মেইন ম্যেনু

মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে গবিসাসের মানববন্ধন

ওমর ফারুক সোহান, নিজস্ব প্রতিবেদক: ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী একের পর এক মামলা করার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি(গবিসাস)। তারা বলেন, গণতন্ত্র ও মুক্তমতকে বাঁচাতে হলে সাংবাদিকদের হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।

মঙ্গলবার(২৩ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গবিসাসের ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মুর্ত্তজা আলী, গবিসাসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আসিফ আল আজাদ, উপদেষ্টা ওমর ফারুক সোহান, আবদুল্লাহ আল কাউসার, সভাপতি মাসুদ আজীম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী তারেকসহ সকল সদস্য ও সাভারে কর্মরত বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর প্রকৃতি দেখলে বুঝতে বাকি থাকে না যে, তাঁকে হয়রানি করার জন্যই সারা দেশে এসব মামলা করা হচ্ছে। অনেক জেলায় করা মামলার আরজি হুবহু একই। এ থেকেই বিষয়টির প্রমাণ মেলে।

বক্তারা আরও বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কার সঙ্গে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অপপ্রচার ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের ঘটনাগুলো লক্ষ্য করছি এবং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ২০০৭ সালের ১/১১-এর সময় রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক প্রেরিত কিছু সংবাদ যাচাই না করে ছাপার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করে যে বিরল পেশাগত মূল্যবোধের পরিচয় দিয়েছেন সেজন্য তাকে প্রশংসিত না করে নানাভাবে হেনস্থা করার এসব ঘটনা অনাকাংখিত, বেদনাদায়ক ও হতাশাব্যঞ্জক বলে আমরা মনে করছি। এটি ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের, এমনকি যে কোন মানুষকে স্বতস্ফূর্তভাবে ভুল স্বীকার করতে নিরুৎসাহিত করবে এবং সমাজে মিথ্যাচারকে প্রশ্রয় দেবে। আমরা অবিলম্বে মাহফুজ আনাম ও ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে সকল অপপ্রচার ও মিথ্যাচার বন্ধের এবং তার বিরুদ্ধে আনীত হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, ডেইলি স্টার সম্পাদকের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ৫৪টি মানহানির মামলা এবং ১৫টি রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের মামলা হয়েছে।

মামলাগুলোর বাদী ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ-সহযোগী ও সমমনা সংগঠনের নেতা ও সরকারি কৌঁসুলিরা। এসব মামলায় মানহানি, রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির পাশাপাশি রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে।

৪ ফেব্রুয়ারি রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে এক-এগারোর সময় সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের বিচ্যুতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাহফুজ আনাম তাঁর পত্রিকায়ও এমন ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছিল বলে স্বীকার করেন। পরদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তাঁর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় নিজের ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে ডেইলি স্টার সম্পাদকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলে বিচার চান। এক দিন পর ৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে কয়েকজন সাংসদ ডেইলি স্টার বন্ধ করা এবং মাহফুজ আনামের পদত্যাগ ও বিচার দাবি করেন। এর পরদিন থেকেই মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে।