মেইন ম্যেনু

মাশরাফির কষ্টে অশ্রুসিক্ত বাংলাদেশ

বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ২০১১ বিশ্বকাপ দলে নিজের নাম না দেখে মাশরাফির কান্নায় পুরো দেশ কেঁদেছিলো। অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের নামে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে তাসকিনের বিদায় যখন অধিনায়ক মাশরাফির বুকে আরো বেশি বেদনা হয়ে বিঁধছে তখন প্রিয় ক্যাপ্টেনের কষ্টে আরো একবার অশ্রুসিক্ত বাংলাদেশ।

হাজার মাইল দূরে এ ব্যাঙ্গালুরুতে বসেও তিনি সেটা বুঝতে পারছেন, তাই সব কষ্ট বুকে নিয়েই সমর্থকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, বাকি তিনটি ম্যাচেই জেতার জন্য মাঠে নামবে টিম টাইগার্স।

তারপরও অনেক বেদনার ক‍াব্য রচিত হচ্ছে ব্যাঙ্গালুরুতে।

তাসকিনের দলে না থাকাকে ‘অবিচার’ বললেও বাস্তব কারণে অধিনায়ক যখন বলতে বাধ্য হন তার আর কোনো বিকল্প নেই, ২০ ভাগ ফিট থাকলেও মুস্তাফিজকে খেলাবেন তখন তার অসহায়ত্বও ফুটে উঠে।

ঠিকই জেনেছেন। বিশ ভাগ ফিট থাকলেও মুস্তাফিজুর রহমান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। সুপার টেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে উঠে এসেছে তার কষ্ট আর অঙ্গীকারের কথা।

মাশরাফি বলেছেন: এই ম্যাচে মুস্তাফিজকে খেলাতেই হচ্ছে। ২০ ভাগ ফিট থাকলেও মুস্তাফিজকে খেলাবো। আর কোনো অপশন (বিকল্প) আমাদের হাতে নেই।’

এশিয়া কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে ইনজুরিতে পড়েন মুস্তাফিজ। তারপর আর মাঠে নামা হয়নি কাটার মাস্টারের। টি-২০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার টেনের প্রথম ম্যাচেও ছিলেন সাইডলাইনে।

সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেন, পেসার তাসকিন আহমেদ ও স্পিনার আরাফাত সানির নিষিদ্ধ হওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় আঘাত । এই ম্যাচে তাই পুরো গেমপ্ল্যানও পরিবর্তন করতে হচ্ছে বলে জানান টাইগার অধিনায়ক।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বারবার ‘আঘাত’ শব্দটা ব্যবহার করেছেন মাশরাফি। তবে তিনি বলেছেন, প্রথম কাজ হবে জয়ের জন্য মাঠে নামা। প্রতিপক্ষ কে তা নিয়ে চিন্তা নেই আমাদের।

মুস্তাফিজের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ ভালোই সামলেছেন তাসকিন আহমেদ, আরাফাত সানিসহ অন্যরা। কিন্তু সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের জন্য তাসকিন-সানিকে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। ফলে বিশ্বকাপই শেষ হয়ে গেছে ওই দুইজনের।

এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস কতোটুকু? এমন প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি বলেন, ওরা (তাসকিন-সানি) থাকলেও জয় কঠিন ছিলো। আঘাতটা এমন সময় এসেছে… সবকিছু আরো কঠিন হয়ে গেলো।

বাংলাদেশের সমর্থকরা সব সময়ই পাশে থেকেছে উল্লেখ করে মাশরাফি বলেন, সমর্থকরা সবসময় আমাদের সঙ্গে ছিলেন, এখনো আছেন। তাদের সমর্থন নিয়েই খেলা চালিয়ে যাবো।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা কঠিন হলেও চেষ্টার কোনো ক্রটি করবেন না মাশরাফিরা। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, খুব কঠিন হলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। দল হয়ে, এক হয়ে খেলার চেষ্টা করবো।

ব্যাঙ্গালুরু থেকে মাশরাফির পাঠানো প্রতিশ্রুতিতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা নিশ্চয়ই উদ্বেলিত। ফল যাই হোক, অতীত এবং বর্তমানের মতো ভক্তদের সবসময়ই পাশে আশা করেন মাশরাফি।



« (পূর্বের সংবাদ)