মেইন ম্যেনু

মারা গেল শেষ সাদা গন্ডারটি

অধিকাংশ দেশেই গন্ডার নিয়ে নানারকম কথা প্রচলিত আছে। কেউ কেউ আবার হাসির ছলে কাউকে আবার গন্ডারের চামড়া বলেও বিদ্রুপ করে। তবে পৃথিবীতে কত প্রজাতির গন্ডার আছে বা এরা কোথায় আছে এই পরিসংখ্যান কিন্তু অনেকেরই অজানা। গন্ডারদের মাঝে এমন কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে যা প্রগৈতিহাসিক আমল থেকে আজ অবধি টিকে আছে। যদিও প্রাণিটির একটি প্রজাতি যে আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে এই খবরই বা কয়জন রাখে।

পৃথিবীর বিচিত্রসব প্রাণির মধ্যে গন্ডার একটি। পৃথিবতে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ প্রজাতির গন্ডার আছে। এর মধ্যে রংয়ের ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে সাদা গন্ডার ও কালো গন্ডারই বেশি দেখা যায়। গন্ডারের আবাসস্থল দক্ষিণে ধারণা করা হলেও উত্তরদিকের বনগুলোতেও গন্ডার দেখা যায়। তবে বেশি গন্ডারের দেখা মিলবে আফ্রিকাতে।

সম্প্রতি এক তথ্যে জানা যায়, পৃথিবীতে সাদা গন্ডারের সংখ্যা প্রায় বিলুপ্তির পথে। অবশিষ্ট যে একটি সাদা গন্ডার ছিল তার নাম নোলা। ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে মৃত্যু হয় নোলা নামের এই গন্ডারটির। মৃত্যুকালে ৪১ বছর বয়সী গন্ডারটি ক্যালিফোর্ণিয়ার স্যানদিয়াগো জু সাফারি পার্কে থাকতো। পার্ক কর্তৃপক্ষ জানান, তাদের কাছে অবশিষ্ট মাত্র একটি ছেলে গন্ডার আর দুটি মেয়ে গন্ডার ছিল। নোলা মারা যাওয়ার আগে একই কারণে ছেলে ও মেয়ে গন্ডারটি মারা যায়। নোলার মৃত্যুর মধ্যে দিয়েই শেষ হয়ে যায় পৃথিবীর একমাত্র সাদা গন্ডারের চিহ্ন।

১৯৬০ সালের দিকে পৃথিবীতে প্রায় বিশ হাজার গন্ডারের বসবাস ছিল। তবে আফ্রিকার নানা আদিবাসী গোষ্ঠী ধর্মের নামে গন্ডারও বলি দিয়ে থাকতো। এছাড়া কিছু কালোবাজারিরা অবৈধভাবে গন্ডার হত্যা করে তাদের শিং বিভিন্ন দেশে পাচার করে আসছিল। গন্ডার বিলুপ্ত হওয়ার পিছনে এগুলোকেই মুখ্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে প্রাকৃতিক ভারসম্য রক্ষা করতে গন্ডারের প্রত্যক্ষ অবদান দৃশ্যমান না হলেও বাস্তুসংস্থান রক্ষায় এদের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। এখন দেখা দরকার সাদা গন্ডার ব্যাতীত এই বিপুলা প্রকৃতি কিভাবে নিজেকে সাজায়।