বলেন, “বিমান দুর্ঘটনার বিষয়টা এতদিন পত্রিকায় পড়েছি বা টেলিভিশনে দেখেছি। গতকাল বুঝতে পারলাম, এটা আসলে কত ভয়ানক ব্যাপার।

“মহিলারা খুব ভয় পাচ্ছিল, শিশুরা কান্নাকাটি করছিল … আমরা এক মনে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করছিলাম।”

ব্যবসায়ী আবরার বলেন, “রাত ১২টার দিকে বিমানবন্দরে নামার পর থেকে ভোর পর্যন্ত আমরা বিমানবন্দরেই ছিলাম। ৫টার দিকে আমাদেরকে উত্তরার একটি হোটেলে নেওয়া হয়। দুপুর ১২টার দিকে জানতে পারি, হোটেল ছাড়তে হবে।

“হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, আমরা যেসব এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট কিনেছি, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। আগামী তিন-চার দিন ইউনাইটেডের কোনো ফ্লাইট চলবে না।”

হোটেলে পৌঁছে দেওয়া ছাড়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার যোগাযোগ রাখেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের জিএম (গ্রাউন্ডস) আজিজুল ইসলাম বলেন, “যাত্রীদের কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখা হয়নি- এ তথ্য সঠিক নয়। হোটেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমরা যাত্রীদের পরবর্তী করণীয় জানিয়েছি।”

যান্ত্রিক ত্রুটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ইঞ্জিনে ত্রুটির কারণেই জরুরি অবতরণ করতে হয়। তবে কী ধরনের ত্রুটি তা এখনও জানা যায়নি; ইঞ্জিনিয়াররা চেষ্ঠা চালাচ্ছেন।”

আগামী তিন-চার দিন ফ্লাইট কেন চলবে না- জানতে চাইলে তার কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানান ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের এই কর্মকর্তা।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ২০০৫ সালে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে বিমান পরিচালনা করার লাইসেন্স দেয়। তার দুই বছর পর যাত্রী পরিবহন শুরু করে বিমান সংস্থাটি।

ইউনাইটেডের বহরে রয়েছে একটি ড্যাশ-৮, তিনটি এটিআর-৭২, পাঁচটি এমডি-৮৩ এবং দুটি এয়ারবাস-৩১০ সহ মোট ১১টি উড়োজাহাজ।

বৈমানিকদের ধর্মঘটের কারণে গত বছরের এপ্রিলে তিনদিন ইউনাইটেডের ফ্লাইট বন্ধ থাকে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।বিডিনিউজ২৪