মেইন ম্যেনু

মা আবারও বিয়ে করেছে, এটা আমি মেনে নিতে পারছিনা ॥ এখন কি করব?

আমি দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্রী। আমার বাবা আমাদের সাথে থাকেনা। বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন ১২ বছর হয়ে গেছে। কারন, বাবা ছিলো মুসলিম আর মা খ্রিষ্টান। এত বছর পর মা কাউকে না জানিয়ে বিয়ে করেছে। এই ব্যাপারটা আমি মেনে নিতে পারছিনা।

ঐ লোকটা মাঝেমধ্যে বাসায় আসে আর মায়ের সাথে থাকে। আমি রাতে ঘুমোতে পারিনা। মাকেও কিছু বলতে পারিনা। খুব কষ্টে আছি। মাঝেমধ্যে মাকে খুব ঘৃণা লাগে। দেখতে ইচ্ছে করেনা। বিয়ে করলে তো আগেই করতে পারতো। আমি এখন কী করবো?

পরামর্শঃ

“আপু, তোমার মনে অবস্থাটা আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু আসলে কি জানো, আমার মনে হয় মাকে তুমি ভুল বুঝছ। একটু অন্যভাবে চিন্তা করে দেখো, হয়তো আসল ব্যাপারটা বুঝতে পারবে।

ভিন্ন ধর্মে বিয়ে যখন, নিশ্চয়ই তোমার মা বাবা প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন? সেই বাবা যখন একটি সন্তান সহ মাকে ফেলে চলে গেলেন, তুমি কি আন্দাজ করতে পারছ যে মা কতটা কষ্ট পেয়েছেন? সমাজে একলা একটি মেয়ের সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকা খুব কষ্টের, তারপর যদি এমন ধর্মীয় জটিলতা থাকে তাহলে তো আরও অনেক বেশী। তুমি ভাবছ মা এতদিন পড় বিয়ে করে অন্যায় করেছেন। এমনও তো হতে পারে আপু যে মা তোমার কথা ভেবেই বিয়ে করেন নি, তোমার কথা ভেবেই নিজের সুখ বিসর্জন দিয়েছেন? এতগুলো বছর মা নিজের শারীরিক মানসিক সমস্ত চাহিদা দমিয়ে রেখেছেন তুমি ছোট বলে, তোমাকে বড় করতে হবে বলে। একবার ভেবে দেখেছ এটা কত বড় স্যাক্রিফাইস?

এখন তুমি বড় হয়েছ, মা ভেবেছেন যে তুমি এখন তাঁর কষ্ট বুঝবে। এই জন্যই তাঁরা হয়তো বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হয়তো তোমার কথা ভেবেই তাঁরা একত্রে সংসার করছেন না। একটা জিনিস মনে রেখো আপু, প্রতিটি মানুষের ভালোবাসা পাবার অধিকার আছে। তোমার মায়ের আছে। তোমার বাবার কথা ভেবে ১২ বছর তিনি একলা ছিলেন, কিন্তু আর কত? একদিন তোমার বিয়ে হয়ে যাবে, তুমি আরেকজনের স্ত্রী হবে, তোমার নিজের সংসার হবে। কখনো ভেবেছো মা কী নিয়ে বাঁচবেন? তাঁর সঙ্গে কে থাকবে?

তাঁর আমার পরামর্শ, মায়ের বিয়েটাকে সহজভাবে গ্রহন করো। মা নয়, তাঁকে একজন বন্ধু ভাবো। আর তিনি যে তোমার পিতার এমন আচরণের পরও তোমাকে বুকে আগলে মানুষ করেছেন, এটার জন্য কৃতজ্ঞ থাকো।”