মেইন ম্যেনু

মানুষের দাঁতের গয়না ‘হিউম্যান আইভরি’

নিজেকে দিয়ে নিজেকে সাজিয়ে তুলুন, এমনই আহ্বান জানালেন লুসি মাজেরাস। তিনি ডিজাইন অ্যাকাডেমি এইন্ডহোভেনের গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী।

সৃষ্টিশীল কিছু করতে আগ্রহী তিনি। আর এ কারণে মাজেরাস তার নিজের দাঁত দিয়ে বানিয়েছেন গয়না। তার অলংকার সংগ্রহের নাম ‘হিউম্যান আইভরি’। হাতির দাঁতের অর্থাৎ আইভরির বিকল্প গয়না তৈরিই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য।

মাজেরাস জানান, আমরা কেন মূল্যবান প্রাণী হাতি নিধন করছি কেবল তার দাঁতের জন্য? আমরা কেন অন্যান্য প্রাণীর দাঁতকে মূল্য দেই না? যখন আমার একটা দাঁথ পড়ে গেলো, তখন ওটা রেখে দিয়েছিলাম। তখনই মাথায় আসে হিউম্যান আইভরির আইডিয়া। মূল্যবান জিনিসের প্রতি আমাদের মূল্যবোধকে পুনর্বিবেচনা করতে চেয়েছি আমি। বস্তুগত মূল্যমানের তুলনায় হিউম্যান আইভরি অনেক বেশি মূল্যবান হবে। কারণ এটা নিজের মূল্যবান কিছুকে নিজের মাঝে ধারণ করা বোঝায়।

তিনি বানিয়েছেন কানের দুল, হাতের বারা, ব্রোচেস এবং আঙটি। ডিজাইন অ্যাকাডেমি এইন্ডহোভেনের গ্র্যাজুয়েশন শো-তে তিনি এই জিনিসগুলো প্রদর্শন করেন। প্রথমে ভেবেছিলেন অনেকে কাছে বিষয়টি ভীতিকার বলে গণ্য হবে। কিন্তু কেউ তেমন প্রতিক্রিয়া দেখাননি। বরং হাতির দাঁতের পরিবর্তনে নিজের দাঁতের গয়নার আইডিয়া সবারই ভালো লেগেছে।

আরেকভাবে চিন্তা করেছেন তিনি। দাঁতের ক্ষয় বা অন্যান্য রোগের কারণে এটাকে ফেলে দিতে হয়। বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা দাঁত ফেলে দেওয়ার কাজ। কিন্তু এসব দাঁতকে সুন্দর চেহারা দিয়ে তাকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার বিষয়টি মন্দ নয়। এসব ক্ষয়ে পড়া দাঁত হবে আকর্ষণ ও সৌন্দর্যের কেন্দ্রবিন্দু।

মানুষের দেহের সবচেয়ে শক্ত অংশগুলোর একটি দাঁত। আবার এটা পাতলের চেয়ে নরম। এরা আকারে ছোট। তাই গয়না তৈরি করতে ধৈর্য্য ও মনোযোগ দিতে হয়।

মাজেরাস বড়দের দাঁতকেই বেছে নিয়েছেন। এদের মুক্তদানার আকার দেওয়া যায়। পলিশ করার আগে এদের ভালোমতো পরিষ্কার করে নেওয়া হয়। কোনো দাঁতো ক্ষয় থাকলে ডেন্টিস্টের মতোই একে সারিয়ে নেন শিল্পী।

অনেক মানুষই মাজেরাসের বানানো হিউম্যান আইভরির ভক্ত। এর মধ্যে একজন দাঁতের ডাক্তারও আছেন। তিনি তার রোগীদের ফেলে দেওয়া দাঁত দিয়ে একটি কাফলিং বানিয়ে নিয়েছেন।

আবার অনেকে এ পদ্ধতিতে অন্যভাবে কাজে লাগানো চিন্তা করছেন। মৃত প্রিয়জনের স্মৃতি ধরে রাখতে অনেকে তাদের দাঁত নিজের দেহে ধারণ করতে চাইছেন। কিন্তু এ বিষয়কে সমর্থন দিচ্ছেন না খোদ শিল্পী। তিনি বলেন, আমি চাইবো না যে আমার দাদু মারা যাওয়ার পর তার দেহ থেকে এক বা একাধিক দাঁত খুলে নেওয়া হোক। তবে প্রিয়জন যদি মারা যাওয়ার আগে কখনও দাঁত হারান, তবে তা দিয়ে অলংকার বানিয়ে আমি পড়ে থাকতে আগ্রহী হবো। সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট