মেইন ম্যেনু

মায়ের দুধে আছে শিশুর বিকাশের সব উপাদান

মায়ের দুধে রয়েছে শিশুর দৈহিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সব উপাদান। সন্তান জন্মের পরে মায়ের বুকে যে দুধ আসে, তাকে বলে শাল দুধ। ডাক্তারি মতে, এ শাল দুধ হচ্ছে শিশুর প্রথম ভ্যাকসিন। এজন্য ডাক্তারি মতে, শিশুর জন্মের পর প্রথম পাঁচ মাস তাকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে এবং পরবর্তীতে শিশুর বয়স দু’বছর হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত অন্যান্য খাবারের সাথে তাকে বুকের দুধও দিতে হবে। তাহলে শিশুর দৈহিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত ও ত্বরান্বিত হবে।

মায়ের দুধে রয়েছে- শিশুর জন্য অত্যাবশ্যকীয় ও পরিমাণ মতো পানি ও চিনি। তাই অতিরিক্ত পানি ও চিনির প্রয়োজন নেই। মায়ের দুধ নিরাপদ। পবিত্র কোরআনেও শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য মাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মা কোনও রোগে আক্রান্ত হলেও তার বুকের দুধ থাকে জীবাণুমুক্ত। শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা দেয়া আছে মায়ের দুধে। তাই শিশু কোন অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হলে তাকে বেশি করে বুকের দুধ খাওয়ানো দরকার। অনেক মা শিশুর পাতল পায়খানা হলেই বুকের দুধের বদলে গুঁড়া দুধ খাওয়ানো শুরু করে দেন। এটি ভুল।

ডায়রিয়া হলে কোনো অবস্থাতেই বুকের দুধ থাকতে শিশুকে বাইরের দুধ দেয়া উচিত নয়। কারণ বাইরের গুঁড়া দুধের ডায়রিয়ার ব্যাক্টেরিয়া থাকতে পারে এবং তাতে শিশুর পাতলা পায়খানা আরো বেশি হতে পারে।

আজকাল মায়েদের বিশেষ করে শিক্ষিত মায়েদের মধ্যে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারে একটা অনীহা বা অনাগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। কৃত্রিম দুধপান করানোটাই যেন অনেকটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। এ ধরনের প্রবণতা ও ফ্যাশন পরিহার করতে হবে। মা ও শিশু- দু’জনের মঙ্গলের কথা ভেবে বুকের দুধ খাওয়াতে মায়েদের আগ্রহী হতে হবে। বুকের দুধ হোক মায়ের পক্ষ থেকে সন্তানের জন্য শ্রেষ্ঠ উপহার। অনেক মা অবশ্য কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত থাকার দরুণ শিশুকে বুকের দুধ পান করানোর সময়-সুযোগ পান না। তাদের কথা ভিন্ন। কিন্তু যাদের প্রচুর সুযোগ রয়েছে, তাদের এ সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। এ ব্যাপারে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও ব্যাপক প্রচারণা। কৃত্রিম দুধের পক্ষে যত প্রচারণা রয়েছে, মাতৃদুগ্ধের পক্ষে ততটা জমজমাট প্রচারণা কিন্তু নেই। এর কারণ, মাতৃদুগ্ধে পক্ষে কোন ব্যবসায়িক স্বার্থ নেই। কিন্তু রয়েছে সামাজিক স্বার্থ। সামাজিক স্বার্থেই মায়ের দুধের পক্ষে সচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। গণমাধ্যমগুলোকে সোচ্চার হতে হবে মায়ের দুগ্ধপানের পক্ষে। গুঁড়া দুধের বিজ্ঞাপনের সাথে মায়ের দুধের পক্ষে সংবিধিবদ্ধ সতর্কবাণী প্রচার করা যেতে পারে। এজন্য সরকার এবং ব্যবসায়ী মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। -বাসস