মেইন ম্যেনু

মায়ের সঙ্গে ঈদ করা হলো না আকুঞ্জির

ফেরা হলো না মাতৃভূমিতে। আসছে ৩১ আগস্ট দেশে ফেরার কথা ছিল। কথা ছিল অসুস্থ বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে আগামী কোরবানির ঈদ করবেন।

নিয়তির নির্মমতা হলো তার জীবিত আসা হল না। আর মা এখনো জানেন না ছেলে আসবে না। এমনকি ছেলে যে ঘাতকের বুলেটে প্রাণ হারিয়েছেন তাও জানেন না বৃদ্ধ মা।

বলছিলাম গত শনিবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে দুর্বৃত্তের ‍গুলিতে নিহত মাওলানা আলাউদ্দিন আকুঞ্জির (৫৫) কথা। দু্র্বৃত্তের গুলিতে নিহত হওয়া দুই বাংলাদেশির একজন হবিগঞ্জের মাওলানা আলাউদ্দিন আকুঞ্জি।

আকুঞ্জির গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমুরোড গোছাপাড়ায়। থাকতেন হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকায়। তিনি মরহুম পীর মাওলানা শাহ শামসুদ্দিন আকুঞ্জির তৃতীয় সন্তান।

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পূর্বে তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জামে মসজিদে দীর্ঘদিন ইমামতি করেছেন। পরে হবিগঞ্জ চৌধুরী বাজার জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন। সেখান থেকে ২০১১ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিউইয়র্ক কুইন্সের ওজন পার্কের ফুরকান জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে যোগ দেন। শনিবার দুপুরে জোহরের নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন তিনি।

নিহতের ছেলে ফয়েজ উদ্দিন আকুঞ্জি বলেন, বাবা দেশে আসার কথা ছিল। এ আশায় পথ চেয়ে ছিলাম। জানি জীবিত আসা আর সম্ভব নয়। লাশ হয়ে আসবেন। এ আমাদের কাছে অতি কষ্টের।

তিনি জানান, তার দাদি আমিনা খাতুন (৭০) খুবই অসুস্থ। আসছে ৩১ আগস্ট তার বাবার বাড়িতে আসার কথা ছিল। মূলত মাকে দেখা এবং মায়ের সঙ্গে ঈদ করার কথা ছিল আলাউদ্দিন আকুঞ্জির। মা এখনো জানেন না তার ছেলে খুন হয়েছেন।

নিহতের ভাই হবিগঞ্জ টাউন মসজিদের ইমাম মাওলানা নাসির উদ্দিন আকুঞ্জি ও ছেলে ফয়েজ উদ্দিন এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে লাশ দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এদিকে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে শহরের বাসা ও গ্রামের বাড়িতে চলছে স্বজনদের আহাজারি। তারা নিহতের ছবিসহ নানা স্মৃতি নিয়ে বিলাপ করছেন।

দেশে থাকাকালে আলাউদ্দিন আকুঞ্জি আহলে সুন্নাত জামায়াতের নেতা ছিলেন। এ ছাড়া তিনি একজন প্রখ্যাত আলেম হিসেবে দেশের নানা স্থানে ওয়াজ মাহফিলে যোগ দিতেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিচিতরা তার বাসা ও বাড়িতে ভিড় করছেন। স্বজনদের সহমর্মিতা জানাচ্ছেন। বাসায় চলছে দোয়া মিলাদ। বাড়িতে দোয়া করানো হচ্ছে।

হবিগঞ্জের প্রাক্তন ছাত্রনেতা ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আবুল কালাম জানান, আলাউদ্দিন আকুঞ্জি একজন জঙ্গিবাদবিরোধী সুন্নি আলেম ছিলেন। তাকে সবাই ভালবাসত। তিনি অত্যন্ত সৎ ও নিরীহ মানুষ ছিলেন। তার জঙ্গিবাদবিরোধী মনোভাবের জন্যই দৃর্বুত্তরা তাকে হত্যা করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র হবিগঞ্জ জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নোমান বলেন, মাওলানা আলাউদ্দিনের মৃত্যুতে প্রবাসীদের মনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর প্রবাসীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

হবিগঞ্জ চৌধুরী বাজার জামে মসজিদের বর্তমান খতিব মাওলানা আব্দুল মজিদ বলেন, আলাউদ্দিন আকুঞ্জি বিদেশে থাকলেও এই মসজিদের মুসল্লিরা সব সময় স্মরণ করত তাকে। তার মৃত্যুতে এই মসজিদের মুসল্লিরা শোকাহত হয়েছেন।

আমুরোড জামে মসজিদের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান আজাদ বলেন, তাদের পরিবারের সবাই ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত এবং বিভিন্ন মসজিদের ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন। আলাউদ্দিন আকুঞ্জির মৃত্যুতে এলাকাবাসী শোকাহত।

রোববার বিকেলে র্যা ব-৯ এর একটি দল নিহতের পরিবারে গিয়ে খোঁজ খবর নেন। র্যা ব নিহতের স্বজনদের কাছে জানতে চায় আলাউদ্দিন আকুঞ্জির কোনো শত্রু ছিল কি না।

আকুঞ্জির মেয়ে জান্নাতুন নাঈম আকুঞ্জি ২০১১ সালে তাকে (আলাউদ্দিন) সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়।