মেইন ম্যেনু

মা-ই ঘাতক, এটা আমি বিশ্বাস করি না

হত্যাকারীদের সঠিকভাবে বিচার না হওয়ার কারণে দেশে দিন দিন শিশু নির্যাতন ও হত্যা বেড়েই চলেছে। দ্রুত বিচার হলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না। এ মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান। একই সঙ্গে বনশ্রীতে দুই সন্তান হত্যায় মা নিজেই জড়িত ছিলেন এ কথা তিনি বিশ্বাস করেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জহির রায়হান মিলনায়তনে ‘লোক প্রশাসন বিভাগের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গভর্ন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. মিজান এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, শিশু নির্যাতন ও হত্যাকারী প্রকৃত অপরাধীদের সঠিকভাবে বিচার করা হচ্ছে না। রাষ্ট্র যদি শিশু হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার করতো, তাহলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বারবার সংগঠিত হতো না। সরকারের উচিত সকল শিশু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে বিচারের আওতায় আনা।

তিনি সম্প্রতি রাজধানীর বনশ্রীতে মা তার দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনা প্রসঙ্গে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটা আমি কোনোভাবেই বিশ্বাস করি না। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। সরকারের উচিত এর রহস্য উদঘাটনে বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানো। সকল শিশু হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার করে রায় দেয়া তা না হলে শিশু হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে না।’

বিভাগীয় সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য শরীফ এনামুর কবির, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মু. আবু কাশেম মজুমদার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আমির হোসেন প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেলে বনশ্রীর ৪ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাসায় দুই ভাই-বোন সিদ্ধেশ্বরীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান অরণি (১৪) ও হলি ক্রিসেন্ট স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী আলভি আমানের (৬) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে জানানো হয় তারা রেস্টুরেন্ট থেকে আনা খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায়। কিন্তু র‌্যাব পরবর্তীতে মা মাহফুজা মালেককে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেই হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে। শনিবার পুলিশও একই কথা বলেছে। তবে এর সঙ্গে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।