মেইন ম্যেনু

মাদকের মোহে রাতের কলকাতায় উন্মত্ত তরুণ-তরুণী

মেট্রোপলিটন শহরের তকমা কলকাতার শরীরে। রূপে-গুণে, কাজের বহরে সে অন্যান্য শহরকে কতটা টেক্কা দিতে পারবে কে জানে, কিন্তু রাতজাগায় তার জুড়ি মেলা ভার। তার দিকে তাকিয়ে অনেকের অভিযোগ সন্ধে নামলেই নাকি তাকে পেয়ে বসে ঘুমের ঘোর। যত রাত গড়ায় সে নাকি ক্রমশ আড়ষ্ট হয়ে ওঠে, আর তারপর নিশুতি রাতের নীরবতা তাকে পেয়ে বসে। এভাবেই ঘুমিয়ে পড়ে কলকাতা? শহর মুচকি হেসে জানায়, না। সে ঘুমন্ত ঠিকই, তবে যারা ঘুমিয়ে পড়ে শুধু তাদের কাছে। আর বাকিদের কাছে সে রাতজাগা পরী। তখন তার শরীরে খেলে যায় মায়াবী নিয়ন। পাল্টে যায় তার দিনমানের রূপ। রাতের মাসকারা দু’চোখে মেখে সে মোহময়ী হাতছানি দেয় শহরের রাতজাগাদের। না ঘুমোয় না কলকাতা, জেগে থাকে তাদের কাছে, যারা জেগে থাকে জাগার নেশায়।

অনলাইনে স্মার্ট শহর নিমেষে কানেক্টেড হয়ে পড়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে, পূব থেকে পশ্চিমে। তারপর রাতের পেগে ছলকে ওঠে পেগে দু’পাত্র উদ্দীপনা। শহুরে স্নিগ্ধতার এক অন্য অর্থ খুঁজে নিয়ে রাত-পরীর নিয়ন আলোতেই জেগে ওঠে উদ্দীপনা। আর তরুণ শহর, আমরা যাকে বলি জেন এক্স-এর শহর, সে বেছে নেয় রাত জাগার এক অদ্ভুত উল্লাস। এই সেদিনও রোডসাইড ধাবা অথবা দক্ষিণ কলকাতার কোনও গুরুদ্বোয়ারার পার্কিং-এ গাড়ি থামিয়ে তড়কা রুটিই ছিল শহরের পরিচিত নিশিযাপন। কিন্তু ফিলহালের কল্লোলিনী বেছে নেয় কোনও এক রঙিন ডান্স ফ্লোর অথবা মাদকীয় মুগ্ধতায় জড়ানো আলতো হাতের ছোঁয়া। আবার কখনও ডিজের মিউজিক বিটের মধ্যে আদিম সভ্যতার হৃদস্পন্দন।

কলকাতার মনে জায়গা করে নেয় হালে হওয়া ‘দ্য মিক্স’, ইংরেজিতে দ্য মিক্স পার্ক স্ট্রিটের এই নয়া নিশিযাপনের হ্যাংআউট অনেক রকমেরই বিনোদন নিয়ে হাজির শহরের বুকে। রাত ৮টা থেকে ১২ পর্যন্ত মিক্সে চলে ‘মিক্সিং অফ কাউন্টার কালচার’। আলিশান আলোকরোশনাইয়ে মোড়া স্যান্ডস্টোন দিয়ে তৈরি বিল্ডিংয়ের প্রথম তিনটি লেভেলে আইরা-চিলি ওক্-আউট অফ দ্য ওয়ার্ল্ডে রয়েছে খানা-পিনার ব্যবস্থা। আর তার ঠিক ওপরেই স্পেশিয়াস ডান্স ফ্লোর। সঙ্গে রঙিন পানির মাদকীয়তা ও লাইভ মিউজিকের কোমর দোলানি। দ্য মিক্সেসের আবহাওয়াতে মত্ত মহানগর বলতেই পারে, ইয়েস দ্যাটস দ্য প্লেস। দ্য মিক্সের এক্স ফ্যাক্টর নিজস্ব ফিংগার ফুড, যা একদমই মিস করার মতো নয়।

