মেইন ম্যেনু

মায়েরা দেহ বেচে, ওদের কুর্নিশ জানায় দেশ

ওদের একটাই পরিচয়, ওরা সোনাগাছির যৌনকর্মীদের সন্তান। আর পাঁচটা শিশুর মতো ওদের শৈশব নয়। ঘরে ঢুকে না সূর্যের আলো, তা আটকে যায় নোংরা পর্দার বেড়াজালে। তবে সেই পরিচয়টাকে চাপিয়ে নতুন পরিচয়ে পরিচিত হতে যাচ্ছে তারা। ওদের কৃতিত্বে আজ মাথা নত করে কুর্নিশ জানায় দেশের মানুষ।

ডেনমার্কে আয়োজিত ডানা কাপে ক্লাবে এসকে দলকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে নক আউট পর্বে পৌঁছে গেছে ওইসব শিশুদের নিয়ে গড়া দুর্বার স্পোর্টস অ্যাকাডেমি। শুরু থেকেই ম্যাচটা নিজেদের হাতেই রেখেছিল তারা। ৮ মিনিটের মাথায় প্রথম গোলের দরজা খুলে দেয় শোয়েব আনোয়ার মুন্সি। ১৯ মিনিটে দলকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেয় অভিজিত মান্না। ৩২ মিনিটের মাথায় আবার গোল করে শোয়েব। অবশেষে ৪০ মিনিটের মাথায় শেষ গোলটি করে উজ্জ্বল বাগ। চার গোল খেয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ডেনমার্কের ফুটবলাররা।

দুর্বার স্পোর্টস অ্যাকাডেমির কোচ বিশ্বজিত মজুমদার বলেছেন, ‘দলের ছেলেরা খুব ভালো পারফরম্যান্স করেছে। তবে বেশ কয়েকটা গোলের সুযোগও নষ্ট করেছে। তা নাহলে, স্কোরটা আরো বড় হতে পারতো। এটাই একটু চিন্তার বিষয়। তবে আমি ছেলেদের আত্মতুষ্টিতে ভুগতে বারণ করেছি। এটা শুধুমাত্র প্রথম পদক্ষেপ। আমরা শিরোপা জয়ের লক্ষ্যেই এগোতে চাই।’

আগামী ৩০ জুলাই ডানা কাপের ফাইনাল হবে। সোনাগাছির ১৬ জন ফুটবলারকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়ে খেলতে নিয়ে যাওয়া হয় সেই কাপে। ভারতীয় ফুটবল ইতিহাসে এটা যে মাইলফলক হয়ে থাকবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহই নেই।

২০১৩ সালে এই দুর্বার ফুটবল অ্যাকাডেমি গঠন করা হয়। উদ্দেশ্য একটাই, সোনাগাছির যৌনকর্মীর সন্তানদের আরো উজ্জ্বলতর ভবিষ্যত উপহার দেয়া। সে লক্ষ্যেই আপাতত এগোচ্ছে দুর্বার স্পোর্টস অ্যাকাডেমির এই ১৬ কিশোর।

এখন ফাইনালের দিকে তাকিয়ে আছে এই কিশোররা। কারণ যুদ্ধটা জয় করতেই হবে, তা ফুটবল মাঠেই হোক কিংবা জীবন সংগ্রামে। তারা আর অবহেলায় থাকতে চায় না, নিজের পরিচয়ে সমাজে চলতে চায় বুক ফুলিয়ে।