মেইন ম্যেনু

মানুষের সাথ মেলামেশায় সমস্যা? তাহলে এই লেখাটি আপনারই জন্য

বন্ধুদের আড্ডায়, পারিবারিক অনুষ্ঠানে বা যে কোনো জনসমাগমে দেখবেন কেউ কেউ একেবারেই মানিয়ে নিতে পারেন না। তারা অন্যদের সাথে কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন, আলাপচারিতায় স্পষ্ট বোঝা যায় অস্বস্তি, হয়তো বলে ফেললেন এমন কোনো কথা যাতে অন্যরাও অস্বস্তিতে পড়ে যায়। আর বন্ধুত্ব করতেও তাদের বেশ সময় লাগে। আপনিও হয়তো তেমনই একজন। এক্ষেত্রে “অসামাজিক” তকমা লেগে যায় তার ওপর, আসলে কিন্তু সেটা মোটেও ঠিক না। ছোট কিছু কৌশল জানা থাকলে সামাজিক পরিস্থিতিতে তারাও হয়ে উঠবেন সপ্রতিভ।Business Insider থেকে জানা যায় তেমনই কিছু কৌশল-

১) আলাপচারিতায় মন দিন

অন্যদের সাথে আড্ডায় আপনি এতোই বিব্রত বোধ করছেন নিজেকে নিয়ে যে অন্যদের দিকে মোটেই মনজগ দিতে পারছেন না। এতে উপকারের বদলে ক্ষতিই হবে। অন্যরা মনে করবে আপনি তাদেরকে পাত্তা দিচ্ছেন না। নিজেকে নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে বরং তাদের সাথে কথা বলুন। কী নিয়ে কথা হচ্ছে সেদিকে মন দিন। এতে অন্য দিকে মন চলে গেলে নিজেকে নিয়ে আর চিন্তা থাকবে না।

২) সঙ্গীর দিকে নজর দিন

সঙ্গী বলতে শুধু প্রেমিক বা প্রেমিকা বলা হচ্ছে না বরং আপনি যার সাথে বসে কথা বলছেন তার কথাই ধরুন। নিজেকে নিয়ে চিন্তা করবেন না। “আমি কি ঠিক কথা বলছি?” বা “আমাকে দেখতে খারাপ লাগছে,” এই জাতীয় ব্যাপারে না ভেবে সঙ্গীর দিকে মনোযোগ দিন। আপনি নিজেকে নিয়ে চিন্তা করা বাদ দিয়ে রিল্যাক্স করলে আপনার সাথে কথা বলতে তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। শুধু সঙ্গী নয়, Real Simple থেকে জানা যায়, সেই রুম বা অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষদেরকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখুন এবং ছোটখাটো আলাপ করুন। এটা আপনার উপকারে আসবে।

৩) রিল্যাক্স হবার ভান করুন

সত্যি সত্যি রিল্যাক্স করতে না পারলে নিদেনপক্ষে ভান করুন যে আপনি খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন, মোটেও অপ্রতিভ বোধ করছেন না। অন্যদের দিকে তাকিয়ে হাসুন, কুশল বিনিময় করুন। ভান করতে গিয়েই দেখবেন আপনি আসলেও রিল্যাক্স হয়ে গেছেন। হাসলে দেখবেন মেজাজ ভালো হয়ে গেছে, আবার পাওয়ার পোজ নিয়ে দাঁড়ালে দেখবেন আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে।

৪) প্র্যাকটিস করুন

অন্যদের সাথে কথা বলতে আপনি যত বিব্রত বোধ করবেন, ততই দেখবেন নিজের কাছেও খারাপ লাগছে। সংকোচ ঝেড়ে ফেলে নিজের খোলস থেকে বের হবার চেষ্টা করুন। সামাজিক পরিস্থিতিতে জত বেশি যাতায়াত করবেন তত দেখবেন আপনার এই সংকোচ কেটে যাচ্ছে।

৫) খোশামুদে কোনো ব্যক্তির সাথে জুড়ে যান

আপনি নিজে মানুষের সাথে মিশতে পারেন না? তাহলে এমন কারো সাথে সাথে থাকুন যে কিনা খুব অমায়িক, অন্যদের সাথে গল্প জুড়ে দিতে একটুও সময় লাগে না। তাদের পাশে থাকলেই আপনি নিজেও একটু একটু করে সহজেই অন্যদের সাথে মিশতে পারবেন, আপনারও বাড়বে আত্মবিশ্বাস। একটা সময়ে আপনি নিজেই সপ্রতিভ হয়ে উঠবেন।

৬) প্রশ্ন করুন

অন্যদের মাঝে নিজের অবস্থান শক্ত করার জন্য নিজের শক্ত মতামত ঝেড়ে ফেলবেন না যেখানে সেখানে। বরং একটু সময় নিন, পরিস্থিতি বুঝতে প্রশ্ন করুন।

সাধারণ এসব কৌশল ছাড়াও inc.com থেকে জানা যায় মজাদার কিছু কৌশলের কথা। যেমন ম্যাচিং না করে দুই পায়ে দুই রকমের মোজা পরে বের হওয়া, অপরিচিত মানুষকে সময় জিজ্ঞাসা করা ইত্যাদি। ছোট এসব কৌশল কম সময়েই আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।

এই কৌশলগুলো অনুসরণ করলেই যে আপনি একেবারে আড্ডার মধ্যমণি হয়ে যাবেন, তা নয়। তবে আপনার স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে তা সত্যি। তবে আপনার যদি সোশ্যাল অ্যাংজাইটি থাকে, তাহলে অবশ্য থেরাপি নেওয়াটাই ভালো হবে আপনার জন্য।প্রিয়.