মেইন ম্যেনু

মাহে রমজানে ‘দশ দিনের ইতিকাফ’

মাহে রমজানে মাগফেরাতের দশ দিনের শেষ দিন আজ। আগামীকাল থেকে শুরু হবে শেষ দশক তথা নাজাতের দিনগুলি। একইসঙ্গে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা শুরু করবেন রমজানের বিশেষ বরকতময় এবাদত ‘দশদিনের ইতিকাফ’।

ইতিকাফ হচ্ছে রাসুল (সা.) এর সুন্নত। এটি মহানবীর (সা.) বেশি পছন্দনীয় কাজ। তাই মুসলমানদের জীবনে অন্তত: একবারও হলেও ইতিকাফ থাকা উচিত।

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিয়ত করে মাহে রমজানের শেষ দশদিন মসজিদে অবস্থান করাই হলো ইতিকাফ। চাইলে যে কেউ পুরো মাস ইতিকাফ করতে পারেন।

তবে মহানবী (সা.) রমজানের শেষ দশদিনের ইতিকাফকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ, শেষ দশদিনেই আছে শবে কদর। ভাগ্য রজনী খুঁজতে গিয়ে তিনি একবার পুরো মাস ইতিকাফ করেছিলেন। রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.) নিয়মিত প্রতি রমজান মাসের শেষ দশদিনে ইতিকাফ করতেন। আর রাসুল (সা.) এর এই সুন্নতকে জাগ্রত রাখার জন্য উম্মুল মুমেনীনরাও ইতিকাফ করতেন।

উম্মুল মুমেনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানুল মোবারকের শেষ দশদিন ইতিকাফ করতেন। হুজুরের অনুসরণে তাঁর বিবিগণও ইতিকাফ করতে থাকেন। (সহিহ বুখারী)।

একদা রাসুলে করিম (সা.) শবে কদর তালাশ করতে গিয়ে পুরো রমজান মাস ইতিকাফ করেছিলেন। কিন্তু গুরুত্ব দিয়েছিলেন শেষ দশদিনকেই।

হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) পহেলা রমজান থেকে বিশ রমজান পর্যন্ত ইতিকাফ করার পর এরশাদ করেন, ‘আমি শবে কদর তালাশ করতে গিয়ে রমজানের প্রথম দশদিন ইতিকাফ করলাম। তারপর মধ্যবর্তী দশদিন ইতিকাফ করেছি। অত:পর আমাকে বলা হলো, শবে কদর শেষ দশদিনে হয়েছে। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার (রাসুলের) সঙ্গে ইতিকাফ করতে চাও করে নাও। (সহিহ মুসলিম)।

মহানবী (সা.) পুরো মাস ইতিকাফ করলেও মূলত: এই হাদিসে শেষ দশদিনে ইতিকাফ করার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।

ইতিকাফ শুধু আমাদের প্রিয় নবী (সা.) করেছেন তাই নয়। তার পূর্ববর্তী নবীগণ ও তাঁদের উম্মতদের মধ্যেও এর প্রচলন ছিল। ইতিকাফ আসলে নতুন নয় বরং পুরাতন এবাদত।
মহান আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন, ‘আমি তাগিদ করেছি ইব্রাহীম ও ইসমাঈলকে– আমার ঘরকে পবিত্র করো- তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী, রুকুকারী ও সেজদাকারীদের জন্য।’ (সুরা বাকারা, আয়াত-১২৫)।

ইতিকাফ- এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ধর্ণা দেওয়া। মূলত: ইতিকাফকারী মহান আল্লাহ তা’আলার দরবারে তাঁরই এবাদত করার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে ধর্ণা দিয়ে মসজিদে পড়ে থাকেন। বান্দার দৃষ্টি থাকে যেকোনো ভাবেই হোক প্রতিপালক যেন তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান।

ইতিকাফকারীর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে হযরত আতা খোরাসানী (রা.) বলেন, ইতিকাফকারীর উদাহরণ ওই ব্যক্তির মতো, যে আল্লাহ তা’আলার দরজায় এসে পড়েছে আর এ কথা বলছে, ‘হে আল্লাহ! যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি আমাকে ক্ষমা করবে না ততক্ষণ পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়বো না। (শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খণ্ড)।

ইতিকাফের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে প্রসিদ্ধ ফতোয়াগ্রন্থ ফতোয়ায়ে আলমগীরীর প্রথম খণ্ডে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ’র সন্তুষ্টির নিয়তে মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে। এর জন্য জনাবত (নাপাকি, যার কারণে গোসল ফরজ), হায়েজ ও নিফাস থেকে পবিত্র হওয়া পূর্বশর্ত। তবে বালেগ হওয়া পূর্বশর্ত নয় বরং নাবালেগও, যে বোধশক্তি রাখে, যদি ইতিকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করে তাহলে সেই ইতিকাফ শুদ্ধ হবে।’

ইতিকাফের নিয়্যত করবেন এভাবে- ‘আমি আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির জন্য রমজানুল মোবারকের শেষ দশদিন সূন্নত ইতিকাফের নিয়ত করছি।’

মনে রাখতে হবে, রমজানের বিশ তারিখে সূর্য্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে মসজিদে ইতিকাফের নিয়ত সহকারে ‍উপস্থিত হতে হবে। আর ২৯ রমজান সূর্যাস্তের পর মসজিদ থেকে বের হতে হবে।

মহান আল্লাহ আমাদেরকে পবিত্র রমজানুল মোবারকে ইতিকাফ করে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তওফিক দিন … আমীন।