মেইন ম্যেনু

মানবতা দেখাতে গিয়ে নিজের সন্তানকে ‘হারালো’ মোয়াজ্জিম

সাজেদুর রহমান সাজু। বগুড়া সদর উপজেলার আকাশতারা গ্রামের মসজিদের মোয়াজ্জিম। অভাবের সংসারে মাত্র টিনের ঝুপড়ি ঘরে স্ত্রী ও এক শিশু সন্তান আবু তালহাকে (৩) নিয়ে বসবাস।

গত ২৮ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে মসজিদের নামজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে এক শারীরিক প্রতিবন্ধি কিশোরের কান্নার শব্দ শুনে এগিয়ে যান তিনি। কান্নার কারণ জানতে চাইলে ওই কিশোর জানায়, এ জগতে তার কেউ নাই। তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলায়। নাম হেলাল খান ওরফে লালমিয়া। দুই দিন ধরে না খেয়ে আছে।

মানবিক বিবেচনায় আবেগ আপ্লুত হয়ে ওই কিশোরকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে নিজ বাড়িতে সন্তানের মতো লালন পালন করতে থাকেন মোয়াজ্জিম সাজেদুর রহমান সাজু। স্থানীয় একটি মক্তবেও ভর্তি করান কিশোর হেলালকে। এরই মধ্যে গত ১০ ফেব্রুয়ারি মসজিদ থেকে বাড়ি ফিরে দেখেন তার একমাত্র শিশু পূত্র আবু তালহা ঘরে নেই। আশ্রিত কিশোর হেলালকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ঘটনায় পরদিন বগুড়া সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মোয়াজ্জিম সাজেদুর রহমান সাজু। এরপর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি টিম গঠন করে শিশু তালাকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে পুলিশ। দীর্ঘ ৭ মাস পর পুলিশ যশোর কিশোর সংশোধনাগারে সন্ধান পায় অপরহণকারী কিশোর হেলালের।

পুলিশ জানতে পারে বরিশালের সদর উপজেলার বানারীপাড়ায় এক শিশু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে হেলাল কিশোর সংশোধনাগারে অবস্থান করছে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বগুড়া থেকে অপহরণ হওয়া শিশু তালহার সন্ধান মিলে। ১ সেপ্টেম্বর রাতে বরিশাল জেলার কোতোয়ালি থানাধীন নতুনবাজার এলাকায় এক হোটেল মালিকের বাড়ি থেকে অপহৃত শিশু তালহাকে উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে বগুড়ার পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান।