মেইন ম্যেনু

‘মামলা থেকে বাঁচতে’ কর্মীদের নিয়ে জামায়াত নেতা আ. লীগে

নাশকতার একাধিক মামলার আসামি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জামায়াতের এক প্রভাবশালী নেতা বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়ে আওয়ামী লীগের যোগ দিয়েছেন। তার সঙ্গে আছেন বিএনপিরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। সদর আসনের সংসদ সদস্যের হাতে ফুল দিয়ে তারা ক্ষমতাসীন দলে যোগ দেন। জামায়াত নেতাকে দলে নেয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত দলকে ধ্বংস করবে-এমন প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন এক নেতা।

শনিবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদের হাতে ফুল দিয়ে ক্ষমতাসীন দলে যোগ দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মোট পাঁচশ রাজনৈতিক কর্মী। এদের মধ্যে অন্যতম জামায়াত নেতা সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান সোহরাব আলী।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে যে কয়টি জেলায় জামায়াত নজিরবিহীন নাশকতা করেছিল তার একটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ। দলের নেতা-কর্মীদের চোরাগুপ্তা বা প্রকাশ্য হামলার কারণে ক্ষমতায় থেকেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ছিল কোণঠাসা। সন্ত্রাসের কারণে পালিয়ে থাকতে হয়েছে অনেককেই। এই সন্ত্রাস ও নাশকতায় মদদ দেয়া ও অংশগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও সে সময় জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য সোহরাব আলীর বিরুদ্ধে নাশকতায়। একাধিক মামলা এখনও চলছে তার বিরুদ্ধে।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল মাহমুদ খান খান্নার সভাপতিত্বে যোগদান সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জামায়াতের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আফরোজ জুলমাত, সদ্য যোগদানকারী বিএনপি নেতা মসিদুল হক মাসুদও।

বক্তব্যে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া জামায়াত ও বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, তারা এখন থেকে সবাই একসঙ্গে থাকতে চান। তাই তারা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

মামলা থেকে অব্যাহতির আশায় জামায়াত-বিএনপির নেতারা

যোগদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগে আসা সোহরাব আলীর কাছে দলত্যাগ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এতদিন আমি দায়িত্ব পালন (উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের) করতে পারিনি। আশা করি এখন থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারবো। মামলা থেকে অব্যাহতি পাবো।

এই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগে জামায়াত ও বিএনপি থেকে যোগ দেয়া একাধিক নেতা-কর্মী নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, জামায়াত-বিএনপির রাজনীতি এখন কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। প্রকাশ্য কর্মসূচিতে অংশ নেয়া দূরের কথা, মামলার কারণে প্রকাশ্যে থাকাই দায় হয়ে গেছে। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগে যোগদানকেই সমাধান হিসেবে দেখেছেন তারা।

একজন নেতা বলেন, ‘মামলার কারণে আমি আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হচ্ছিলাম। কিন্তু কতদিন লুকিয়ে থাকা যায়? প্রকাশ্যে আসার পথ খুঁজছিলাম। এই সুযোগে চলে আসলাম।’

আওয়ামী লীগে আসা বিএনপি-জামায়াত কর্মী ও নেতারা তাদের রাজনীতি ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যের কথা জানালেও আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল ওদুদ একে দেখছেন অন্য দৃষ্টিতে। তিনি নতুন কর্মীদেরকে স্বাগত জানিয়ে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়ার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘যারা দলে নতুন যোগ দিয়েছেন, তারা এমনভাবে দলের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন যেন আগামীতে আপনাদেরকে দলে পদ দেয়া যায়।’

সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগে প্রকাশ্য ক্ষোভ

স্থানীয় সংসদ সদস্য জামায়াত ও বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে নেতা-কর্মী নিয়ে আসায় দলের একাংশের নেতারা প্রকাশ্যেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘তারা স্বাধীনতাবিরোধী, সম্প্রদায়িক শক্তি। সাম্প্রতিক সময়েও তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদের চেতনা কখনও পরিবর্তন হবে না। তারা আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করবে।’