মেইন ম্যেনু

মানববন্ধন ঘিরে রাজধানীতে তীব্র যানজট

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার মাসপূর্তিতে জঙ্গিবাদবিরোধী মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে প্রখর রোদ আর গরমে পুড়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা রাস্তায় থাকতে হচ্ছে মানুষকে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার বেলা ১১টা থেকে এই মানববন্ধন শুরু হয়। এটি শেষ হওয়ার কথা ছিল দুপুর ১২টায়। কিন্তু রাজধানীর কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে দেরিতে কর্মসূচি শুরু হওয়ায় শেষ হয় বেলা ১টায়।

জঙ্গিবাদ রুখে দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাস ও পার্শ্ববর্তী সড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়। আর মানববন্ধনকে ঘিরেই এই যানজট বলে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

সোমবার বেলা ১১টায় উত্তরা, বনানী হয়ে ধানমন্ডি পর্যন্ত সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে এই যানজটের চিত্র। এছাড়াও দুপুরে মহাখালী, তেজগাঁও, শাহবাগ, মালিবাগ, মগবাজার, বাংলামটরের রাস্তাগুলোতে ধীর গতিতে গাড়ি চলতে দেখা যায়।

বনানীর প্রধান সড়কে কর্মসূচি পালন করে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি। হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন। আর এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশ্বরোড থেকে মহাখালী পর্যন্ত যানজট ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে কাকলী থেকে গুলশান-২ হয়ে গুলশান-১ গোলচত্বর পর্যন্ত এই যানজট দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ও কর্মসূচি পালন করায় গুলশান-১ থেকে মহাখালী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত তীব্র যানজট ছিল।

উত্তরা থেকে ধানমন্ডি যাচ্ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র মাসুম রানা। তিনি জানান, মানববন্ধনে যোগ দেয়ার জন্য তিনি সকাল ১০টায় বের হলেও ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়ের সামনে আটকা পড়েছেন। সেখানে ঘন্টাখানেক বাস আটকা পড়ে আছে।

উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকার প্রধান সড়কে এ কর্মসূচি পালন করেন উত্তরা ইউনিভার্সিটি ও বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এছাড়া জসিমউদ্দীন মোড়ে এ কর্মসূচি পালন করেন ইবাইস ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। এ কারণে সেখানে ছিল যানজট।

আর জাতীয় ঈদগাহের সামনে থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত পুরো সড়কের দু’পাশ ধরে মানববন্ধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেও চলে মানববন্ধন। এ কারণে ওই এলাকার যানজট মতিঝিল ও গুলিস্তান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সমানে কথা হয় মধ্যবয়সী আফরোজা বেগমের সঙ্গে। তিনি শাহবাগ থেকে যাত্রাবাড়ী রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু যানজটে আটকা পড়ে গরমে তার নাভিশ্বাস অবস্থা। এজন্য তিনি হেঁটে রওনা দিয়েছেন। সামনে গিয়ে তিনি অন্য বাসে উঠবেন বলে জানান।