মেইন ম্যেনু

মানুষের জীবন বাঁচাতে ছিদ্র থাকে কলমের ক্যাপে

বলপেনের খাপের ওপরের ছোট্ট ছিদ্র সবারই দেখা। কিন্তু এই ছিদ্রটি কেন রাখা হয়, জানেন কি কেউ? সম্প্রতি বিশ্বের প্রথম কলম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্যের বিক ক্রিস্টাল কেমলিনের কলম নির্মাতাদের বরাতে সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে কলমের ক্যাপে এই ছিদ্রের রহস্য।

বিক ক্রিস্টাল কেমলিন করপোরেশনের প্রকৌশলী টেড পাভিন বলেন, ‘একটা সময় মনে করা হতো কলমের কালি যাতে দ্রুত শুকিয়ে যায়, সে জন্যই এর সামনে ও পেছনে ছিদ্র রাখা হয় এবং এটি সত্য। কারণ বলপেনের খাপের ডগায় ছিদ্রের জন্য আক্ষরিক অর্থেই কালি শুকিয়ে যায়। তবে লোকে যতখানি ভাবে, ঠিক ততখানিও শুকায় না। আর কলমের জন্য এই দুটো ছিদ্র প্রয়োজনীয়ও। কারণ প্রতিবার কলম থেকে ঢাকনা খোলা এবং বন্ধ করার সময়ে বাতাসের এই চাপে কালির ভারসাম্যও বজায় থাকে। এ ছাড়া বাতাসের চাপে কলমের ঢাকনাটি শক্ত হয়ে এঁটে বসে না।

টেড পাভিন আরো জানান, ১৮৯৮ সালে প্রথম বলপেন বাজারে আসার ৫৬ বছর পর ১৯৫৪ সালে বিক ক্রিস্টাল কেমলিনই প্রথম বলপেনের খাপে ছিদ্র রাখা শুরু করে। এই ছিদ্র রাখার নেপথ্য রয়েছে একটি করুণ গল্প। চুয়ান্ন সালে লন্ডনেই দুই বছর বয়সী একটি শিশু কলমের ঢাকনি গলায় আটকে মারা যায়। এ নিয়ে তখনকার পত্রপত্রিকায় বেশ লেখালেখি হয়েছিল।

1458230345-Pen-3

একসময় কলম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো লক্ষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের অনেকেই কলমের উল্টো দিকে ক্যাপটি লাগিয়ে চিবোতে থাকেন। এতে অনেক ক্ষেত্রে ক্যাপ গিলে বিপত্তি ঘটে।

এই সমস্যার সমাধানে গার্ডিয়ানের কলামে কলমের ক্যাপে ছিদ্র রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন তখনকার বিখ্যাত সার্জন হাভার্ড পেরি। পেরি বলেছিলেন, এতে ঢাকনা বা খাপ গিলে ফেললেও, শ্বাস-প্রশ্বাস আটকাবে না। ওই ছিদ্র দিয়ে অক্সিজেন ঢুকতে থাকবে। ফলে মৃত্যুর সম্ভাবনা কমবে। পরে প্রকৌশলীরাও এই কথায় সায় দেন। এর পর থেকে কলমের ক্যাপে ছিদ্র রাখার প্রচলন হয়। যার ফলও মিলেছে একেবারে হাতেনাতে।