মেইন ম্যেনু

মাদকে সুখ খুঁজে ফেরে বানিয়াশান্তা পতিতা পল্লীর অপ্সরীরা!

সমাজের মুখোশধারী কলুসিত মানুষ গুলোর লালসার স্বীকার বানিয়াশান্তা যৌনপল্লীর অন্ধকারের অপ্সরীরা। এই সব যৌনকর্মীদের জন্য সমাজে বসবাসরত পরিবার গুলোর অনেক নারীই নিরাপদে চলাফেরা করে।

একটি এনজিও সংস্থার গবেষনায় দেখা গেছে, যে সব এলাকায় রাষ্ট্র স্বীকৃত যৌনপল্লী রয়েছে সেই সব এলাকায় ধর্ষন ও ইভটিজিং এর মতো ঘটনা অনেকাংশেই কম। তারা উল্লেখ্য করেছে, সমাজের মানুষ গুলো যৌন পল্লীতে গিয়ে তাদের ঘৃণ্য ও নগ্ন ইচ্ছা গুলো বাস্তবায়ীত করে। ফলে নিরাপদে বসবাস করে সেই এলাকার রমনীরা।

যৌনপল্লীর অধিকাংশ নারী কর্মীরা এক প্রকার বাধ্য হয়েই মাদকাসাক্ত হয়ে পড়ে। তাদের মেহমান খানায় পদার্পনকৃত অতিথিরা কোন না কোন নেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় পতীতা পল্লীর যৌনকর্মীরা বাধ্য হয়ে মাকদাসক্ত হয়ে পড়ে।

তাদের কাছে সুখ সে তো সোনার হরিণ! নানা রকম প্রতিকুলতা ও দুঃখ কষ্টের নির্মম আঘাত থেকে নিজেদের কিছু সময়ের জন্য সরিয়ে রাখতে মদ, গাজা, ঘুমের ট্যাবলেট সহ হেরোইনের মতো বিষাক্ত মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে বানিয়াশান্তা পল্লীর যৌনকর্মীরা ।

সামাজের সকল শ্রেনী ও পেশার মানুষের সুপ্ত কলুশিত বাসনা ও কামনা গুলোর বিষাক্ত তীরের হিম শীতল আঘাতে ক্ষতবিক্ষত নারী দেহ গুলোর আর্তনাদ শোনার মতো সাহস বা ইচ্ছা আমাদের হয়তো নাই। সমাজ কর্তৃক ঘৃনিত বিতাড়িত মায়াবিনীদের ক্ষীন সুর পৌছে দেয়ার বৃথা চেষ্ঠা করতে দোষ কোথায় ? ইচ্ছা পূরনের নগরী বানিয়াশান্তা যৌন পল্লীতে প্রতিদিন যে মানুষগুলো বেড়াতে যায় তাদের প্রত্যেকেই নিজের এবং অর্থ দ্বারা ক্রয়কৃত সাময়িক শারিরীক প্রেমিকার মনোরঞ্জন করার জন্য সাথে নিয়ে যায় আবগারীর বাংলা মদ, বিদেশী হুইস্কি, দর্শনার কেরু ও গাজা সহ অন্যান্য নেশাদ্রব্য।

মংলা আন্তর্জাতিক বন্দর হওয়ায় এখানে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত আবগারী বাংলা মদের দোকান, দর্শনার কেরু, হুইস্কি, ভোদকা নামক মদ বিক্রির বার থাকায় এগুলো খুবই সহজ লভ্য।

এছাড়া বিদেশী জাহাজ থেকে কালোবাজারীরা পৃথিবী বিখ্যাত অনেক নামীদামী মাদকদ্রব্য বাজারজাত করে থাকে। অন্যদিকে বানিয়াশান্তা পতিতা পল্লীর অভ্যন্তরে অধিকাংশ দোকানে এসব মদ ও নেশাদ্রব্য বিক্রি হয়, তবে তার জন্য অতিথীকে একটু বেশী অর্থ ব্যায় করতে হয়। অর্থ দ্বারা বাজার থেকে ক্রয়কৃত কোন পন্য যেমন ক্রেতার নিজস্ব সম্পদে পরিনত হয়। তেমনি বানিয়াশান্তা পতিতা পল্লীর মেহমান খানায় আগত অতিথীদের কয়েক ঘন্টার জন্য ক্রয়কৃত অপ্সরীরা তাদের নিজস্ব সম্পদে পরিনত হয়।

যেমন খুশী তেমন সাজাও, যা খুশী তাই খাওয়াও, যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে নাঁচাও! পতিতা পল্লীর রক্তে মাংসে গড়া পুতুলদের এই নীতিতে চলতে হয়। এই সব যৌন কর্মীরাও কিছু সময়ের জন্য নিজেদের সকল বিভৎস স্মৃতি গুলো ভুলে থাকার জন্য এ্যালকোহলের গ্লাসে উষ্ণ ঠোটের স্পর্শে মাদকতাময় জগতে ডুবে যায়। ফিরে আসার হাজারো চেষ্ঠায় কোন ফল মিলবেনা জেনেই ফেরার বৃথা চেষ্ঠাটাও করতে নারাজ তারা।

এ বিষয়ে পতিতা পল্লীর যৌনকর্মী রিতা বলেন, আমারও স্বপ্ন ছিলো সুন্দর একটি সংসারের, স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে থাকতে চেয়েছিলাম আমি। ক্ষুদা ও অভাব নামের দৈত্যটা সবকিছু শেষ করে দিয়েছে। এখন আর স্বপ্ন দেখিনা। প্রতিদিনই মদ খাই, গঞ্জিকা সেবন করে হারিয়ে যাই স্বপ্নের পৃথিবীতে। সকালে উঠে আবারও সেই দৈত্যটাকে সামনে দেখি। আবারও হারিয়ে যাই, এ হারিয়ে যাওয়ার যেন কোন সীমা নেই, শেষ নেই। -মংলানিউজ