মেইন ম্যেনু

মাঠেই হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু ফুটবলারের

মাঠের মধ্যে হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু বরণ করলেন ক্যমেরুনের এক ফুটবলার। রুমানিয়ান ক্লাব ডায়নামো বুখারেস্টের হয়ে খেলছিলেন প্যাটট্রিক একেঙ নামের এই ক্যমেরুনিয়ান ফুটবলার। রুমানিয়ার ফাস্ট ডিভিশন ফুটবল লিগে ভিটোরালের বিপক্ষে খেলছিলেন তিনি।

২৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারকে ম্যাচের ৬৩ মিনিটের সময় মাঠে নামানো হয় পরিবর্তিত হিসেবে। ৭০ মিনিটের মাথায় হঠাৎ মাঠের মধ্যে পড়ে যান তিনি। কার সঙ্গে ধাক্কাও লাগেনি কিংবা কেউ তাকে ট্যাকলও করেনি। হঠাৎ তার এই পড়ে যাওয়াতে সবাই ছুটে আসে প্যাট্রিকের কাছে।

সঙ্গে সঙ্গেই তাকে ড্রেসিং রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। ক্লাবের ডাক্তার চেষ্টা করেন তার জ্ঞান ফেরানোর। এরপর নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টাতেও যখন কোন সাড়া মেলেনি, তখন ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ঘোষণা করেন প্যাটট্রিক একেঙ মাঠেই যখন পড়ে গিয়েছিলেন, তখনই হার্ট অ্যাকাট করেন এবং ইতিমধ্যে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি।

রুমানিয়ান ক্লাব ডায়নামো বুখারেস্টে গত জানুয়ারিতেই যোগ দিয়েছিলেন ক্যামেরুনিয়ান এই ফুটবলার। এরপর থেকেই নিয়মিত সদস্য ছিলেন তিনি ক্লাবটির। মাঠে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ার পর ক্লাব ডাক্তারদের চেষ্টার কথা জানিয়ে ডায়নামো বুখারেস্টের ডাক্তার লিভিডু ব্যাটিনেনু জানান, ‘আমরা প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করি তার হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনার জন্য। কিন্তু আমাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে পরপারে পাড়ি জমনালেণ তিনি।’

প্যাটট্রিক একেঙ-এর মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালের বাইরে জড়ো হয় হাজার হাজার ডায়নামো বুখারেস্ট সমর্থক। সবারই মুখ মলিন। কেউই বিশ্বাস করতে পারছে না এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা। ক্লাবের নির্বাহী পরিচালক লোনেল ড্যানকিউলেসকু এমন মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান হয়ে গেলেন। কারণ, এই ক্লাবের হয়ে খেলতে গিয়ে ২০০০ সালে ক্যাটালিন হেলডেনও মাঠের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। এটা একটা দুঃস্বপ্নের মতো। আমার জন্য এবং আমার দলের জন্য এমনকি ডায়নামোর সকল সমর্থকের জন্য এটা দুঃখজনক একটি ঘটনা। আমরা এই ঘটনায় খুবই মর্মাহত।’

প্যাটট্রিক একেঙের আগে তারই স্বদেশি মার্ক ভিভিয়ান ফো মৃত্যু বরণ করেছিলেন ফ্রান্সের লিওঁতে ২০০৩ সালে কনফেডারেশন কাপ খেলতে গিয়ে। মাত্রই কিছুদিন আগে মাঠের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বেলজিয়ান ক্লাব লোকেরিনের ডিফেন্ডার জর্জ মার্টেন্স। ২০১৫ সালের এপ্রিলে ঘটে এ ঘটনাটি।

ক্যমেরুন জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক স্টিফেন এমবিয়া টুইট করে শোক প্রকাশ করেন, ‘আমাদের ক্যমেরুন ফুটবল পরিবার তাদের এক ভাইকে হারিয়ে ফেলেছে। আমি বিশ্বাসিই করতে পারছি না। তার পরিবারের জন্য সমবেদনা। শান্তিতে থাকো প্যাটট্রিক।’ স্প্যানিশ ক্লাব কর্ডোভাও টুইট করে তাদের শোকের কথা জানিয়েছে একইভাবে।