মেইন ম্যেনু

মাত্র ৬০ রানেই অলআউট অস্ট্রেলিয়া, তাও আবার টেস্টে !

টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করার হাতছানি নিয়ে অ্যাশেজ সিরিজের চতুর্থ টেস্ট শুরু করেছিলেন স্টুয়ার্ট ব্রড। সে জন্য তাঁর দরকার ছিল মাত্র একটি উইকেট। সেই মাইলফলক স্পর্শ করার উপলক্ষটা যে তিনি এভাবে রাঙিয়ে দেবেন, তা হয়তো কেউই কল্পনা করতে পারেননি। টেস্টে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে অস্ট্রেলিয়াকে নাজেহাল করে দিয়েছেন ব্রড। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে গেছে মাত্র ৬০ রানে। এটি টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার সপ্তম সর্বনিম্ন স্কোর। দুর্দান্ত বোলিং করে মাত্র ১৫ রানের বিনিময়ে আটটি উইকেট নিয়েছেন ব্রড।

নটিংহ্যামে অ্যাশেজ সিরিজের চতুর্থ টেস্টে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক। সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা যে বোলাররা এভাবে প্রমাণ করতে পারবেন তা হয়তো কেউই ভাবতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করার জন্য ইংল্যান্ডকে বোলিং করতে হয়েছে মাত্র ১৮.৩ ওভার। ৯.৩ ওভার বল করে মাত্র ১৫ রানের বিনিময়ে আটটি উইকেট নিয়েছেন ব্রড। একটি করে উইকেট পেয়েছেন মার্ক উড ও স্টিভেন ফিন।

অস্ট্রেলিয়ার মাত্র দুজন ব্যাটসম্যান পেরোতে পেরেছেন দুই অঙ্কের কোটা। অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক (১০) ও মিচেল জনসন (১৩)। রানের খাতা খুলতে পারেননি দুই ওপেনার ক্রিস রজার্স, ডেভিড ওয়ার্নার ও শন মার্শ। সবচেয়ে বেশি সময় উইকেটে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার শেষ দুই ব্যাটসম্যান নাথান লায়ন ও জস হেজেলউড। দশম উইকেট জুটিতে তাঁরা ব্যাটিং করেছেন ৫.৩ ওভার। যোগ করেছেন মহামূল্যবান ১৩টি রান। অষ্টম উইকেটে মিচেল জনসন ও মিচেল স্টার্কের জুটিটিও ছিল ১৩ রানের। তবে তাঁরা ব্যাটিং করেছিলেন মাত্র ৩.২ ওভার। এ ছাড়া আর কোনো জুটিই যেতে পারেনি দুই অঙ্কের রানে।

টেস্টে অস্ট্রেলিয়া সবচেয়ে কম রানে অলআউট হয়েছিল ১৯০২ সালে। ৩২ রানে। ১৮৮৮ ও ১৮৯৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে গিয়েছিল ৪২ ও ৪৪ রানে। খুব সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়া এমন ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল ২০১১ সালে। সেবার কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ হয়েছিল ৪৭ রানে।

অ্যাশেজ সিরিজের তৃতীয় টেস্ট শেষ হয়েছিল মাত্র তিনদিনে। নটিংহ্যামে চতুর্থ টেস্ট শেষ হতে হয়তো তার চেয়েও কম সময় লাগতে পারে।