মেইন ম্যেনু

মা, আমি জীবন দিতে চলেছি…

ভারতের পাঠানকোটে হামলার আগে পাকিস্তানে চারবার ফোন করেছিল হামলাকারী জঙ্গিরা। পরিবারের পাশাপাশি কথা হয় শীর্ষ জঙ্গিদের সঙ্গেও। গোয়েন্দা সূত্রে এমনটাই জানা গেছে। তদন্তে উঠে আসা একাধিক তথ্যে প্রশ্ন উঠেছে পাক সীমান্তঘেঁষা বিমান বাহিনীর ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, হামলার আগে অপহৃত গুরদাসপুরের এসপির ফোন থেকেই পাকিস্তানে হ্যান্ডলার ও বাড়িতে ফোন করে জঙ্গিরা। শুক্রবার মাঝরাতে সবকটি ফোনই গিয়েছিল পাকিস্তানের ভাওয়ালপুরে। নিজের মাকে এক জঙ্গি বলে- মা, আমি জীবন দিতে চলেছি। ফোনের ওপার থেকে বলা হয়- আগে খাও, তারপর যা করতে গিয়েছ, সেটা কর।

গোয়েন্দা সূত্রে আরো জানা যায়, ফোনে গতিবিধি জানিয়ে তিনবার পাক জঙ্গিদের সঙ্গে কথা বলে হামলাকারীরা। এক জঙ্গি বলে- আমরা প্রায় টার্গেটের কাছে পৌঁছে গেছি, আমরা এবার ঢুকছি। শেষ পর্যন্ত আমরা ঢুকে পড়েছি। প্রত্যুত্তরে জানানো হয়, খুব ভালো কথা, আগে পজিশন নাও, তারপর লক্ষ্যপূরণ কর।

এখানেই শেষ নয়। গোয়েন্দারা আরো জানিয়েছেন- গুরদাসপুরের এসপির গাড়ি অপহরণ করার আগে একটি প্রাইভেট ট্যাক্সিও ভাড়া করেছিল জঙ্গিরা। আর সেই টয়োটা ইনোভার গাড়িচালককে ডাকতে পাকিস্তানের ফোনটিই তারা ব্যবহার করেছিল। ওই চালককে ধরে ফেলেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে- সে প্রায়ই পাক চোরাচালানকারীদের এভাবে গাড়িতে ওঠায় না কি ভুলবশত পাকিস্তানের নম্বর চিনতে পারেনি সে? এ বিষয়ে বিস্তর তদন্তও চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পাঠানকোট যাওয়ার পথে গাড়িটি নষ্ট হয়ে গেলে তারা নেমে যায়। এরপরই জঙ্গিরা এসপির গাড়িতে হামলা চালায়।

বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে, আকাশপথে নজরদারিতে রাতেই জঙ্গিদের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। প্রথমেই প্রহরারত অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ানদের বিশেষ বাহিনী ডিএসসির চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে তারা। এরপরই শুরু হয় গুলি ও গ্রেনেড হামলা।

গোপন সূত্রে জানা যায়, পাঠানকোট সেনাঘাঁটিতেই রয়েছে কার্গিল যুদ্ধের ত্রাস মিগ-২৫ এবং মিগ-২১ যুদ্ধবিমানের বেস। যুদ্ধবিমানের অন্যতম বড় জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকও রয়েছে এখানে। যা উত্তর ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বড়। বিমান বাহিনীর এসব সম্পদকেই টার্গেট করেছিল জঙ্গিরা, অনুমান করছে ভারতীয় গোয়েন্দারা।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে ২৬/১১ হামলার সময়ও আগে মুম্বাই থেকে ফোন গিয়েছিল পাকিস্তানে। লস্কর-ঈ-তৈবার জঙ্গি ও পরিজনদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছিল আজমল কসাভরা। তারপর একের পর এক হত্যালীলা ঘটিয়েছিল তারা। কিন্তু এবার পঞ্জাবে সফল হলো না জয়েশ-এ-মহম্মদের পরিকল্পনা। বিমান বাহিনীর ‘প্রাণভোমরা’ পাঠানকোটে বড়সড় নাশকতার ছক রুখে দিয়েছে নিরাপত্তারক্ষীরা।