আবার কখনও ইয়ং কলকাতা ঠাঁই নেয় ক্যামাক স্ট্রিটের বন্ধ হয়ে যাওয়া এক ডিসকোথেকের বিল্ডিংয়ে অন্য আর এক ‘আর্বান ঠেক’-এ। আর্বান দেশি ৯এফ, ইংরেজিতে ‘Urban Dezi 9F’। নাম শুনেই বারোটা থেকে বারোটার এই কোজি অ্যম্বিয়েন্সে ঘড়ির কাঁটা থেমে যায় অনেক শহুরে পড়ুয়ারই। ন’তলার ওপরে এই বার-রেস্তরাঁ-হুকা বার কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের ফেভারিট ডেস্টিনেশন। হাল ফ্যাশনের মেয়েদেরতো এই জায়গার ‘হ্যাপি হাওয়ার’ ঠোঁটের ডগায়। তারা তো বলেই ফেলে, আর্বান দেসির হ্যাপি হাওয়ারে দুটো ড্রিঙ্ক নিলে তৃতীয়টা ফ্রি এবং হুকাতেও এক গল্প। এখানকার টুটি-ফ্রুটি হুকা টিনদের মধ্যে কাড়াকাড়ির বিষয়।

এখানে এলে, দু’পেগ হুইস্কির পর ন’তলার উপর থেকে দূরে মিশে যাওয়া আঁকা-বাঁকা সড়কটা দেখে মনে হতেই পারে, “শহর যেন কবিতা, হারিয়ে সংহতি..”।

চাইনিজ ও মোগলাই খাবারের পাশাপাশি লেজার শো এবং রাতমাতানো মিউজিকও এখানকার ইউএসপি।

উচ্চ মধ্যবিত্তদের নিশিযাপনের আস্তানার আবার হরেক রকম ঠিকানা। অ্যাস্টরের প্লাশ। হ্যাঁ, থিয়েটার রোডের এই পাঁচতারা হোটেলের নাইটক্লাবের নামের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে শহরের অ্যাড্রেনালিন স্প্ল্যাস। ড্রিংক থেকে হুকা-মনোরম পরিবেশ, সঙ্গে ‘স্পাইসি গ্লেজড প্রণ’ অথবা ‘ক্যারিবিয়ান চিকেন স্কিউয়ার’ তো মাস্ট। শহরের ‘উইথ দ্য ট্রেন্ড’ বাবলিদের কাছে বুধবারের প্লাশ অন্য মানে বহন করে। কারণ, এই দিন প্লাশে চলে উইমেন’স হ্যাপি হাওয়ার। তন্দুরি আলো ও দামি পারফিউমের খাঁজে বইতে থাকে আনলিমিটেড ককটেলের স্রোত। সাধারণ যে কোনও দিন ৫টা থেকে ১২টা ও ৩টে থেকে রাত ১টা পর্যন্ত, শনিবার খোলা থাকে এই উদ্দীপনা উদযাপনের সক্রিয় গেট পাস। তবে ভুল করেও সোমবার যাবে না, ওই একদিনই বন্ধ থাকে প্লাশ। আর মঙ্গল থেকে শুক্র ৫টা থেকে ৮টা হ্যাপি হাওয়ার চলে এখানে। শনি-রবি হ্যাপি হাওয়ার থাকে ৩টে থেকে ৮টা।

ব্যস্ত শেক্সপিয়র সরণিতে জ্যাসমিন টাওয়ারে অবস্থিত ‘নকচার্ন’ অথবা আমেরিকানার দোহাই দিয়ে ‘নকটার্ন’, ইংরেজিতে নকটার্ন শহরের আর একটি হাইডআউট। আরজে অনির্বানের চোখে এখানে কলকাতার ক্লাসি ক্রাউডরাই আসেন। ঝলমলে আলো ও ঝকঝকে ইন্টেরিয়রস। এক চিলতে অ্যরিস্ট্রোকেসিতেই ফিদা এখানকার ক্লাব সভ্যতার ব্যাটন বয়ে নিয়ে যাওয়া জনতা। এখানকার ফিংগার ফুড ও পিৎজা তিলোত্তমার হট ফেভারিট। রাত বাড়তে না বাড়তেই মৃদু মিউজিক থেকে লাউড সাউন্ডে জমে ওঠে এখানকার নকটার্নাল লাইফস্টাইল। দুপুর ২টো থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে নকচার্ন। আলাদা এক স্মোকিং জোনও রয়েছে এখানে।

সব মিলিয়ে রাত পরীর মায়াবী নেশায় ঘুম কে ফাঁকি দিতে কোনও ভাবেই পিছপা হয়না তিলোত্তমা। বলাই যেতে পারে, এই আলো-আঁধারের খেলায়, অন্ধকারেই নিজের কমফোর্ট জোন খুঁজে নেয় সিটি অফ জয়। কলকাতা



(পরের সংবাদ) »