মেইন ম্যেনু

‘মায়ের প্রাণ নিল’ আইএস জঙ্গি

এ পর্যন্ত জঙ্গিদের বর্বরতার এমন জঘন্য ঘটনা আর শোনা যায়নি। তাদের বর্বরতার তালিকায় শেষ পর্যন্ত যুক্ত হলো শত শত মানুষের সামনে ‘নিজের মায়ের প্রাণ নেওয়ার ঘটনা।’

সম্প্রতি ইসলামিক স্টেটের (আইএস) এক জঙ্গি নিজ হাতে তার মাকে গুলি করে হত্যা করেছে। তার মায়ের অপরাধ ছিল, ছেলেকে আইএস ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। আর এজন্য আইএসের নির্দেশে জনসম্মুখে নিজের মায়ের মাথায় গুলি তাকে হত্যা করে তার জঙ্গিসন্তান।

সিরিয়ার রাকায় একটি পোস্ট অফিসের সামনে দিনের বেলায় আলী সাকর (২১) নামের আইএস জঙ্গি তার মা লিনা আল-কাসেমের (৪৫) মাথায় গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলে তিনি নিহত হন। কয়েক শত মানুষ এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী।

দুটি মানবাধিকার সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এবং রাকা ইজ বিয়িং স্লাটার সাইলেন্টলি গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

লিনা আল-কাসেম তার জঙ্গিসন্তান সাকরকে বোঝার চেষ্টা করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে আইএস পরাজিত হবে। তখন অবস্থা খুব খারাপ হবে। এ জন্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আইএস ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাওয়া তার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। সাকর তার মায়ের দেওয়া এই পরামর্শের কথা আইএস নেতাদের কাছে গিয়ে বলে। তখনই আইএস নেতারা নির্দেশ দেয়, নিজ হাতে তার মায়ের মৃত্যু কার্যকর করতে। নেতাদের নিদের্শমতো তার মায়ের কর্মস্থল রাকা পোস্ট অফিসের সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করে সাকর।

সিরিয়া ও ইরাকের বিশাল অংশ দখল করার পর রাকা শহরকে আইএস ফিখাফতের রাজধানী ঘোষণা করে জঙ্গি নেতারা। রাকায় আইএসের মূল ঘাঁটি।

ভিন্নমতের লোকদের একেবারেই পছন্দ করে না আইএস। তাদের আওতার মধ্যে যদি কেউ তাদের বিরোধিতা করে, তাহলে তাকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। শিরশ্ছেদ, গুলি, জবাই এবং অঙ্গচ্ছেদের মাধ্যমে শাস্তি কার্যকর করে আইএস জঙ্গিরা। ধর্মান্তর, ডাকিনিবিদ্যা, সমকামিতাসহ নানা অভিযোগে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ২০০ ব্যক্তিকে হত্যা করেছে আইএস।