মেইন ম্যেনু

‘মাশরাফি একজন সিংহ-হৃদয়ের মানুষ’

বাংলাদেশের ক্রিকেট কার হাত ধরে আজ সাফল্যের শিখরে? প্রশ্নটা করা হলে উত্তর মিলবেই একটাই—মাশরাফি বিন মুর্তজা। তাঁর বোলিং প্রতিভা নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ ছিল না। তবে বছর দেড়েক আগে নেতৃত্বে আসার পর বাংলাদেশ দলকে তিনি যে জায়গায় নিয়ে গেছেন তা এক কথায় অনবদ্য। ক্রিকেটবিশ্বের আরো অনেকের মতো মাশরাফির অধিনায়কত্ব দেখে গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারও মুগ্ধ। তবে শুধু ক্রিকেটীয়-দক্ষতা নয়, মানুষ মাশরাফিকে নিয়েও উচ্ছ্বসিত পাকিস্তানের ব্যাটিং কোচ।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাশরাফির উজ্জ্বল অভিষেকের জ্বলন্ত সাক্ষী গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার। ২০০১ সালের নভেম্বরে অভিষেক ওয়ানডেতেই জিম্বাবুয়ের সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করে দিয়েছিলেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। ওই ম্যাচে মাশরাফির তোপের সামনে পড়ে শূন্যহাতে ফিরতে হয়েছিল গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারকে।

তখনই মাশরাফির প্রতিভার পরিচয় পেয়েছিলেন তিনি। তবে শুধু বোলিং নয়, বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের নেতৃত্বের প্রশংসাতেও উচ্চকণ্ঠ গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার, ‘মুর্তজা একেবারে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সে দুর্দান্ত ক্রিকেট-মস্তিষ্কের অধিকারী আর কখনো কোনো সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায় না। তা ছাড়া চাপের মধ্যেও নিজের সেরাটা দিতে পারদর্শী। সে দক্ষতার সঙ্গেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। গত বছর বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সিরিজে পাকিস্তানকে হারানোর সময় তাকে খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করেছিলাম আমি।’

ক্রিকেটার মাশরাফির প্রশংসাতেও পঞ্চমুখ জিম্বাবুয়ের পক্ষে ৬৭ টেস্ট ও ২২১টি ওয়ানডে খেলা গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার। মাশরাফির অভিষেকের স্মৃতিচারণা করে তাঁর মন্তব্য, ‘প্রথম থেকেই তাকে দুর্দান্ত মনে হয়েছিল আমার। গতি আর মুভমেন্টসহ অসাধারণ ফাস্ট বোলার ছিল সে। কঠিন-প্রতিকূল কন্ডিশনেও মুর্তজা বল সুইং করাতে পারত। বাংলাদেশ থেকে এমন একজন বোলারকে উঠে আসতে দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। বাংলাদেশে ফাস্ট বোলারদের জন্য প্রতিকূল উইকেটেও সে বল মুভ করাতে পারত। আর সব কিছুর ওপরে, সে একজন সিংহ-হৃদয়ের মানুষ। আমি সবসময়ই তাকে আবেগভরা হৃদয় দিয়ে বল করতে দেখেছি।’