মেইন ম্যেনু

মাঠ ছাড়ছে না আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা

মোঃ ফজলে আলম, ভোলা থেকে: আসন্ন প্রথম দফা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদ প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠ ছাড়ছেন। দলীয় চাপে এবং হামলা-মামলার ভয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় এসব বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদ প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে যাচ্ছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলার অধিকাংশ বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদ প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেছেন। যারা এখনো মাঠে রয়েছেন তাদের ওপরও দলীয় বিভিন্ন চাপ অব্যাহত রয়েছে। দলের চাপে অনেকে আবার নির্বাচনী মাঠে নিস্ক্রিয় হয়ে গেছেন। তারা তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম অনেকটা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের ঘরে হঠাৎ করে জ্বলে ওঠা বিদ্রোহের আগুন যেন ক্রমেই নিভে যাচ্ছে।

ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী জহিরুল ইসলাম নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেছেন ।

পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী জহিরুল ইসলাম বলেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আমি এ ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি। আনারস প্রতীক নিয়ে এতদিন আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় প্রচারনা চালিয়েছি। কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ভালোবেসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপির নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে এবং নৌকা প্রতীকের বিজয়ের স্বর্থে আমি নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাড়িয়েছি। অনেকটা একইভাবে প্রকাশ্যে ঘোষনা দিয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুব লীগের সহ সভাপতি আলাউদ্দিন সর্দারও (আনারস প্রতীক) নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেছেন।

তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরহানগঞ্জ বাজারে এক নির্বাচনী উঠোন বৈঠকে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষনা দিয়ে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। ওই বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপির ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাউনুল হোসেন বিপ্লব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জসিমউদ্দিন হায়দার, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান মহব্বত জান চৌধুরী, আওয়ামী লীগদলীয় চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী নাগর হাওলাদারসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চেয়ারম্যান প্রার্থী আলাউদ্দিন সর্দার বলেন, নির্বাচনী মাঠে হামলা-মামলার ভয়ে তিনি নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এর আগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপে ভোলা ৮ নম্বর আলীনগর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহিদুল হক শুভ (আনারস প্রতিক) ও তার স্ত্রী সানজিদা হক ( টেলিফোন প্রতিক) নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়েছেন।

মনোনয়নপত্র দাখিল করেও দলীয় চাপে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাদা তালুকদারসহ অনেকেই। আওয়ামী লীগের যেসব বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা এখনো মাঠে রয়েছেন তাদেরকেও নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। দলের চাপে অনেকে আবার নির্বাচনী মাঠে নিস্ক্রিয় রয়েছেন। তারা তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম অনেকটা বন্ধ করে দিয়েছেন বলেও দলীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সংখ্যা ততই কমে আসছে।