মেইন ম্যেনু

মামলা নয়, টাকা আসবে আইনি প্রক্রিয়ায়

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া টাকা ফিলিপাইন থেকে ফিরিয়ে আনতে ‘মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্টেন্সির’ (এক ধরনের আইনি প্রক্রিয়া) মাধ্যমে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ আইনি প্রক্রিয়ায় ফিলিপাইন থেকে অর্থ ফেরত আনতে সহযোগিতা চেয়ে চলতি মাসের ১৬ তারিখে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের মাধ্যমে ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসকে (ডিওজে) একটি চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, প্রত্যেকটি দেশে একটি করে সেন্ট্রাল এজেন্সি আছে। বাংলাদেশের সেন্ট্রাল এজেন্সি হলো অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস এবং ফিলিপাইনের সেন্ট্রাল এজেন্সির নাম ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (ডিওজে)।

সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে চুরি যাওয়া অর্থ অন্য দেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে মানিলন্ডারিং-এর ‘মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্টেন্স অন ক্রিমিন্যাল ম্যাটার অ্যাক্ট, ২০১২’ আইনটি অনুসরণ করা হয়। এ আইনের আওতায় অর্থ ফেরত আনতে মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্টেন্সির কথা লিখিতভাবে জানানো হয়েছে ডিওজেকে।

এ কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক মামলা করার বিষয়ে কোনো ধরনের চিন্তাভাবনা করছে না। কারণ অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ফিলিপাইনের কাছে প্রমাণপত্র পাঠাতে হবে যে, খোয়া যাওয়া ওই ৮১ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা।

এরপর ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস কাগজে-কলমে যখন প্রমাণ পাবে এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ, তখন তা সরকারকে জানাবে। তারপর ফিলিপাইন সরকার সে অর্থ বাংলাদেশকে ফেরত দেবে।

রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া টাকা যে বাংলাদেশ ব্যাংকের তা ফিলিপাইনসহ সারা বিশ্বই জানে। শুধুমাত্র আইনি প্রক্রিয়ায় কাগুজে প্রমাণপত্র রাখতেই এসব কার্যক্রম বলে জানা যায়।

ডিওজেকে চিঠি দেয়া হয়েছে এ বিষয়টি না জানলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র শুভংকর সাহা বলেছেন, ‘ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা ফিলিপাইনে যা ঘটছে সবকিছু জানছেন এবং আমাদের জানাচ্ছেন। সে অনুযায়ী পরবর্তী করণীয়গুলো ঠিক করা হচ্ছে। ফিলিপাইনের যে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (ডিওজে) আছে তাদের সঙ্গে আমাদের টিমের আলোচনা হয়েছে। আমাদের মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিট্যন্সির যে সুযোগ আছে তার মাধ্যমে অর্থ আদায়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় কি-না সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

মুখপাত্র বলেন, ‘এ কারণেই এখনো পর্যন্ত মামলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। তবে প্রয়োজন পড়লে মামলা করা হবে। আসলে অর্থ আদায়ই মূল বিষয়; এর জন্য যখন যে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন সেটাই করা হবে।’

জানা যায়, রিজার্ভ চুরির ঘটনাটি সাইবার ক্রাইম বলে অর্থ ফিরিয়ে আনতে বিশ্বব্যাংকের স্টোলেন অ্যাসেট রিকোভারি প্রোগ্রাম কাজে লাগবে না। তবে বাংলাদেশের কারও যদি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া, তখন এটি ক্রিমিন্যাল কেইসে চলে যাবে। তখনই কেবল বিশ্বব্যাংকের এই প্রোগ্রামটি কাজ করতে পারবে। যদিও বিশ্বব্যাংক টাকা উদ্ধারে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে গত ১৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত টাক্সফোর্সের প্রথম বৈঠকেও এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মামলা না করে মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্টেন্সির মাধ্যমে টাকা ফেরত আনার বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনি প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করতে হবে এবং তা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপন করতেও বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যাংক অব নিউইয়র্কে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নিয়ে যাওয়া হয় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের মাকাতি সিটির জুপিটার শাখায়। বাকি ২০ মিলিয়ন নিয়ে যাওয়া হয় শ্রীলংকার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শাকিলা ফাউন্ডেশনের নামে। প্রাপক সংস্থার নামের বানানে ভুল থাকায় টাকার পেমেন্ট আটকে দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।



(পরের সংবাদ) »